সহকারী শিক্ষক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ পঞ্চম
অধ্যায়ঃ পঞ্চদশ অধ্যায়
বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটা প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে। সে সব স্থানের নাম তোমরা হয়তো জানো, যেমন ময়নামতি, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর। এগুলোর কোনোটি হয়তো তুমি দেখেও থাকবে। সেগুলো সবই মাটির উপরে, ঢিবির আকারে, তাই সহজে দূর থেকেই দেখা যায়। কিন্তু এদেশে মাটির নিচে রয়ে গিয়েছিল এক প্রাচীন নগর সভ্যতা। আজকে সেটার কথাই বলব।
কুমিল্লার লালমাই আর বরেন্দ্র অঞ্চল, দিনাজপুর-নওগাঁ-বগুড়ার পাহাড়পুর এবং মহাস্থানগড়ের মতো মধুপুরগড় টাঙ্গাইল-গাজীপুর-নরসিংদীর অধিকাংশ ভূমির গঠন একই রকম যা মধুপুরগড় নামে পরিচিত। মৃত্তিকা বৈজ্ঞানিকগণ বলেন, এই অঞ্চলের মাটি হাজার-হাজার বছরের পুরানো। তুমি ধরেই নিতে পার যে, আজ থেকে বহু-বহু বছর আগে আমাদের এই দেশের ভূপৃষ্ঠ ঠিক এই রকম ছিল না। আসলে, খ্রিস্টপূর্ব সাত থেকে ছয় শতকে বর্তমানের গঙ্গা নদীর তীরে সুসভ্য জন-মানুষের বসতি ছিল। এখানে ছিল সুন্দর নগরী। মানচিত্রে দেখতে পার। এখনকার নরসিংদী দিয়ে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। ১৭৭০ সাল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র প্রবাহ ময়মনসিংহ পেরিয়ে বেলাবর কাছে দক্ষিণ দিকে গিয়ে প্রাচীন সোনারগাঁ নগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছিল।
উয়ারী-বটেশ্বর ঢাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। আসলে উয়ারী ও বটেশ্বর পাশাপাশি দুটি গ্রাম। এই দুই গ্রামে প্রায়ই বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া যেত। ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে শ্রমিকরা মাটি খনন করার সময় একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা পায়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ পাঠান সেখান থেকে ২০-৩০ টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এগুলো ছিল বঙ্গদেশের এবং ভারতের প্রাচীনতম রৌপ্যমুদ্রা। সেটাই ছিল উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের প্রথম চেষ্টা। তিনি তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠানকে এ সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন। ১৯৫৫ সালে বটেশ্বর গ্রামের শ্রমিকরা দুটি লৌহপিণ্ড ফেলে যায়। ত্রিকোণাকার ও একমুখ চোখা ভারী লোহার পিণ্ডগুলো হাবিবুল্লাহ বাবাকে নিয়ে দেখালে তিনি অভিভূত হন। ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামের মাটি খননকালে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার একটি ভাণ্ডার পান। তাতে চার হাজারের মতো মুদ্রা ছিল। ১৯৭৪-৭৫ সালের পর থেকে হাবিবুল্লাহ উয়ারী-বটেশ্বরের প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরে জমা দেন। অনেক পরে ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় খনন কাজ। খনন করে পাওয়া যায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগর, ইটের স্থাপত্য, বন্দর, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক, মূল্যবান পাথর, পাথরের বাটখারা, কাচের পুঁতি, মুদ্রাভাণ্ডার। মুদ্রাগুলো ভারত উপমহাদেশের মধ্যে প্রাচীনতম। এ থেকে বিশেষজ্ঞদের ধারণা মাটির নিচে থাকা এই স্থানটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো।