Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

সৃষ্টি হতে পারে করোনার আরও নতুন ধরন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে হালকাভাবে না দেখতে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, এরপর করোনার আরও নতুন ধরন আসতে পারে। এদিকে বিশ্বে ফের বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। গেল ২৪ ঘণ্টায় ৩০ লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ২২ লাখ। তবে ওমিক্রন ধরনের মাধ্যমেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারি পর্ব শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি। তার আশা, করোনা এরপর সাধারণ রোগের (এনডেমিক) স্তরে পৌঁছাতে পারে। খবর বিবিসি, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ওমিক্রনের পরে ফের আসতে পারে নতুন কোনো রূপ। তাই মহামারি এখনই শেষ হয়ে যাবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। বিশ্বব্যাপী ওমিক্রনের অবিশ্বাস্য বৃদ্ধির সঙ্গে, নতুন নতুন ধরন আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে ট্র্যাকিং এবং তার মূল্যায়ন দিন দিন আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।

গেব্রিয়াসুস আরও বলেন, কোনোভাবেই এটাকে সাধারণ সর্দি-কাশি বলে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এই ভাইরাসটি একেবারেই সোজা কিছু নয়। আর এটাকে হালকাভাবে নেওয়াও উচিত হবে না। ওমিক্রন ডেল্টার থেকে কম মারাত্মক বা যাদের টিকা নেওয়া হয়ে গিয়েছে তাদের জন্য কম ক্ষতিকারক। কিন্তু এটাও বিপজ্জনক ভাইরাস। এর সংক্রমণের ফলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকছেই।

এদিকে মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউজের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, করোনার ডেলটা ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্য ওমিক্রনে দেখা যাচ্ছে না, এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। কিন্তু যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে এটা আক্রান্ত করছে, তাতে সেই সুবিধাটা কাজে নাও লাগতে পারে। তিনি বলেন, ওমিক্রনের মাধ্যমে হয়তো মহামারির ইতি ঘটতে যাচ্ছে। তবে সেটা তখনই ঘটবে, যদি আমাদের সামনে এমন একটি নতুন ধরন এসে হাজির না হয়, যা কিনা আগের ধরনের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার) বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৫২০ জন। এরমধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ১০ লাখ, এশিয়ায় পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার, আফ্রিকায় ৫৯ হাজার ও ওশেনিয়ায় ৭০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্বে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৩ কোটি ৫৬ লাখের বেশি, মোট মৃত্যু ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার জনের। রোববার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এদিন ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। এ সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৭২০ জন। ফ্রান্সে এদিন রেকর্ড ৪ লাখ ৬৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে, এদিন দেশটিতে মারা গেছেন ৩৭৫ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ৯৪ হাজার, জার্মানিতে ৯৫ হাজার এবং ইতালিতে ২ লাখ ২৮ হাজার করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভারতে একদিনে ২ লাখ ৮২ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন দেশটিতে মারা গেছেন ৪৪২ জন।

শিশুদের বুস্টার ডোজের পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই : শিশু, কিশোর ও তরুণদের করোনা ভাইরাসের বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু কমে আসে এবং দ্রুত গতিতে বিস্তার ঘটছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের, তাই কাদের বুস্টার ডোজ প্রয়োজন তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট