নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জসমূহ
বর্তমান সরকার শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে। শিক্ষা হবে বিশ্বমানের এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে। প্রায় চার লাখ শিক্ষককে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে নতুন বই দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষা হবে আনন্দময় এই ধারণা নিয়ে এই শিক্ষাক্রম শুরু করা হয়েছে। পরীক্ষার ধরনেরও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও এর অধীন অফিসগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা ও সমাধান করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
চ্যালেঞ্জসমূহ
১) শিক্ষক- শিক্ষার্থী- অভিভাবকদের মাঝে নতুন শিক্ষাক্রমের ধারণা এবং এর গুরুত্ব সঠিকভাবে
তুলে ধরা যাতে সবাই সহজেই এটা গ্রহণ করেন।
২) সকলের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৩) শিক্ষকপ্রশিক্ষণের মান আরো উন্নত করতে হবে। সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
৪) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
৫) শিক্ষায় বৈষম্য কমাতে হবে।
৬) শিক্ষকের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
৭) শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য মিডডে মিলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমান সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১০) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে।
১১) শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
১২) শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীসংখ্যা ৩০/৪০ এর মধ্যে রাখতে হবে।
১৩) মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৪) জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।
উল্লেখিত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে পারলে শিক্ষার নতুন যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ, আমি আশা করছি।
যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এই প্রত্যাশা সকলের। এই শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
গতানুগতিক পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়াই এই শিক্ষাক্রমের মূল লক্ষ্য।