১৯৭১
সালে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে
বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের
৫০ বছর পেরিয়ে আসার পথে আমরা। বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।
এবারের মাসটি ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে। স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে মাসটি
মহা আনন্দের, মহা গৌরবের। স্বজন হারানোর বেদনায় এই মাস একইসঙ্গে শোকের,
আবার উদযাপনেরও।
এবার থাকছে নানা আয়োজন।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে ৫০টি জাতীয় পতাকা সংবলিত সুবর্ণজয়ন্তীর র্যালি দেশের
৬৪টি জেলা প্রদক্ষিণ করবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের
সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ জেলা প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৬
ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ।
এর
আগে দেশের ২১টি স্থানে হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আঞ্চলিক সমাবেশ। যা শুরু হয়
২৬ নভেম্বর। ২৬ নভেম্বর দিনাজপুরে উপ আঞ্চলিক মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে মহান
স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
১৬
ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে অংশগ্রহণ করছেন
ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। তিন দিনের সফরে তিনি বাংলাদেশে আসছেন
বলেও দিনক্ষণ ঠিক হয়ে আছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে
ভারতের কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান অংশ নেননি। সেই বিবেচনায় ভারতের
রাষ্ট্রপতির এই বাংলাদেশ সফর হবে নজিরবিহীন।
একাত্তরের
১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও বাঙালির স্বাধীনতার রক্তলাল
সূর্যোদয়ের ভিত্তি সূচিত হয়েছিল বেশ আগেই। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর
ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় শপথ নিয়েছিল।
২৫ মার্চের কাল রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের
পর বাংলার দামাল ছেলেরা রুখে দাঁড়িয়েছিল।
১৯৭১
সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক
পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। ১ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের এক
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা হামলা বেড়ে যাওয়ায়
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেনাবাহিনীর আরও
ভয়াবহ চেহারা প্রকাশ পেতে থাকে। বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে জিঞ্জিরাতে
সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে এক দিনেই হত্যা করা হয় ৮৭ জনকে। ডিসেম্বরের শুরু
থেকেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আরও ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে বাংলাদেশকে। শেষ কামড়
দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তানী বাহিনী।
বিজয়ের
৫০তম বর্ষে ডিসেম্বর মাস শুরুর প্রাক্কালে বাঙালির মনে অন্যতম বড় স্বস্তি
এই যে, দীর্ঘকাল পার হলেও জাতির শাপমোচন হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের
বিচার কার্যক্রম শুরুর পরে চিহ্নিত রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা
গেছে।