সহকারী অধ্যাপক
১৩ জানুয়ারি, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
সাফা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্হিত এ স্হানটিকেই দারুল আরকামের স্হান বলে ধারনা করা হয় । সেই ঘরে রাসূল্লাহ (সা) মুসলিমদেরকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিতেন। প্রকৃতপক্ষে এই দারুল আরকামই মুসলিমদের প্রথম শিক্ষালয়। এখানেই উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন বলে ধারনা করা হয়।
হামজার ইসলাম গ্রহণ
ইসলাম প্রচারের ৬ষ্ঠ বছর। মুসলিমদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। একদিন আবু জাহেল আল্লাহর রাসূলের (সা) সংগে দুর্ব্যবহার করে। সেই সময় হামজা ছিলেন শিকারে। শিকার থেকে ফিরে এসে তিনি এই ঘটনা শুনতে পান। মুহাম্মাদের (সা) প্রতি দুর্ব্যবহার। এটা তিনি কিছুতেই সহ্য করতে পারলেন না। শিকারের তীর ধনুক তখনো তাঁর হাতে। এইগুলো নিয়েই তিনি ছুটলেন কাবার দিকে। আবু জাহেলকে পেলেন ওখানে। তীব্র ভাষায় বকলেন তাকে। তারপর ঘোষণা করলেন, আমিও ইসলাম গ্রহণ করলাম।
উমারের ইসলাম গ্রহণ
উমার ছিলেন কট্টর ইসলাম-বিরোধী। একদিন তিনি মুহাম্মাদ (সা) কে উত্যক্ত করার জন্য বের হন। আল্লাহর রাসূল (সা) কাবার নিকট সালাত আদায় করছিলেন। সালাতে তিনি আল্লাহর বাণী পড়ছিলেন। উমার নিকটে দাঁড়িয়ে তা শুনতে থাকেন। তাঁর মনে দোলা লাগে। তিনি সরে পড়েন সেখান থেকে। মন আবার কঠিন করে নেয়।
একদিন তিনি আল্লাহর রাসূল (সা) কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে খোলা তলোয়ার হাতে নিয়ে বের হন। পথে এসে শুনেন তাঁর বোন ফাতিমা ও তাঁর স্বামী মুসলিম হয়ে গেছেন। উমার ভীষণ রেগে যান। সোজা এসে পৌঁছেন বোনের বাড়ী। তাঁরা তখন আল্লাহর বাণী পড়ছিলেন। উমারকে দেখে তাঁরা তাড়াতাড়ি আল কুরআনের অংশটুকু লুকিয়ে ফেলেন। তোমরা নাকি বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছো? বলেই উমার ভগ্নিপতিকে মারতে শুরু করেন। ফাতিমা স্বামীর সাহায্য এগিয়ে আসেন। উভয়ে আহত হন। শরীর থেকে গড়িয়ে পড়তে থাকে তাজা খুন। তাঁরা বলেন, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। তোমার কোন অত্যাচরই আমাদেরকে এই পথ থেকে সরাতে পারবে না। এবার উমার জানতে চাইলেন তাঁর কি পড়ছিলেন। ফাতিমা আল কুরআনের অংশটুকু তাঁর হাতে দিলেন। এতে সূরা ত্বা-হা লিখা ছিলো। তিনি পড়তে শুরু করেন।
আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া আর কোন ইলাহা নেই। অতএব আমারই ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণের জন্য ছালাত বা নামায কায়েম কর। সূরা তা-হা : ১৪।
এই আয়াত পর্যন্ত পড়ার পর উমারের মনে ইসলামের আলো জ্বলে উঠলো। তিনি বলে উঠলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আল্লাহর রাসূল (সা) তখন দারুল আরকামে। উমার সোজা সেখানে গেলেন। আল্লাহর রাসূল (সা) বলেলেন, কেন এসেছো, উমার? তিনি জবাব দিলেন, ইসলাম গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে। মুহাম্মাদ (সা) বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার। সমম্বরে মুসলিমরা বলে উঠলেন, আল্লাহু আকবার। এটাও ইসলামী দাওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরের ঘটনা।
ওমরের রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের জন্য বড় বিজয় ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ফারুক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে সত্য ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করেছেন।