Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৭ জুলাই, ২০২৩ ০৬:১৭ অপরাহ্ণ

শিক্ষাক্রমেও ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা’

২০০৮ সালে ‘দিনবদলের সনদ’, ২০১৪ সালের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ আর গেল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের শিরোনাম ছিল ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’।

প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থান, গত ১০ বছরের অর্জন এবং আগামী দিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ধরে সাজানো এই ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। এই বিশেষ অঙ্গীকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। এখন সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় বই বিনামূল্যে বিতরণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কয়েকটি ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতি বছর দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩৬ হাজার ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে।

এছাড়া প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চলমান শিক্ষাক্রমের ভুলত্রুটি সংশোধন, আন্তর্জাতিক মান ও সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে এ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষাক্রম পাল্টে গেলে স্বাভাবিকভাবে বইও বদলে যাবে। তবে একসঙ্গে সব শ্রেণিতে নতুন বই প্রবর্তন করা হবে না। ২০২১ সালে প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০২২ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম, নবম ও একাদশ শ্রেণি এবং ২০২৩ সালে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন শিক্ষাক্রমের বই। কর্মপরিকল্পনায় দেখা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিমূলক শিক্ষা প্রশাসন তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও অভিযোগ তদন্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিবেদন পাঠানো হবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে।

জানা গেছে, শিক্ষা খাতে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসেনের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। সভায় শিক্ষা খাতের সব বিভাগকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়। আগামী ৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত আরো একটি সভায় সব কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যালয় তদন্ত ও পরিদর্শনে ডিআইএ একটি অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম সহজীকরণসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য ডিআইএর জনবল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৫ জন কর্মকর্তার নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ডিআইএর কর্মকর্তা ও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক শিক্ষা প্রশাসন তৈরিতে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে প্রতি বছর দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হবে। এ জন্য ডিআইএতে জনবল বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কর্মপরিকল্পনাটি অনুমোদন করলে আগামী বছর তা বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্র জানায়, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই প্রণয়নে ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), রূপকল্প-২০৪১, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহার বিবেচনায় আনা হচ্ছে। অন্য দেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষাক্রমগুলোও এবার বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এনসিটিবির এক সদস্য (মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম) জানান, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর এখন বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে প্রথমে নিড অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। এ লক্ষ্যে দেশের ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরই মধ্যে দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের ১৮টি জেলার ৩৬টি উপজেলার ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য এখন বিশ্লেষণ করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রসর, অনগ্রসর, দুর্গম অঞ্চলসহ সব বিবেচনায় আনা হয়েছে।

এনসিটিবির বক্তব্য, বিশ্বে প্রতি পাঁচ থেকে ছয় বছর পর পর শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের রেওয়াজ আছে। তারই অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে।

বাধ্যতামূলক হচ্ছে বৃত্তিমূলক শিক্ষা : ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক ভোকেশনাল (বৃত্তিমূলক) শিক্ষা চালু হতে যাচ্ছে দেশে। হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থী গ্রহণ করবে এই প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীকেও নিতে হবে এই শিক্ষা।

পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তারে নতুন করে আরো ৬৪০টি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা খোলা হবে। বর্তমানে ১ হাজার ৯৯৩টি প্রতিষ্ঠানে এই শাখা চালু আছে। মাধ্যমিকে ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষা দেক ভর্তি পরীক্ষা নিতে ইউজিসির কমিটি

মন্তব্য করুন