দিনাজপুরের
প্রাচীনতম ঐতিহাসিক নিদর্শন "কান্তজিঊ মন্দির" (১৭০৪-১৭৫২) থেকে এক
কি:কি:মি: দূরেই একই সময়ে তৎকালীন মহারাজা প্রাণনাথ এর সার্বিক সহযোগীতায়
একটা ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।যা "নয়াবাদ মসজিদ "নামে
পরিচিত।মন্দিরটির নির্মাণ কারিগর বা মিস্ত্রিরা ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত
ধর্মপ্রাণ মুসলমান।মন্দির নির্মাণ কালীন প্রথমে তাঁরা সেখানেই মুক্ত
আকাশের নীচে,খোলা মাঠে নামাজ আদায় করতেন,পরবর্তীতে নয়াবাদ (মিস্ত্রীপাড়া)
গ্রামে মহাকালের স্বাক্ষী ,ইসলামী টেরাকোটায় শোভিত প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ
এই মসজিদটি তৈরী করেন।মন্দির এবং মসজিদ নির্মাণ শেষে প্রায় সকলেই শেকড়ের
টানে দেশে ফিরে যান।হেডমিস্ত্রি নিয়াজ বা নেয়াজ (ডাকনাম কালুয়া) এবং তাঁর
ভাই এ মাটির সবকিছুকে ভালবেসে মহারাজার অনুদানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে
চাষাবাদের মাধ্যমে এ গ্রামেই স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান।পবিত্র মসজিদ চত্বরে
বেশ কয়েকটি কবরের মধ্যে দৃশ্যমান কবরটি হলো প্রধান কারিগর কালুয়ার
কবর।তাঁরা পেশাগত কারণে বা দায়িত্বকে মহান কর্ম মনে করে যে দুটো হাত দিয়ে
"কান্তজিঊ মন্দির" নির্মাণ যেভাবে করেছেন,ঠিক সেভাবেই আবার সেই দুটো হাত
দিয়েই নিজ ধর্ম পালনের জন্য "নয়াবাদ মসজিদ" নির্মাণ করেছেন।চির শান্তিতে
ঘুমিয়ে থাকা অতি সাধারণ মানুষগুলোর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ,সালাম ও স্যালুট
জানাই।