সহকারী শিক্ষক
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বিতীয়
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
?????প্রকৃতির দান – আমরুলশাক ????
যে সময়ে যার যা প্রয়োজন, প্রকৃতি অকৃপণভাবেই তা আমাদের জন্য যুগিয়ে দেয়, দিয়েছেও। প্রকৃতির অযত্নসম্ভূত তেমনই একটি দান অতি সহজলভ্য এই আমরুলশাক।
অম্বষ্ঠা, আম্বেটি, চুক্রিকা, চাঙ্গেরি, চেঙ্গি, টেঙ্গা, পালিয়া কেরী, পুলিচিন্তা, তান্দিটাটং আরক – অঞ্চল ও ভাষাভেদে সবকটি আমরুলেরই নাম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Oxalis corniculata Lin.
আমরুল শাক ভিজে স্যাঁতসেতে মাটিতে সরু কাণ্ডবিশিষ্ট মাটিতে বিছিয়ে থাকা গাছ। লম্বা সরু ডাঁটির ওপর তিনটি গুচ্ছ পাতা থাকে। ডাঁটির গোড়ায় হলুদ রঙের ফুল ধরে। ফল বা ক্যাপসুল ক্ষুদ্র ঠ্যাঁড়সাকৃতির, ভিতরে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য বীজ থাকে। পেকে গেলে হাওয়ার দোলায় বা নাড়াচাড়া খেলে ক্যাপসুল সশব্দে ফেটে গিয়ে বীজ চারদিকে ছড়িয়ে যায়।
বর্ষার শুরু থেকে শীতকাল পর্যন্ত আমরুলশাক পর্যাপ্ত পাওয়া যায়। বিভিন্ন অসুখে এটি শাকের মতো রান্না করে খাওয়া ছাড়াও ঔষধরূপেও খুবই উপযোগী। শীতে সমগ্ৰ গাছ ছায়ায় রেখে শুকনো করে সংরক্ষণ করা উচিৎ।
ব্যবহারবিধিঃ —
আ্যন্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ আমরুলশাক প্রচুর খনিজলবনসহ ভিটামিন সি এরও খনি। গোলমরিচ গুঁড়োসহ রান্না করে দুপুরের ভাতে নিয়মিত খেলে স্কার্ভিরোগ ও মুখের ঘা এবং ঘনঘন সর্দিলাগা ভাল হয়ে যায়। দু-এক দিন ছাড়া ছাড়া বিরাম দিয়ে যে জ্বর আসে তার পক্ষেও এটি ভাল। খিদে বাড়াতে ও অরুচি কাটাতেও এটি অত্যন্ত উপযোগী।
অর্শরোগে আধচামচ তিল তেল ও সমপরিমাণ গাওয়া ঘিয়ের এর মিশ্রণে একমুঠো (২৫-৩০ গ্ৰাম) আমরুল শাক, কড়ায় চাপা দিয়ে ভেজে দুপুরে প্রথম-ভাতে মেখে খেতে হবে ১২ - ১৫ দিন, নিয়মিতভাবে।
ফোঁড়া-ফুস্কুড়িতে গরম জল দিয়ে পাতা মিহি করে বেটে লাগালে দ্রুত ব্যথা যন্ত্রনা কমে যাবে এবং ফোঁড়াও ফেটে যাবে। বিছে বোলতার দংশনে বা আঘাত লেগে ব্যথা বেদনা হলেও এই প্রলেপ লাগালে আরাম পাওয়া যাবে।
গলা ধরা, গলক্ষত, ফ্যারেঞ্জাইটিস, টনসিলাইটিস, দাঁতের মাড়িফোলা ও ব্যথায় এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সামান্য নুনসহ পাতা ফোটানো জল ভালো করে ছেঁকে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় নিয়মিতভাবে দু-বেলা আহারের পর কুল্লি ও গড়গড়া বা গার্গল করলে কয়েক দিনের মধ্যেই দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
আমাশায় মাখন তোলা দুধ বা ঘোলের সঙ্গে পাতার রস ২-৩ চামচ মিশিয়ে সকাল-বিকাল দিন সাতেক খেলেই উপকার হবে।
অবাঞ্ছিত তিল ও আঁচিল নষ্ট করবার জন্য আমরুল পাতার রস সরাসরি দীর্ঘদিন লাগিয়ে দেখুন, উপকার পাবেন।
অত্যন্ত কষ্টদায়ক মাথাধরায় আমরুলপাতার রসের সঙ্গে ৫-৬ ফোঁটা রসুনের রস মিশিয়ে কপালে মাখুন। এক গ্লাশ জল খেয়ে খোলা হাওয়ায় কিছুক্ষণ পায়চারি করুন, কয়েক মিনিটের মধ্যে মাথাধরা কমে যাবে।
খিদে হচ্ছে না, খাবারে যেন স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না, সবসময় একটা বমি-বমিভাব, পায়খানাও পরিস্কার হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি করে দেখতে পারেন। দু-মুঠো আমরুলশাক কুঁচো কুঁচো করে কেটে তাতে সামান্য তেল নুন হলুদ, এক চিমটে চিনি বা গুড় মিশিয়ে মাখিয়ে নিয়ে কলাপাতায় মুড়ে ভালো করে আগুনে ঝলসে নিন। দুপুরের ভাতে মেখে বা টাকনা দিয়ে এটি কয়েক দিন নিয়মিত খান, খুব দ্রুত উপকার পাবেন।
এছাড়াও অঞ্চল ও স্থানভেদে আমরুলশাকের আরও অনেক নাম ও লৌকিক ব্যবহার থাকতে পারে। আপনারা জানালে, ভবিষ্যতে প্রতিবেদনটি সমৃদ্ধ হবে এবং অনেকেই সহজে চিনতে ও ব্যবহার করতে পারবেন।