ডায়বেটিসের সাথে আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত। এ রোগে
ভুক্তভোগীদের সব সময় একটা ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে চলতে হয়। মাহে রমজানের
এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেকে বিশুদ্ধ করা প্রয়াস থাকে সকল
মুসলিমের অন্তরে । সাধারণত রমজানের সময় সেহেরির পর দীর্ঘ সময় পার করে
ইফতারের মাধ্যমে রোজার নিয়ম মেনে নিতে হয়।
ডায়বেটিস
এক ধরনের মেটাবলিক ডিজ অরডার। এ ক্ষেত্রে শরীর পরযাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন ও
তা ব্যবহার করতে পারে না। অনেকের ক্ষেত্রে ইনসুলিন একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।
শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না অথবা এটা ঠিক মতো কাজ করে না তখন
ডায়বেটিস হয়। এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে। যে কোন ব্যক্তিই
ডায়বেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। যারা এই বিপাকজনিত রোগে আক্রান্ত তাদের
সুস্থতার জন্য ধরাবাঁধা খাদ্য গ্রহণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতারের জন্য নির্বাচন করতে হবে:
* একটি খেজুর। টক মিষ্টি ফলের সালাদ।
* সিদ্ধ ছোলা না ভেজে। শসা টমেটো দিয়ে সালাদ। অথবা আদা পুদিনা দিয়ে কাঁচা ছোলা।
* লেবু লবণের শরবত বা খানিকটা লবণ দিয়ে টকদই র লাচ্ছি বা ঘোল পানি।
* ইসুবগুল বা তকমা মেশানো পানীয়।
* চিনি বা গুড় মেশানো কোন খাবার বা পানীয় না খাওয়া ভালো।
* ভাজা পোড়া খাবার কম খেয়ে স্বাস্থ্য কর প্রোটিন খেতে হবে।
* মুখরোচক ইফতার আইটেম যেমন : ছোট পেঁয়াজি, বেগুনি, চপ,পরিমাণে অধিক গ্রহণ করা যাবে না। ১ টি বা দুইটি গ্রহণ যথার্থ।
* রায়তা আধা কাপ। ফলের সালাদ ১ কাপ , মুড়ি ২ কাপ, গ্রহণীয়।
সুস্থতা
সকল কিছুর উর্ধ্বে নিয়ামত।তাই জীবন উপভোগ করতে সুস্থতার কোন বিকল্প
নেই।সাময়িক অতি ভোজন বিলাস ঐ সাময়িক তৃপ্তি কিন্তু অসুস্থতার সূত্র। তাই
সাধারণ গ্রহণীয় খাদ্য তালিকা সব সময় টনিক স্বরূপ। সব ধরনের খাদ্যই
স্বল্প পরিমাণ গ্রহণে শরীরে জটিলতা কম পরিলক্ষিত হয়। যা সহজে সুস্থতা বহন
করে।
দীর্ঘ
দিন সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকার আনন্দ কোন কিছু র বিনিময়ে অর্জিত হতে পারে
না। প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে বহমান। তাই রোগ প্রতিরোধ করা এবং আক্রান্ত
হবার পর সহজ উপায়ে তা ধরাবাঁধা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিহত করাই শ্রেয়।