Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৪ জুলাই, ২০২৩ ০৫:২১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার বই আছে পাঠক নেই।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে যাওয়া আমার এক প্রকারের নেশা ছিল। প্রথম বর্ষে রেজাল্ট ভালো করার জন্য একাডেমিক বিভিন্ন বই পড়তে প্রায়ই যেতাম। মাঝে করোনার ধাক্কায় একটা বছর কেটে গেল। পদার্পণ করলাম তৃতীয় বর্ষে। জীবনের তাগিদে এখন চাকরি রিলেটেড ও বিসিএসের বই পড়তে হয় আমার। কিন্তু আমাদের গ্রন্থাগারে বিসিএস কিংবা বাইরের কোনো বই নিয়ে যাওয়া যায় না। এ কারণে এখন আমি গ্রন্থাগারে যাই না বললেই চলে।’ নিলয় অপু নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী চবির গ্রন্থাগারে না যাওয়ার কারণ এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন।

পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ বেষ্টিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় এটি। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর এ ক্যাম্পাসে রয়েছে মণি মুক্তাখচিত আধুনিক গ্রন্থাগার। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর মাত্র শ তিনেক বই নিয়ে এটির যাত্রা শুরু হয়। এখন বাংলা, আরবি, সংস্কৃত, পালি, ইংরেজি, ফার্সি ও উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় রচিত প্রায় ৩ লাখ বই রয়েছে এখানে। কিন্তু এরপরও কেন শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার বিমুখ?

বেশ কিছু কারণ রয়েছে এর। আর তা হলো শিক্ষার্থীদের বই যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ নেই, বইয়ের লেখকের নাম জেনে নিতে হয়, বাইরের কোনো বই নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না, গ্রন্থাগার থেকে বই বাসায় নেওয়া যায় না, বইয়ের কোড নম্বর লিখে বই নিতে হয়, যেখানে অনেক সময় ডেক্সটপ নষ্ট হয়ে থাকে, গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকা, বই খুঁজতে কর্মচারীদের দীর্ঘ সময় লাগা, ভেতরে কর্মচারীদের অনিয়ম ইত্যাদি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক দিল রুকসানা বসুনীয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের বই খোঁজার জন্য সাইবার সেন্টারে ১০টি কম্পিউটার রয়েছে। তবে চাপের কারণে হয়তো দুই একটা নষ্ট হতে পারে। কিন্তু এতে শিক্ষার্থীদের বই খুঁজতে খুব বেশি একটা সমস্যা হয় না। আমরা এরই মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ করে দিয়েছি, যার মাধ্যমে ওপেক অ্যাপস ব্যবহার করে তারা সহজেই বই খুঁজতে পারবে। কর্মচারীদের নিয়ম-কানুন পালন করার ব্যাপারে যথেষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা যদি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্যারিয়ার গঠনের জন্য বিভিন্ন বই কেনার উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাজেশন অনুযায়ী জব রিলেটেড বই কিনবো। এতে তাদের বাইরে থেকে বই কেনার আর কোনো প্রয়োজন হবে না।’

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা কায়সার রাত্রি বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগার আধুনিক ও মানসম্মত না, এখানে নিয়ম কানুনগুলো ঠিকমতো পালন করা হয় না। কর্মচারীদের কাণ্ডজ্ঞান নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভেতরে লাইট, ফ্যানের ব্যবস্থা নেই, অস্বাভাবিক রকমের গরম থাকে তখন। এসব কারণে আমি এখন পড়তে যাই না।’

পালি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগারে বইয়ের বৈচিত্র্যতা নেই, একঘেয়েমি দূর করার জন্য চাইলেই নতুন বই নিতে পারি না। এখানে সব ধরনের লেখকের বই খুঁজে পাওয়া যায় না।’

মন্তব্য করুন