সহকারী শিক্ষক
০৫ জুলাই, ২০২৩ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষার বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীর কাছে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করতে হলে শিক্ষকের হাতে পাঠসহায়ক কিছু উপকরণ থাকা আবশ্যক। পাঠ সহায়ক উপকরণের সহায়তায় বেশ জটিল বিষয়কেও সহজে শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলা যায়।
একজন পেশাজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শিক্ষকের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অঙ্গ হিসেবে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহ, তৈরি, ব্যবহারে নৈপুণ্য লাভের সুযোগ থাকতে হবে।
শিক্ষা উপকরণ কী :
শিখন- শেখানো অর্থাৎ শিক্ষা দেয়া ও নেয়ার কাজে যে সমস্ত বস্তু বা সামগ্রী অবদান রাখতে পারে সেগুলোকে শিক্ষা উপকরণ বা শিক্ষা সামগ্রী বলা হয়। শিক্ষা উপকরণের সবচেয়ে পরিচিত ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক পুস্তক ইত্যাদি। এছাড়াও শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে শ্রেণীকক্ষে সাধারণভাবে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন- ব্লাকবোর্ড, চক, মার্কার কলম, ফ্লানেল বোর্ড ইত্যাদি। এই দুই শ্রেণীর উপকরণকে আমরা সাধারণ শিক্ষা উপকরণ বলতে পারি। এগুলো ছাড়া যে সমস্ত উপকরণ পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে বিশেষ অবদান রাখতে পারে অর্থাৎ যে সমস্ত উপকরণ পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাজকে বিশেষভাবে সহায়তা করে বলে এগুলোকে বিশেষ ধরনের শিক্ষা উপকরণ বলা যায়। এগুলোকে সাধারণত ‘শিক্ষা সহায়ক উপকরণ’ নামে অভিহিত করা হয়। যে সমস্ত উপকরণের সাহায্যে পাঠ্য বিষয়কে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য করে তোলা যায়, তাকে পাঠ সহায়ক উপকরণ বলে। অর্থাৎ শিখন-শেখানোর কাজ আনন্দদায়ক, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করার জন্য যে সমস্ত উপকরণ ব্যবহৃত হয়, এককথায় শিখন- শেখানোর কাজে বিশেষভাবে সহায়ক হয়, এরকম উপকরণকে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ বলে।
শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদ :
শিক্ষা সহায়ক উপকরণের মধ্যে শ্রবণ ও দর্শনমূলক উপকরণাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শ্রবণ দর্শন সহায়ক উপকরণ বলতে এমন ধরনের পাঠ সহায়ক উপকরণসমূহকে বোঝায়, যার কোনটি দর্শনযোগ্য, কোনটি শ্রবণযোগ্য এবং কোনটি একই সাথে দর্শন ও শ্রবণযোগ্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ সহায়ক উপকরণকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা চলে। যথা-
১. দৃশ্য উপকরণ: যেমন, পোষ্টার পেপার, ভিপ কার্ড, গাছ পালার অংশ বিশেষ, ফল ফুল ইত্যাদি।
২. শ্রব্য উপকরণ : যেমন, রেডিও, টেপরেকর্ডার, গ্রামোফোন, ল্যাংগুয়েজ ল্যাব ইত্যাদি
৩. দৃশ্য-শ্রব্য উপকরণ : যেমন, টেলিভিশন, সিনেমা, কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ইত্যাদি।