সহকারী শিক্ষক
০৯ জুন, ২০২৩ ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পলিথিনঃ
আমারা যাকে পলিথিন হিসাবে ব্যপকভাবে ব্যবহার করছি, তা ইথিলিন থেকে তৈরি হয় যা মুলত একটি জ্বালানী । গানিতিক হিসাবে পলিথিন পচতে ৪৫০ বছর লাগে। তার মানে ১৮৯৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ হেন্স ভন পেকম্যান প্রথম যে পলিথিন তৈরি করেছিলেন তা এখনো এই ধরণীতে জীবিত আছে! তাই আমি আপনি যেই পলিথিন প্রতিদিন ব্যবহার করে ফেলে দিচ্ছি তা এই ধরণীতে যদি মানুষ বেঁচে থাকে তাহলে ৪৫০ বছর পরে পচবে। এই ফাকে আমাদের নদিনালা খাল বিল পলিথিনের নিচে চাপা পরে যাবে। এতে জলজ সকল উদ্ভিদ, মাছ এবং অন্যন্য প্রানিকুল বিদায় নিবে নিশ্চিত এবং নতুন ধরনের প্রানি এর স্থালাভিসিক্ত হবে যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্যান্সার সহ নানা জটিল রোগে তৈরি করবে। উন্নত দেশগুলোতে পলিথিন ব্যবহারে তাই ট্যাক্স দিতে হয় যেন এই টাকা দিয়ে পলিথিন রিসাইকেল করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে? কেউ খমতায় যায় কেউ বিদায় নেয় কিন্তু কেউই এই বিষয়ে কিছুই করছে না, এমনকি আমারা ব্যবহারকারীরাও কিছুই ভাবছি না। সবার ভাবনা এমন যে আমিতো বেঁচে গেলাম! অথবা বিদেশে পারি দিয়ে রক্ষা পাব! এই যে চারিদিকে মেয়র ভোট হচ্ছে আমি একজনকেও দেখলাম না যে পলিথিন মুক্ত নগর গড়তে অঙ্গিকার করতে। আমাদের সবারই উচিৎ এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া।
আমাদের দেশে প্রতদিন যে পরিমানে পলিথিন ব্যবহার হয় তার পরিসংখ্যান আছে বলে জানা নেই। কিন্তু অনুমান করা যায়। দেশে জ্বালানী সংকট থাকলেও পলিথিনের সংকট নেই। তার মানে দেশে পর্যাপ্ত ইথিলিন এর মজুত আছে। আমরা যদি পাটের ব্যাগ ব্যবহার করি আর পলিথিন তৈরির ইথিলিন যদি বিদ্যুৎ তৈরির জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে দেশের লোডশেডিং কমবে এবং ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাব, কৃষক লাভবান হবে, দেশের টাকা বেঁচে যাবে। আর যদি আমরা কিছুই না করতে পারি তাহলে ইয়াজুজ মাযুজ আসার অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের ললাটে আর কোন ভালো কিছুই নেই!