Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১২ নভেম্বর, ২০২২ ১২:২১ অপরাহ্ণ

তাঁকে ছাড়া প্রথম বিশ্বকাপ

অঙ্কের হিসেবে কথাটা ভুল। কিন্তু আবেগের জায়গা থেকে কাতার বিশ্বকাপে এর চেয়ে নির্মম উপলব্ধি আর হয় না!

কেউ কেউ বলতে পারেন, তাঁকে ছাড়া এবারই প্রথম বিশ্বকাপ হচ্ছে না। ১৯৬০ সালে তাঁর জন্মের আগে হয়েছে ৬টি বিশ্বকাপ। ‘এল পিবে দে ওরো (গোল্ডেন বয়)’, এই বিশ্ব–সংসারে আসার পর আরও ১৫টি বিশ্বকাপ হয়েছে। ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে হিসেব করলে এ পর্যন্ত ১০টি বিশ্বকাপে সবকিছু ঠিকই ছিল।

মাঠে জমজমাট খেলা, উন্মাদ দর্শক আর সাবেকদের বিশ্লেষণ–ভবিষ্যদ্বাণী—এসব মিলিয়ে পৃথিবীর অসুখবিসুখ যা–ই হোক না কেন, বিশ্বকাপের আমেজ ঠিকই উপচে পড়েছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু এবারের বাতাসটা একটু আলাদা। উৎসবের আবির–মাখা সে বাতাসেও কাকে যেন হারানোর বিউগল বাজছে। আর কাতার বিশ্বকাপ তার মধ্যেই দরজায় কড়া নাড়ছে।

খিড়কি খুলে সবাই মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপকে বরণও করে নিচ্ছেন। শুধু একটি দরজা বন্ধ। তা আর কখনোই খুলবে না। সে এমন এক দরজা—যার চৌকাঠে ফুটবলের ভক্ত থেকে বিপ্লবী, এমনকি দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ মানুষটিও হয়তো পড়ে থাকতে চাইবেন। আর তিনি হয়তো দরজা খুলে সেই পোড়ামুখোকে বুকে টেনে হাতে বলটা দিয়ে বলবেন, এই নাও ওষুধ! পৃথিবীর সমস্ত জরা–ব্যাধি, দুঃখ–শোক আর পাপ–তাপ ভোলার ওষুধ! এই দৃশ্যপট আসলে কল্পনার।

কিন্তু কল্পনায় তাঁকে নিয়ে এই ছবিটা আঁকার সাহস তিনি নিজেই দিয়েছেন। ফুটবল নিয়ে যাঁর আবেগের উচ্চতা এভারেস্টকেও পেছনে ফেলবে, যাঁর চোখে বলে লাথি মারাটাই জন্ম নেওয়ার সার্থকতা আর পৃথিবীর আপামর দুঃখী জনতার পাশে দাঁড়িয়ে যিনি অহর্নিশ ‘এস্টাবলিশমেন্ট’কে প্রশ্ন করে গেছেন, খুঁচিয়েছেন—সেই দরজায় যে আজ মৃত্যুর তালা!

চাবিটা যেহেতু নেই, তাই কাতার বিশ্বকাপকে খালি হাতেই সেই দরজা থেকে ফিরতে হয়েছে। বিশ্বকাপের রূপ–রং–রসে কোথায় যেন একটা দুঃখবোধ থেকে যাচ্ছে। এ এমন এক দুঃখ, যা চিরন্তন। তবু মেনে নেওয়া কষ্টের। সেই ৮২ সালের আসর থেকেই তাঁকে ছাড়া বিশ্বকাপের চলে না। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপজয়ী মহানায়কদের কাতারে যেমন বসেছেন, একাই দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর সংক্ষিপ্ত থেকে সংক্ষিপ্ততম তালিকায় যে দুজনকে (৬২ আসরে গারিঞ্চা) প্রায় কোনো তর্ক ছাড়াই রাখা যায়, তিনি তাঁদের একজন। আর সমর্থক হিসেবে?গত বিশ্বকাপের মুহূর্ত মনে করা যায়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট