Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৩ জানুয়ারি, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বনবীর [সাঃ] জীবনী (সংক্ষিপ্ত)।

বিশ্বনবীর [সাঃ] জীবনী

আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত তথা অনুগ্রহ হিসেবে প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭)

 

রাসুল (সাঃ) এর সম্মানে পবিত্র কুরআনের আয়াত

পবিত্র কুরআনে রাসুল (সাঃ) এর উত্তম চরিত্র ও সম্মান-মর্যাদার কথা উল্লেখ করে সুন্দরভাবে তার নাম উল্লেখ করে অনেকগুলো আয়াত নাযিল হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

১। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128)
অর্থাৎ, তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া তার জন্য কষ্টদায়ক এবং তিনি তোমাদের কল্যাণকামী। মুমিনদের প্রতি তিনি স্নেহশীল ও দয়ালু।(সুরা তাওবা:১২৮)

২।আল্লাহ্‌ তায়ালার বাণী:
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)
অর্থাৎ, তিনি নিরক্ষরদের কাছে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন।যিনি তাদেরকে তার আয়াত তেলাওয়াত করে শুনাবেন,তাদের জীবনকে সুসজ্জিত ও সুন্দর করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দিবেন।অথচ,ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল।(সুরা জুমুয়াহঃ২)

৩।আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا (46).
অর্থাৎ,হে আমার নবী (সাঃ)!নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। এছাড়াও প্রেরণ করেছি তার অনুমতিক্রমে তারই দিকে মানুষকে আহবানকারী ও উজ্জল আলোকবর্তিকা হিসেবে। (সুরা আহযাবঃ ৪৫-৪৬)
* রাসুল(সাঃ) এর সম্মানের কারণে আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে কসমের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

১। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:

لَا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ (1) وَأَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ (2)
অর্থাৎ, কক্ষনো না। আমি এই শহরের কসম করছি। আর আপনাকে এই শহরে নির্যাতন করার জন্য বৈধ করে নেয়া হয়েছে। (সুরা বালাদঃ ১-২)
* রাসুল (সাঃ) এর সুউচ্চ অবস্থানের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

১। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:

وَالضُّحَى (1) وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى (2) مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى (3) وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْأُولَى (4) وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى (5)
অর্থাৎ, দিনের প্রথম ভাগের কসম এবং রাত্রের কসম যখন তা ঘণীভুত হয়। আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগও করেননি আবার আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি। আপনার জন্য পরবর্তী যুগ আগের যুগের চেয়ে ভাল। অচিরেই আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে এমন কিছু দান করবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। (সুরা আদ দুহাঃ ১-৫)

২। আল্লাহ্‌ তায়ালার বাণী:

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (1) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (2) وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)
অর্থাৎ, তারকারাজির শপথ; যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট কিংবা বিপথগামী হয়নি। আর তিনি নিজের খেয়ালখুশি মত কোন কথা বলেন না। বরং, তিনি যা বলেন সবই তার কাছে ওহী হিসেবে প্রেরণ করা হয়। (সুরা আন নাজমঃ ১-৪)
* আল্লাহ্‌ তায়ালা নিজ সৃষ্টির উপর তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন।

১। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)
অর্থাৎ, আর নিশ্চয় আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা আল ক্বালামঃ ৪)

২। আল্লাহ্‌ তায়ালার বাণী:
وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ (9)
অর্থাৎ, তারা চায় আপনি নমনীয় হলে তারাও নমনীয়তা অবলম্বন করবে। (সুরা আল ক্বালামঃ ৯)
* আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসুল (সাঃ) এর সম্মান ও সুমহান মর্যাদার কথা বর্ণনা করেছেন।

১। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ
অর্থাৎ, আর আপনি তাদের মাঝে থাকলে আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদেরকে আযাব দেবেন না। (সূরা আনফালঃ ৩৩)

২। আল্লাহ তায়ালার বাণী:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ
অর্থাৎ, আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত তথা অনুগ্রহ হিসেবে প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭)

৩। পবিত্র কুরআন মাজিদে এসেছে-
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (56)
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তায়ালা তার প্রশংসা করেন এবং ফেরেশতাগণ তাকে প্রশংসা ও দুয়া করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার উপর দরুদ ও সালাম প্রেরণ কর। (সুরা আহযাবঃ ৫৬)

রাসুল (সাঃ) এর বংশ তালিকা
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা ইবনে কা’ব ইবনে লুয়াই ইবনে ফিহির ইবনে মালেক ইবনে নাদার ইবনে কিনানাহ ইবনে খাজীমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলইয়াস ইবনে মুদার ইবনে নাজ্জার ইবনে মুইদ ইবনে আদনান।

এটুকুই সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে।এছাড়া ইসমাইল (আঃ)থেকে আদনান পর্যন্ত বংশনামার তালিকা ঐতিহাসিক ও বংশনামা বর্ণনাকারীগণ নিশ্চিত করতে পারেননি।

আর তার মায়ের বংশতালিকা হল-আমিনা বিনতে ওহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জোহরা ইবনে কিলাব………।
এভাবেই রাসুল (সাঃ) এর মায়ের বংশধারা রাসুল (সাঃ) এর পিতার বংশধারার সাথে মিলে গেছে।

রাসুল (সাঃ)বলেছেন:
خَرَجْتُ مِنْ نِكَاحٍ ولَمْ أَخْرُجْ مِنْ سِفَاحٍ مِنْ لَدُنْ آدَمَ، إلى أن ولدنى أبى و أمى و لَمْ يُصِبْنِي من سِفَاحُ الْجَاهِلِيَّةِ شيئ»
অর্থাৎ, আমি বিবাহের মাধ্যমে দুনিয়াতে এসেছি। আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আমার পিতামাতা আমাকে জন্মদান করা পর্যন্ত আমি কোন জ্বিনা থেকে আসিনি। আমাকে জাহেলিয়াতের জ্বিনা-ব্যভিচার স্পর্শ করতে পারেনি। (তাবারানী, আবু নাঈম, ইবনে আসাকীর; ইমাম হাকেম এটাকে সহিহ বলেছেন।)

রাসুল (সাঃ) অন্যত্র বলেন:
إِنَّ اللهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ، وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তায়ালা ইসমাইল (আঃ) এর সন্তানদের মধ্য থেকে কেনানাকে, কেনানা থেকে কুরাইশকে, কুরাইশ থেকে বনী হাশেমকে এবং বনী হাশেম থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। (মুসলিম-২২৭৬, তিরমীজি-৩৬০৬,মুসনাদে আহমাদ-১৬৯৮৬)

জন্ম থেকে নবুওয়াত প্রাপ্তি
* রাসুল (সাঃ)মক্কা নগরীর বনি হাশেম গোত্রে আবু তালেবের ঘরে ১২ই কিংবা ৯ই রবিউল আউয়াল, ইংরেজী ২০শে এপ্রিল, ৫৭১ সাল; সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন আবরাহার হাতির ঘটনার প্রায় ৫০ দিন পর।

রাসুল (সাঃ)এর নামসমুহ
তার অনেকগুলো নাম রয়েছে।তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মুহাম্মাদ,আহমাদ,ত্বাহা,আল মাহি,আল হাশের,আল আকেব,নাবিউর রাহমাত,নাবিয়্যুত তাওবাহ,নাবিয়্যুল মালাহিম,আল মুক্বফী,আল খাতেম,আল ফাতেহ,আবুল কাসেম,ইয়াসীন,আল মুতাওয়াক্কিল।

রাসুল (সাঃ)কে যারা দুগ্ধদান করেছেন
তাকে প্রথমেই দুগ্ধপান করানোর সৌভাগ্য লাভ করেন তার মা আমিনা।তারপর আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা;যিনি তার চাচা হামজাহ (রাঃ)কে দুধ পান করিয়েছিলেন ।এ কারণে হামজাহ (রাঃ)তার দুধভাইও ছিলেন।এরপর হযরত হালিমা আস সা’দিয়াহ (রাঃ)তার মেয়ে শিমা বিনতে হারেস ইবনে আব্দুল ওজ্জার সাথে তাকে দুগ্ধপান করানোর সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

বয়স
রাসুল (সাঃ)৬৩ বছর এ ধরার বুকে বেচে ছিলেন।

নবুওয়াতের আগের জীবন
১।রাসুল (সাঃ)এর পিতা আব্দুল্লাহ ১৮ বছর বয়সে আমিনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

২।রাসুল(সাঃ)এর পিতা আব্দুল্লাহ রাসুল(সাঃ)কে দুই মাসের গর্ভে রেখে মদীনাতে মৃত্যুবরণ করেন।সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

৩।জন্মের পর তিনি দুগ্ধপান করা ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষা শেখার জন্য আবু কাবশার স্ত্রী হালিমা (রাঃ)এর ঘরে গিয়েছিলেন।সেখানে তিনি চার বছরাধিককাল পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন।ওহী নাযিল হওয়ার পর কুরাইশরা যখন রাসুল (সাঃ)কে ঠাট্টাবিদ্রুপ করতে চেয়েছিল,তখন তারা তার বিরুদ্ধে কোন দোষ খুজে পাচ্ছিল না।কেননা,নবুওয়্যাত প্রাপ্তির আগে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ যুবকের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত।তিনি অনেক বিশৃংখলাময় জাহেলী সমাজে বসবাস করা সত্ত্বেও তারা তাকে কোন কথা বলে দোষ দিতে পারেনি।শুধু বলেছে,এটা আবু কাবশার ছেলে।

৪।তার বয়স যখন চতুর্থ বছরের শেষের দিকে তখন ফেরেশতা কর্তৃক তার বক্ষ বিদারণের ঘটনা ঘটে।অতঃপর হালিমা(রাঃ)তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে আসেন।

৫।মা আমিনা তাকে নিয়ে আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রে তার [রাসুল সাঃ এর]মামা বংশীয়দের সাথে সাক্ষাত করতে যাচ্ছিলেন।তারা তার পিতারও মামা বংশীয় ছিল। মক্কার দিকে ফিরে আসার সময় “আবওয়া” নামক স্থানে মা আমিনা মৃত্যুবরণ করলেন।অতঃপর তাকে কোলে করে মক্কায় নিয়ে আসেন তার পিতার দাসী ও রাসুল (সাঃ)এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ)এর মা “উম্মে আইমান(রাঃ)। তিনি তাকে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে সমর্পন করলেন।তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর।

৬।মাত্র দুইবছর তাকে লালন পালন করার পর যখন রাসুল (সাঃ)এর বয়স ৮ বছর হল,তখন দাদা আব্দুল মুত্তালিব মারা গেলেন।অতঃপর প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নিলেন তার চাচা আবু তালেব।এভাবেই নবুওয়্যাতের ১১তম বছর তথা মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আবু তালেব সার্বক্ষনিকভাবে তাকে আগলে রাখতেন।

৭।তার বয়স ১২ বছর হলে চাচা আবু তালেব সিরিয়াতে ব্যবসায়িক সফরে তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।
৮।২০ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ)ফুজ্জার যুদ্ধ ও হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘে অংশগ্রহণ করেছিলেন।তিনি যুদ্ধকে অপছন্দ করতেন এবং সন্ধিকে ভালবাসতেন।

৯।মক্কায় ফিরে আসার পর তিনি তার দুধভাইদের সাথে ছাগল চরাতেন।

১০।২৫ বছর বয়সে তিনি খাদিজা(রাঃ)এর মুলধন দিয়ে ব্যবসা [মুদারাবা তথা লাভ-ক্ষতিতে অংশীদারিত্ব ব্যবসা] করার জন্য দ্বিতীয়বারের মত সিরিয়া ভ্রমণ করেছিলেন।

১১।রাসুল (সাঃ)এর সততা,আমানতদারিতা ও সুমহান চরিত্র দেখে খাদিজা(রাঃ) অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হলেন।অতঃপর তিনি তাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়ে বিবাহ করলেন।

১২।তিনি অসীম বুদ্ধিমত্তা,সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,বিচক্ষণতা ও অকৃত্রিম সহণশীলতার কারণে সমাজে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।কাবা ঘরের কালো পাথরকে যথাস্থানে রাখা নিয়ে চারদিন পর্যন্ত বিভিন্ন গোত্রে গন্ডগোল হওয়ার পর যখন যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার উপক্রম হয়েছিল,ঠিক সেই মুহুর্তে কুরাইশরা তাকে বিচারক মনোনীত করেছিল।রাসুল(সাঃ)সবাইকে সন্তুষ্ট করে সে যুদ্ধের আগুনকে নিভিয়ে দিয়েছিলেন।তিনি সেখানে নিজের চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলেন। তার উপর পাথর রাখার পর তারা সবাই চাদরের বিভিন্ন পার্শ্ব ধরে উপরে উঠিয়েছিল।অতঃপর তিনি সেখান থেকে পাথরটিকে নিজহাতে উঠিয়ে নিয়ে কাবাঘরের গায়ে যথাস্থানে সেটাকে রেখে দিয়েছিলেন।

নবুওয়্যাত প্রাপ্তি থেকে হিজরত পর্যন্ত
১। হিজরতের ১৩ বছর আগে ৬১০ খৃষ্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারী, ২৭ শে রমজান তারিখে ৪০ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ) এর উপর ওহী নাযিল হয়।

২। তিন বছর গোপণে আল্লাহ্‌ তায়ালার উপর ঈমান ও তার ইবাদাতের দিকে মানুষকে আহবান করার পর প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু হয়।

৩। অনেক কষ্ট, নির্যাতন, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং শিয়াবে আবু তালেবে তার ও তার সঙ্গী সাথীদের উপর অবরোধ আসার পরও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।

৪। হিজরতের ৩ বছর আগে তার বয়স যখন ৫০ এ উপনীত হল তখন, তার প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) তারপর চাচা আবু তালেব মারা গেলেন। এজন্য এ বছরকে “আমুল হুযন” বা দুঃখের বছর বলা হয়।

৫। রাসুল (সাঃ) তায়েফে গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তাদের কাছ থেকে প্রচন্ড রকমের অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হন। আর তিনি তার উত্তম জবাব দেন। যা সবারই জানা।

৬। নবুওয়্যাতের দশম বছরে হিজরতের ৩ বছর আগে ২৭ শে রজব মেরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়।

৭। একই বছর আকাবার প্রথম শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তখন তিনি খাজরাজ গোত্রের ১০ জন ও আউস গোত্রের ২ জন লোকের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। আর তাদের সাথে রাসুল (সাঃ) মুসয়াব ইবনে উমায়ের (রাঃ) কে কুরআন ও দ্বীন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য প্রেরণ করেছিলেন।

৮। পরবর্তী বছর আকাবার দ্বিতীয় শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তখন তিনি খাজরাজ গোত্রের ৬২ জন এবং আউস গোত্রের ১১ জন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। এর পরপরই মুহাররাম মাসের শুরুর দিকে মুসলমানগণ মদিনায় হিজরত করা শুরু করলেন। সাথে সাথে শুরু হল রাসুল (সাঃ) এর মদীনায় হিজরতের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা । অতঃপর তিনি মক্কায় ১৩ বছর আল্লাহ্‌ তায়ালার দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার পর মদীনায় পৌছান ২০ সেপ্টেম্বর ৬২২ খৃষ্টাব্দে; আরবী ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে।

হিজরত থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত
১। মদীনায় রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়সমুহ তথা-ভুখন্ড, জাতি, ও শাসকগোষ্টীর সমন্বয়ে একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠিত হল। অবশেষে ৮ম হিজরীতে রাষ্ট্রের চুড়ান্ত ধাপ তথা আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রের স্বীকৃতিও পাওয়া গেল। যে বছরকে “আমুল উফুদ” বা প্রতিনিধি দলের বছর বলা হয়।

২। হিজরতের প্রথম বছরে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন চুক্তি, বাহিনী প্রেরণ, জিহাদ ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

৩। দ্বিতীয় হিজরীতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যেমন-১. ওদ্দান, ২. বাওয়াত, ৩. আল আশীরা, ৪. প্রথম বদর, ৫. বদর যুদ্ধ, ৬. কায়নুকা’, ৭. সাওয়িক। এছাড়া এ বছর বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবা শরীফের দিকে কিবলা পরিবর্তন করা হয়। এ বছরই রোজা ও যাকাত ফরজ করা হয়।

৪। তৃতীয় হিজরীতে গাতফান, বুহরান, উহুদ ও হামরাউল আসাদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

৫। চতুর্থ হিজরীতে বানু নাজির, জাতুর রিকা’ ও শেষ বদর যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

৬। ৫ম হিজরীতে দাওমাতুল জান্দাল, বানুল মুসতালিক, খন্দক বা আহযাব ও বনু কুরায়জার যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

৭। ৬ষ্ঠ হিজরিতে বানী লেহইয়ান, আল গাবা, হুদায়বিয়া, বিভিন্ন ছোটখাটো অভিযান প্রেরণ ও বায়আতে রিদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরই কায়সার, কিসরা, মুকাওকিস ও নাজ্জাশীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে রাসুল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়।

৮। সপ্তম হিজরীতে খায়বার, ফিদাক ও ওয়াদী আল কুরা বিজয় হয়, এছাড়া বেশ কিছু ছোটোখাটো বাহিনী প্রেরণ ও গত বছরের হুদায়বিয়া সন্ধির চুক্তি অনুযায়ী উমরাতুল কাজা আদায় করা হয়।

৯। ৮ম হিজরীতে মু’তার যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, হুনায়ন ও তায়েফের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এছাড়া এ বছর বেশ কিছু সেনাদল প্রেরণ করা হয় এবং বেশ কিছু বিদেশী প্রতিনিধিদল আসে।
১০। ৯ম হিজরীতে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ক্রমান্বয়ে বিদেশী প্রতিনিধি দল আসা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবছর হজ্জ ফরজ হয়।

১১। ১০ম হিজরীতে রাসুল (সাঃ) বিদায় হজ্জ পালন করেন। এ বছর বিভিন্ন সেনাদল প্রেরণ করেন এবং একের পর এক বিদেশী প্রতিনিধিদল আসতে থাকে।

১২। ১১ তম হিজরীতে রাসুল (সাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১২ ই রবিউল আউয়াল, ইংরেজী ৮ই জুলাই ৬৩৩ তারিখে সোমবার দিনে ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল চন্দ্র বছর হিসেবে ৬৩ বছর ৩ দিন। আর, সৌর বছর হিসেবে ৬১ বছর ৮৪ দিন।

সংক্ষেপে তার গুণাবলী
যে ব্যক্তি খুবই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রাসুল (সাঃ) এর দিকে তাকাবে সে দেখতে পাবে তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের। কোন মানুষ তার সমকক্ষ হওয়া তো দুরের কথা তার কোন একটি গুণাবলীর সমানও হতে পারবে না। তাকে যিনি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি হলেন মহান প্রভু আল্লাহ্‌ তায়ালা।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
أَدَّبَنِىْ رَبِّىْ فَأَحْسَنَ تَأْدِيْبِىْ
অর্থাৎ, আমার রব আমাকে সর্বোত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন।(আল ফাওয়ায়েদুল জালিয়্যাহঃ ১/১০১; হাদীসটির অর্থ সহীহ; দেখুন- আত তাজকেরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহঃ ১/১৬০, কাশফুল খিফাঃ ১/৮১, ১/৭০, আসনাল মাত্বালিবঃ১/৩৫; আবুল ফাজল বিন নাসির এটাকে সহীহ বলেছেন, আদ দুরারুল মুনতাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহঃ১/৪৫)

আল্লাহ্‌ তায়ালা এ সম্বন্ধে বলেন:
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)
অর্থাৎ, আর নিশ্চয় আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা আল ক্বালামঃ ৪) কেন তিনি এ রকম হবেন না অথচ, তিনি মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার আশ্রয়ে দেখাশোনার মধ্যে ছিলেন।

আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন:
فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا
অর্থাৎ, আর আপনি আমার চোখে চোখেই আছেন। (সুরা তুরঃ ৪৮)

অপরদিকে তিনি মুসা (আঃ) সম্বন্ধে বলেছেন:
وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي
অর্থাৎ, আর [আমি চাই] তুমি যেন আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও। (সুরা ত্বাহা: ৩৯)

“চোখের সামনে রাখতে চাওয়া’ এবং “চোখে চোখে রাখা” এ দুইয়ের মধ্যে কতই না পার্থক্য!!!! এখান থেকেই তার সুমহান চরিত্রের বর্ণনা স্পষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর অনেক বড় মনীষীর ভিতরে তার সমপরিমাণ একটা গুণ পাওয়া যদি খুবই দুর্লভ হয়, তাহলে তার সবগুলো গুণাবলী তাদের মাঝে কিভাবে পাওয়া সম্ভব হবে???

রাসুল (সাঃ) এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

১। ধৈর্যঃ নিজেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বদা আল্লাহ্‌ তায়ালার আনুগত্যের উপর অটল রাখা, অবাধ্যতার নিকটবর্তী না হওয়া, তার সিদ্ধান্তের কারণে হা হুতাশ না করা এবং তাতে রাগান্বিত না হওয়ার নামই ধৈর্য।

রাসুল (সাঃ) ইসলামের দাওয়াতকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করতে গিয়ে কুরাইশদের কাছ থেকে অমানুষিকভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে ধৈর্যধারণ করেছেন। তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন দুঃখের বছর, যুদ্ধক্ষেত্র, ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, ক্ষুধা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে। কোন ষড়যন্ত্রই তাকে দুর্বল করতে পারেনি এবং কোন পক্ষই তাকে টলাতে পারেনি।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন:
هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ، قَالَ: ” لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ مَا لَقِيتُ، وَكَانَ أَشَدَّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ العَقَبَةِ، إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلاَلٍ، فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ، فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي، فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلَّا وَأَنَا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ، فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ، وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ، فَنَادَانِي مَلَكُ الجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَقَالَ، ذَلِكَ فِيمَا شِئْتَ، إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ وَحْدَهُ، لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا

অর্থাৎ,আপনার কাছে কি এমন কোন দিন এসেছে যা উহুদের চেয়েও কঠিন দিন ছিল? রাসুল (সাঃ)বলেন:আমি তোমার কওম থেকে এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি যা বর্ণনাতীত।আর আকাবার দিন(তায়েফের ঘটনা)ছিল তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন অবস্থা!!আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম ইবনে আবদি ইয়ালিল ইবনে আব্দি কুলাল গোত্রের কাছে;কিন্তু,তারা আমার ইচ্ছায় সাড়া দিল না।অতঃপর আমি চেহারায় দুঃখের ছাপ নিয়ে ফিরে আসছিলাম।আমি যখন সম্বিত দিরে পেলাম তখন আমি ছিলাম-”ক্বারনে ছা’য়ালেব” নামক স্থানে।আমি মাথা উপরের দিকে তুললাম।দেখলাম একখন্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিয়েছে।সেখানে জিবরাইল (আঃ)এর সাক্ষাত পেলাম।তিনি আমাকে ডেকে বললেন:আল্লাহ্ তায়ালা কওমের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য ও তাদের জবাব শুনেছেন।তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন।তাদের ব্যাপারে আপনার যা খুশি তাকে নির্দেশ দেবেন।পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিয়ে বললেন,হে মুহাম্মাদ (সাঃ)!!আপনি যা চান তাই হবে।যদি আপনি বলেন তাহলে,আমি তাদের উপর পাহাড় দুটি চাপিয়ে দেব।রাসুল (সাঃ)বললেন:[না!!!]বরং,আমি চাই তাদের ঔরসজাত সন্তানদের মধ্য থেকে এমন কেউ বের হোক যে একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদাত করবে তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করবে না।(বুখারী-৩২৩১,মুসলিম-১৭৯৫)

২।ক্ষমা করাঃ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নেয়ার নামই ক্ষমা।মক্কা বিজয়ের দিনে রাসুল(সাঃ)মক্কার লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করছিলেন।তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে তার নির্দেশেরই অপেক্ষা করছিল।তিনি বললেন:হে কুরাইশগণ !!!তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা কর? তারা বলল:সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মত!!!তিনি বললেন:তোমরা চলে যাও!!!আজ তোমরা মুক্ত!!!তারা তাকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন,তিরস্কার,সামাজিকভাবে বয়কট করা এমনকি হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন।

৩।সাহসীকতাঃ কথাবার্তা,মতপ্রকাশ ও কোন কাজ করতে যাওয়ায় সাহসীকতা প্রদর্শন একটা অত্যন্ত চমৎকার গুণাবলী।রাসুল(সাঃ)যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন সকল মানুষের চেয়ে বেশী সাহসী।তার মত সাহসী মানুষ কোন চোখ দেখেনি।বীর সিপাহী হযরত আলী (রাঃ)বলেন:যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হত তখন আমরা রাসুল (সাঃ)কে আড়াল নিয়ে আত্মরক্ষা করতাম।তিনি থাকতেন আমাদের মধ্য থেকে শত্রুদের সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে উহুদ ও হুনায়ন যুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্বন্ধে হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন:

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَشْجَعَ النَّاسِ» وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَانْطَلَقَ نَاسٌ قِبَلَ الصَّوْتِ، فَتَلَقَّاهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاجِعًا، وَقَدْ سَبَقَهُمْ إِلَى الصَّوْتِ، وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لِأَبِي طَلْحَةَ عُرْيٍ، فِي عُنُقِهِ السَّيْفُ وَهُوَ يَقُولُ: «لَمْ تُرَاعُوا، لَمْ تُرَاعُوا» قَالَ: «وَجَدْنَاهُ بَحْرًا، أَوْ إِنَّهُ لَبَحْرٌ» قَالَ: وَكَانَ فَرَسًا يُبَطَّأُ

” রাসুল (সাঃ) ছিলেন সর্বোত্তম ব্যক্তি, সর্বোচ্চ দানশীল, সবচেয়ে সাহসী। এক রাত্রে একটা শব্দের কারণে মদীনাবাসীরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। লোকেরা শব্দের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসুল (সাঃ) ফিরে আসার পথে তাদের দেখা পেলেন। তিনি তাদের আগেই শব্দের কাছে চলে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আবু তালহার ঘোড়ায় এবং তার তার কাধে ঝুলছিল খোলা তরবারী। তিনি তাদেরকে বলছিলেন, অবস্থা শান্ত!! অবস্থা শান্ত!! [ক্ষতিকর কোন কিছুর সম্ভাবনা নেই]। তিনি বলেন: আমরা তাকে পেয়েছি সমুদ্রের মত অথবা তিনি ছিলেন সমুদ্র [সমুদ্রের বেগে এগিয়ে যেতেন]। তিনি বলেন: ঘোড়াটিও ছিল খুবই ধীরগতিসম্পন্ন।(মুসলিম-২৩০৭, ইবনে মাজাহ-২৭৭২, মুসনাদে আহমাদ-১৩৮৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৬৩৬৯,বায়হাকীঃ সুনানুল কুবরা-১৮৫৬০)

৪। সহনশীলতাঃ আর তা হল নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা; ব্যক্তির কথা কিংবা কাজ থেকে অপছন্দনীয় কোন কিছু যেন পাওয়া না যায়। এরই নাম সহনশীলতা।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي المَسْجِدِ، فَثَارَ إِلَيْهِ النَّاسُ ليَقَعُوا بِهِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعُوهُ، وَأَهْرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ، أَوْ سَجْلًا مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ»
অর্থাৎ, একজন বেদুঈন মসজিদে পেশাব করেছিল। লোকেরা তার উপরে হামলে পড়ার জন্য ফুসে উঠলে রাসুল (সাঃ) তাদেরকে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও!! আর তার পেশাবের উপর বালতি ভর্তি পানি অথবা বালতি দিয়ে পানি ঢেলে দাও। কেননা, তোমরা সহজ করার জন্য প্রেরিত হয়েছো, কঠিন করার জন্য প্রেরিত হওনি। (বুখারী-৬১২৮, সহীহ ইবনে হিব্বান-১৪০০)

অন্য হাদীসে এসেছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ وَأَصْحَابُهُ مَعَهُ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُهُ: مَهْ مَهْ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تُزْرِمُوهُ دَعُوهُ، ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ: ” إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنَ الْقَذَرِ وَالْبَوْلِ وَالْخَلَاءِ، أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّمَا هِيَ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللهِ وَالصَّلَاةِ “. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ مِنَ الْقَوْمِ: ” قُمْ فَأْتِنَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ، فَشُنَّهُ عَلَيْهِفَأَتَاهُ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَشَنَّهُ عَلَيْهِ-
অর্থাৎ, হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসুল (সাঃ) একবার সাহাবীদের সাথে মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন বেদুঈন এসে সেখানে পেশাব করা শুরু করলে সাহাবীরা তাকে ধমক দিয়ে থামতে বললেন। রাসুল (সাঃ) বললেন: তাকে ছেড়ে দাও; বাধা সৃষ্টি করো না [পেশাবে বাধা সৃষ্টি করলে বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে]। তারপর তিনি তাকে ডেকে বললেন: এগুলো মসজিদ; এস্থান অপবিত্রতা কিংবা পেশাব পায়খানার জন্য উপযুক্ত নয়। অথবা তিনি বলেছেন: সেটা কুরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর যিকির ও নামাজের স্থান। অতঃপর রাসুল (সাঃ) কওমের একজন লোককে বললেন, তুমি পানি ভর্তি একটা বালতি নিয়ে আসো। এরপর এর উপর ঢেলে দাও। তিনি বালতিতে পানি এনে তার উপর ঢেলে দিলেন। (মুসনাদে আহমাদ- ১২৯৮৪; হাদীসটি সহীহ)

৫।দানশীলতাঃ মুহাম্মাদ(সাঃ)এর দানশীলতা ছিল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী।তিনি নিজের কাছে কিছু থাকলে কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না।তিনি একসময় ইয়েমেনী একসেট পোশাক পরেছিলেন।একজন এসে পোশাকটা চাইলে তিনি বাড়ীতে গিয়ে সেটা খুলে ফেললেন।এরপর সেটা লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন।তার কাছে কেউ কিছু চাইলেই তিনি তা দিয়ে দিতেন।একবার একজন লোক তার কাছে এসে ছাগল চাইলে তিনি তাকে প্রচুর পরিমাণ ছাগল দিয়েছিলেন।যা দুই পাহাড়ের মধ্যকার স্থান পূর্ণ করে ফেলবে।এরপর লোকটা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল:হে আমার সম্প্রদায়!!! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর।আল্লাহর কসম!!মুহাম্মাদ(সাঃ)এত বেশী পরিমাণে দান করেন যে কখনও দারিদ্রতার ভয় করেন না।

মুসলিম শরীফে এসেছে:
عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: ” مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْإِسْلَامِ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ، قَالَ: فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ، فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ، فَقَالَ: يَا قَوْمِ أَسْلِمُوا، فَإِنَّ مُحَمَّدًا يُعْطِي عَطَاءً لَا يَخْشَى الْفَاقَةَ
অর্থাৎ,হযরত মুসা বিন আনাস (রাঃ)হতে বর্ণিত,তিনি তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল(সাঃ)এর ক্ষেত্রে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি যে,কেউ তার কাছে কিছু চেয়েছে অথচ,তিনি তা দেননি।তিনি বলেন:একবার তার কাছে একজন লোক আসলে তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মাঝের ছাগল [এত বেশী পরিমাণ ছাগল দিয়ে দিলেন যা দুই পাহাড়ের মধ্যস্থান পরিপূর্ণ করে দেবে]দিয়ে দিলেন।অতঃপর লোকটি নিজের সম্প্রদায়কে বলল:হে আমার সম্প্রদায়!!তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর।কেননা,মুহাম্মদ (সাঃ)এত বেশী পরিমাণে দান করছেন যে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোন ভয় করেন না।(মুসলিম শরীফ-২৩১২)

হযরত আনাস(রাঃ)বলেন,লোকটি রাসুল(সাঃ)এর কাছে শুধুমাত্র দুনিয়াবী স্বার্থের জন্যই এসেছিল।কিন্তু,সন্ধাবেলা এমন অবস্থার সৃষ্টি হল যে,রাসুল (সাঃ)এর আনীত দ্বীন উক্ত ব্যক্তির কাছে পৃথিবী ও তার মধ্যকার সমস্ত জিনিসের চেয়ে বেশী প্রিয় ও সম্মানিত বলে গণ্য হল।(মুসনাদে আহমাদ-১৪০২৯;হাদীসটি সহীহ)

৬।ন্যায়বিচারঃ রাসুল(সাঃ)এর ন্যায় বিচারের অনেক প্রমাণ রয়েছে।তন্মধ্যে এখানে মাখজুমী গোত্রের একজন মহিলার ঘটনা উল্লেখ করব।চুরির কারণে তার উপর শাস্তিস্বরূপ হাত কাটার বিধান বাস্তবায়ন করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।কেননা,মহিলা ছিল উচ্চ বংশীয় লোক।সাহাবীগণ তার ব্যাপারে সুপারিশ করার জন্য রাসুল(সাঃ)এর কাছে তার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হযরত উসামা(রাঃ)কে পাঠিয়ে দিলেন।

