Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৩ ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ

উদ্ভাবনী গল্প- ৪, Lessontracer, Innovation 4

শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার, এডমিন, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা, সেরা উদ্ভাবক, সেরা নেতৃত্ব, বাতায়নের সকল শিক্ষক - শিক্ষিকা ও আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডর আমার আপলোডকৃত উদ্ভাবনী গল্প দেখে লাইক, গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি ।

আমার উদ্ভাবনী গল্পে সবাইকে স্বাগত

আমার উদ্ভাবনী গল্প - ৪ এ সবাইকে স্বাগত। আমার উদ্ভাবনী গল্প -৪ এর নাম “Lessontracer" ।

"পূর্ববর্তী পড়া নিয়ে নাও, পড়াশোনায় এগিয়ে যাও" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আমি “Lessontracer" নামক উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি। শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য লাভের পথে বুনিয়াদি কাজগুলোর পাশাপাশি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রতিদিন স্কুলে আসা। গবেষণায় দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার সম্ভবত তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে থাকে। নিয়মিত স্কুলে প্রস্তুতির ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের পাঠ ও এসাইনমেন্টের সাথে সমানতালে অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো কারণে উপস্থিত থাকতে পারেনা। ফলে তারা পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়ে। ভাইরাস জনিত জ্বর, সর্দি-কাশি, বসন্ত, হাম, এলার্জি, হাত ভাঙ্গা, পা ভাঙা এরকম নানা কারণে পারগ এবং অপারগ শিক্ষার্থীরা প্রায় সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে।

এতে করে বিভিন্ন মূল্যায়নে  শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক প্রায় সময় পূর্ববর্তী পড়া নিতে সক্ষম হন না। এক-দুই দিনের পড়া মুঠোফোনের মাধ্যমে নেয়া সম্ভব কিন্তু সপ্তাহের ছয়টি বিষয়ের পড়া-নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। 

এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। তাই আমি আমার চতুর্থ উদ্ভাবনী গল্পটি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে কাজে লাগাই। 

প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে পাঁচ দিনের পাঁচটি ফাইল তৈরি করি। প্রতিটি ফাইলে প্রতিটি সপ্তাহের নাম লিখা রয়েছে। আমি ফাইলগুলো যেন হারিয়ে বা নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য দেয়ালে এঁটে  দেই। এবং শিক্ষার্থীদের নজরে যেন সবসময়ে থাকে সেজন্য বিভিন্ন রং ব্যবহার করি এবং ফাইগুলোর নিচে “We missed you" কথাটি লিখে দেই- যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে, সে বিদ্যালয়ে না আসাতে আমরা তাকে যথেষ্ট রকম অনুভব করেছি। 

আমরা প্রতিটি শিক্ষক শ্রেণী পাঠদান শেষে, প্রতিদিনের ক্লাসের পড়াটা ফোল্ডিং করে ফাইলে রেখে দেই।

এরপর আমার অনুপস্থিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে প্রয়োজন মত শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে পূর্ববর্তী দিনের পড়াটা খুব সহজেই লিখে নিতে পারে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের lesson সমূহ trace করতে পারবে।

এই আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করার পর আমি আমার শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করেছি।

এতে তারা তাদের পিছনের পড়া গুলো পড়ে নিতে পেরেছে এবং বিভিন্ন মূল্যায়নে তারা তাদের ভালো নাম্বার অর্জন করতে পেরেছে।

সুবিধা সমূহ:

১। শিক্ষার্থীরা পড়ায় পিছিয়ে পড়বে না।

২ । একাধিক ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে হোমওয়ার্ক জানা থেকে বঞ্চিত হবে না।

৩। অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পরবর্তী দিনের শ্রেণী কক্ষ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্ভব হবে।

৪। অসুস্থ বা পারিবারিক কারণে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে না।

৩। অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পরবর্তী দিনের শ্রেণী কক্ষ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্ভব হবে।

৪। অসুস্থ বা পারিবারিক কারণে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে না।

৫। পিছিয়ে পড়ার ভয় থেকে ভীত হয়ে শিক্ষার্থীরা মনোবল হারিয়ে ফেলবে না।

৬। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

 সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন