সামনে আসছে আমের মৌসুম। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, নানা রকম গুণের জন্যও আম অনায়াসে যেকোনো ফলকে টেক্কা দিতে পারে!
কাঁচা
হোক বা পাকা, সব রকমের আম খেয়েই বাঙালি তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। কাঁচা আম
দিয়ে ভর্তা, আমতেল, আমের ডাল, আমের আচারসহ আরও কত বাহারি রকমের খাবার
বাঙালি খেয়ে থাকে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আর পাকা আম পেলে তো কথাই নেই।
তবে
মৌসুমে অতিরিক্তে আম খেয়ে অনেকেই থাকেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। পরিমিত পরিমাণে
আম খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। কিন্তু আপনি কি জাননে, অতিরিক্ত আম খেলে কী
হতে পারে?১. আমে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি ও ফাইবার। যা রক্তে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাই পরিমাণ বুঝে আম খেতে হয়।
২. আমে এমন কিছু উপকারি উৎসেচক রয়েছে যা আমাদের শরীরের অণুগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৩. ত্বকের যত্নেও আম খুবই উপকারী। আমের থাকা ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আম চোখের জন্যও অনেক উপকারী।
৪.
মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’- এর প্রায় পঁচিশ শতাংশের জোগান দিতে
পারে আম। ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুবই উপকারী। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও
সাহায্য করে আম। এ ছাড়াও আমে রয়েছে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনয়েডস,
যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৫.
আমে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড। এসব
এসিড শরীরে অ্যালক্যালি বা ক্ষার ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও আমে থাকা
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। যারা অপুষ্টিজনিত
সমস্যায় ভোগেন, তারাও প্রতিদিন একটা করে আম খেতে পারেন। শরীরে শক্তি
জোগাতেও আমের জুড়ি মেলা ভার।
অনেকে
মনে করেন আম খেলেই মোটা হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, যারা ওজন কমানোর
জন্য ডায়েট করছেন, তাদের প্রতিদিনের ডায়েটে আম রাখলে চলবে না। আমে
ক্যালোরির মাত্রা বেশি থাকে যা ওজনকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে প্রতিদিন না খেয়ে মাঝে মাঝে আম খেলে তা ওজনকে বাড়িয়ে দেয় না বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।