তিনি সুপারিশ করলে রাসুল(সাঃ)তাকে বলেছিলেন:
أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ» ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ، قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا ضَلَّ مَنْ قَبْلَكُمْ، أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ الضَّعِيفُ فِيهِمْ أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَرَقَتْ لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا»
অর্থাৎ,তুমি কি আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত করে দেয়া শাস্তি সম্বন্ধে সুপারিশ করছো???!!! তারপর তিনি বক্তৃতা করলেন।বক্তৃতায় বললেন:হে মানষেরা!!তোমাদের পুর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়ে গেছে।তারা সম্মানী বংশের কেউ চুরি করলে তাদেরকে ছেড়ে দিত এবং দুর্বলেরা চুরি করলে তাদের উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম!!! যদি মুহাম্মাদ (সাঃ)এর মেয়ে ফাতেমাও চুরি করত,তবুও মুহাম্মাদ(সাঃ)তার হাত কেটে দিতেন।(বুখারী-৬৭৮৮,একই অর্থে ৪৩০৪,৩৪৭৫, মুসলিম-১৬৮৮,আবু দাউদ-৪৩৭৩, তিরমীজি-১৪৩০, নাসায়ী-৪৮৯৯,৪৯০২, ইবনে মাজাহ-২৫৪৭, দারেমী-২৩৪৮, সহীহ ইবনে হিব্বান-৪৪০২, বায়হাকীঃ সুনানুস সাগীর-২৬৪৩, বায়হাকীঃ সুনানুল কাবির-১৭১৫৫)

৭।লজ্জাশীলতাঃ হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ)বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ العَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا، فَإِذَا رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ»
অর্থাৎ, ঘরের ভিতরে অবস্থানকারিনী কুমারী মেয়ের চেয়েও রাসুল(সাঃ) বেশী লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোন কিছু দেখে অপছন্দ করতেন তখন তার চেহারা দেখেই আমরা বুঝতে পারতাম। (বুখারী-৬১০২, ৩৫৬২, ৬১১৯, মুসলিম-২৩২০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা-২৫৩৪৬, মুসনাদে আহমাদ-১১৬৮৩,১১৮৬২, সহীহ ইবনে হিব্বান-৬৩০৮, বায়হাকীঃ সুনানুল কুবরা-২০৭৮৬)

৮। দোষ ঘোষণা না করাঃ হযরত আয়েশা(রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) এর কাছে কোন ব্যক্তির অপছন্দনীয় কোন কাজের সংবাদ আসলে তিনি বলতেন না, অমুকের কি হল যে এমন কথা বলছে? বরং বলতেন: কওমের কি হয়েছে যে, তারা এমন এমন কাজ করে কিংবা এমন এমন কথা বলে? তিনি নিষেধ করতেন কিন্তু, কে দোষের কাজটি করেছে তার নাম নিতেন না। (উয়ুনুল আসারঃ ২/৩৯৯)

৯। দুনিয়া বিমুখীতাঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَصِيرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ وِطَاءً، فَقَالَ: «مَا لِي وَلِلدُّنْيَا، مَا أَنَا فِي الدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا-

অর্থাৎ, রাসুল (সাঃ) নলখাগড়া জাতীয় গাছের পাতা দিয়ে তৈরি করা বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন। এতে তার শরীরে দাগ হয়ে গেলে আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)!! আমরা আপনার জন্য ভাল কোন বিছানার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। অতঃপর রাসুল (সাঃ) বললেন: আমার দুনিয়ার প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। আমি দুনিয়াতে একজন পথচারী ছাড়া আর কিছুই নই। যে পথচারী একটা গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে একটু পরে সেটা ছেড়ে চলে যায়। (তিরমীজি-২৩৭৭; হাদীসটি সহীহ)

১০। উত্তম সঙ্গঃ হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ، وَاللهِ مَا قَالَ لِي: أُفًّا قَطُّ، وَلَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ: لِمَ فَعَلْتَ كَذَا؟ وَهَلَّا فَعَلْتَ كَذَا؟
অর্থাৎ, আমি রাসুল (সাঃ) কে দশ বছর সেবা করেছি। আল্লাহর কসম!! তিনি আমাকে কখনও উফ [ধমক বাচক শব্দ] পর্যন্ত বলেননি। আর তিনি আমাকে কোন কাজের জন্য বলেননি কেন এমন করলে এবং এমন কেন করলে না? (মুসলিম-২৩০৯, দারেমী-৬৩, একই অর্থেঃ সহীহ ইবনে হিব্বান-২৮৯৩, ২৮৯৪)

১১। নম্রতাঃ রাসুল (সাঃ) যখন মক্কা বিজয় করে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করছিলেন তখন আল্লাহ্‌ তায়ালার সামনে বিনম্রতায় এতটাই অবনত হয়েছিলেন যে তার দাড়ি তার বাহন উটটির চুটকে স্পর্শ করার উপক্রম হয়েছিল। অথচ, তখন তিনি ছিলেন এমনই এক পরিস্থিতিতে যখন অধিকাংশ রাজা বাদশাহ ও মণীষী স্বভাবতই অহংকার করে থাকে।

ওয়া সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

 

কৃতঞ্জতায়:

মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক (আরবী)     

দাউদিয়া আলিয়া মাদরাসা,দক্ষিন সুরমা,সিলেট ।  http://[email protected]

 

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট