সহকারী শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২১ ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ পঞ্চম অধ্যায়
বেগুন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সব্জি এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জমিতে চাষ করা হয় পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে। বেগুন প্রায় সারাবছরই চাষ করা যায়। তবে শীত মৌসুমে ফলন বেশি হয়। এ দেশে বহু জাতের স্থানীয় জাতের বেগুন রয়েছে। বেগুনের আদি নিবাস দক্ষিন এশিয়া এবং এর ইংরেজি নাম Brinjal ও বৈজ্ঞানিক নাম lanum melongena. বেগুন গাছ প্রায় ৪০ থেকে ১৫০ সেমি লম্বা হয়। পাতাগুলো ঘন এবং ১০ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত প্রশস্ত হয়। বুনো বেগুন আরো বড় হয়। বেগুনের ফুল সাদা হতে গোলাপি বা হালকা বেগুনী বর্নের হয়। ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বেগুনের ফল বেগুনী বা সাদা (সবুজ) এবং গাঢ় বেগুনী (কালচে) বর্নের হয়। বেশ কিছু জাত আছে যা অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে এবং কিছু জাত আছে যেগুলো অনেক মোটা ও বড় আকৃতি এবং গোল হয়। এছাড়াও গ্রামে কৃষকের বিশেষ কিছু বেগুনের জাত (কাটা বেগুন,বল বেগুন) আছে। জাতগুলোর বৈশিষ্ট হলো গাছ,ডাল, পাতা এবং বেগুনের ফলে অনেক কাটা থাকে যারফলে কৃষকের এই বিশেষ বেগুনের জাতগুলো জমির আইলে চারপাশে রোপন করলে ফসলের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা হয়। আমাদের দেশে চট্রগ্রাম,যশোর, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রংপুর,দিনাজপুর, বগুড়া,টাংগাইল এবং পাবনা ইত্যাদি এলাকায় বেগুন বেশি উৎপাদিত হয়। তবে গ্রামের প্রতিটি কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় একটু নজর দিলে বৈচিত্র্য বেগুনের জাত দেখা যায়। একটি ছোট পরিবারে ১০ থেকে ১৫ টি বেগুনের গাছ থাকলে সারা বছর আর বেগুন কিনে খেতে হয়না। বেগুন যেকোন সব্জির সাথে মানিয়ে যায়। শুধু তায় নয় এই সব্জির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ লবন, ভিটামিনসহ অনেক পুষ্টিগুন। আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই বেগুন পাওয়া যায়। তাই কমবেশি সবার কাছেই সবসময় এর চাহিদা থাকে। আমাদের দেশে তরকারি ছাড়াও বেগুন ভাজি,সিদ্ধ বা আগুনে পুড়িয়ে ভর্তা হিসেবে খাওয়া হয়। বাংলাদেশে ইফতারের জন্য নানান জাতের বেগুনের বেগুনী একটি জনপ্রিয় খাবার।