অন্যান্য
দিনের তুলনায় রোজা অবস্থায় আমাদের কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। তাই যারা
নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা অনেকটা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এই ভেবে যে, রোজা
থাকা অবস্থায় ব্যায়াম করবেন কীভাবে?
রোজা
থাকার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়, সেই সঙ্গে
অনেক সময় শরীর ডিহাইড্রেড হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় যে কোনো শারীরিক কসরতও
বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। আবার শরীরকে ফিট রাখতে এই সময়েও ব্যায়াম করা
জরুরি। রোজা থেকে শুধু শুয়ে বসে থাকলে বা বিশ্রামে থাকা ক্ষতিকর।
তাই
পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। রোজা
থাকা অবস্থায় নিরাপদে ব্যায়াম করার জন্য কিছু টিপস রইল:
আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন
যেকোনো
ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া উচিত। আর সেটা
যদি হয় রোজা রাখার সময়, তাহলে পরামর্শ নেয়া আরও বেশি জরুরি। চিকিৎসক
আপনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন, তাই তিনি আপনাকে সঠিক নির্দেশিকা
দিতে পারবেন।
রোজা
রাখার ইচ্ছা এবং ব্যায়ামের পরিকল্পনা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
তিনিই আপনাকে বলতে পারবেন যে, একইসঙ্গে এই দুটি কাজ আপনার জন্য নিরাপদ কি
না। যদি ব্যায়াম করার সময় আপনার কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি হয় কিংবা রোজার
কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে ব্যায়াম বন্ধ করুন এবং আপনার
চিকিৎসককে জানান। পুষ্টিবিদদের মতে, আপনি যদি সক্রিয় থাকেন তবে রোজা করার
সময় দিনে ১২০০ ক্যালোরির কম গ্রহণ না করাই ভালো।
অপেক্ষাকৃত হালকা ব্যায়াম বেছে নিন
যেহেতু
আপনি রোজা আছেন তাই অপেক্ষাকৃত হালকা ব্যায়ামই আপনার জন্য উপকারী। রোজার
সময়, আপনার শরীর গ্লাইকোজেন আকারে সঞ্চিত শক্তির ওপর নির্ভর করে। তাই
শরীরে সঞ্চিত শক্তি ধীরে ধীরে খরচ করার জন্য দৌঁড়ানোর পরিবর্তে হাঁটার মতো
ব্যায়াম বেছে নিন। এ ছাড়া হালকা কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন। কারণ
ব্যায়াম মনকে শান্ত এবং শরীরকে হালকা করতে পারে। এ ছাড়াও গৃহস্থালির
হালকা কাজগুলোও করতে পারেন।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান
রোজায়
দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার কারণে এমনিতেই শরীর কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
ব্যায়াম করার কারণে অনেক বেশি ক্যালোরিও খরচ হয়। তাই এই সময় প্রোটিন
খাওয়া জরুরি। আপনি প্রতিদিনের ইফতার ও সেহরিতে কিছু প্রোটিন রাখুন। যেমন
ইফতারে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন। ভরপেট ইফতার করার পর
অনেকেই আর রাতে কিছু খেতে চান না। সেক্ষেত্রে আপনি সর ছাড়া এক কাপ দুধ
খেতে পারেন। আর সেহরিতে ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি ও মাছ বা মাংস খেতে পারেন।
এভাবে আপনার দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন
রোজায়
দীর্ঘ সময় পানি পান না করার জন্য শরীর সহজেই ডিহাইড্রেড হয়ে পড়তে পারে।
কিন্তু শরীরকে তার কার্যক্রম ঠিকমত চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং ফিট থাকার
জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দৈনিক পানির চাহিদা পূরণের জন্য ইফতারের
পর থেকেই অল্প অল্প করে পান করা শুরু করুন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি
পান করুন। তাজা ফলের রস এবং ডাবের পানিও পান করতে পারেন। এতে শরীরে
হাইড্রেটেড হওয়ার পাশাপাশি সতেজও থাকবে।
ব্যায়ামের জন্য সময় নির্বাচন করুন
সাধারণ
সময়ে আপনি দিনের যেকোনো সময় ব্যায়াম করতে পারেন। বিশেষ করে
চাকুরীজীবীরা দিনে সময় না পেলে অনেক সময় সন্ধ্যায় বা রাতেও ব্যায়াম করে
থাকেন। কিন্তু রোজা থাকা অবস্থায় আপনার উচিত সকালের দিকেই ব্যায়াম করে
নেয়া। কারণ যত সময় গড়াবে তত শরীর ক্লান্ত হওয়া শুরু করবে। ক্লান্ত শরীর
নিয়ে ব্যায়াম করলে তেমন কোনো ফল তো পাবেনই না বরং অসুস্থ হয়ে পড়তে
পারেন।