সহকারী শিক্ষক
১৮ জুলাই, ২০২৩ ০৩:২৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শহরের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে ১৫ গ্রামে
‘আমার গ্রাম আমার শহর’ পাইলট প্রকল্প।
শহরের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে দেশের ১৫টি গ্রামে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা, সুপেয় পানি এবং নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে এসব গ্রামে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, বাজার অবকাঠামো এবং সড়ক যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংকিং সুবিধা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং কৃষির আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
‘আমার গ্রাম আমার শহর: পাইলট গ্রাম উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
একনেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর সম্ভাব্য ব্যয় ৮০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে প্রকল্পটি।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এ প্রকল্পটির পাইলট কার্যক্রম শেষ হলে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। শহরের মতো নাগরিক সুবিধা গ্রামে পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন বলেছে, এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৫টি গ্রামে শহরের আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের সব গ্রামকে শহরের আধুনিক নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে। প্রকল্পটি ২০৪১ সালের মধ্যে সরকারের ভিশন-২০৪১ অনুযায়ী উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছ। ১৫টি জেলার ১৫ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে নির্বাচন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সড়ক উন্নয়নে সেতু, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ, গ্রোথ সেন্টার হিসেবে গ্রামীন হাটবাজার উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র নির্মাণ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ, উপজেলা বহুমুখী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ উন্নয়ন, গ্রামীণ আবাসন উন্নয়ন, খাল এবং পুকুর খনন, সড়কবাতি স্থাপন, বন্ধু চুলা সরবরাহ ও বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন ও গ্রাম উন্নয়ন ব্র্যান্ডিং।