Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৪ আগস্ট, ২০২১ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

চতুর্থ খলিফা হযরত আলী

আলী ইবনে ʾআবী ত়ালিব (আরবিعَلِيّ ٱبْن أَبِي طَالِب‎, প্রতিবর্ণী. ʿAlī ibn ʾAbī Ṭālib‎; ১৩ সেপ্টেম্বর ৬০১ – ২৯ জানুয়ারি ৬৬১)[৫][৬] ছিলেন ইসলামের নবী মুহম্মদের চাচাতো ভাই, জামাতা ও সাহাবি যিনি ৬৫৬ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলিফা হিসেবে মুসলিম বিশ্ব শাসন করেন। সুন্নি ইসলাম অনুসারে তিনি চতুর্থ ন্যায়নিষ্ঠ খলিফা। শিয়া ইসলাম অনুসারে তিনি মুহম্মদের ন্যায্য স্থলাভিষিক্ত ও প্রথম ইমাম[১১][১২][১৩][১৪][১৫] তিনি আহল আল-কিসা ও আহল আল-বাইতের একজন সদস্য।

আলী ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেন।[১৬] তাঁর পিতা ছিলেন আবু তালিব ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং মাতা ফাতিমা বিনতে আসাদ[৪][১৭] তিনি ছিলেন মুহম্মদের নিকট ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম পুরুষ।[১৮][১৯] আলী তাঁর প্রারম্ভিক জীবন থেকেই মুহম্মদের প্রতিরক্ষায় কাজ করেন[২০] এবং ক্রমবর্ধমান মুসলমানদের প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মদীনায় হিজরতের পর তিনি নবীর কন্যা ফাতিমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[৪][২১][২২] তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান মিশরীয় বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হলে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে আলী চতুর্থ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন।[২৩][২৪] তাঁর শাসনামলে প্রথম ফিতনা সংঘটিত হয় এবং ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে মসজিদ আল-কুফায় নামাজরত অবস্থায় তিনি এক খারিজি গুপ্তঘাতকের আক্রমণের শিকার হয়ে শাহাদতবরণ করেন।[২৫][২৬][২৭]

আলী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের নিকট গুরুত্বপূর্ণ।[২৮] আলী সম্পর্কিত অসংখ্য আত্মজৈবনিক সূত্র প্রায়শই সাম্প্রদায়িক ধারায় পক্ষপাতদুষ্ট, তবে তারা একমত যে তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান, ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এবং কোরআন ও সুন্নাহর অনুসারী ন্যায়পরায়ণ শাসক।[৫] সুন্নিরা যেখানে আলীকে চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে, শিয়ারা সেখানে তাঁকে নবীপরবর্তী প্রথম খলিফা ও ইমাম হিসেবে গণ্য করে। শিয়া মুসলমানেরা আরও বিশ্বাস করে যে, আলী ও অন্য ইমামগণ—যাদের সকলেই মুহম্মদের পরিবার তথা আহল আল-বাইতের অন্তর্ভুক্ত—হলেন মুহম্মদের ন্যায্য উত্তরাধিকারী।

শিশু বয়স থেকেই আলী মুহাম্মদের কাছে লালিত-পালিত হন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি সর্বপ্রথম নবুয়তের ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম পুরুষ যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ও তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি মুহাম্মাদের সাথে নামাজ আদায় করেন। ইমাম আলী শুরু থেকেই মুহাম্মদের সুরক্ষায় কাজ করেছিলেন এবং মুসলমানদের প্রায় সকল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ তাঁকে জুলফিকার নামক তরবারি উপহার দেন। খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মুহম্মদ তাঁকে আসাদুল্লাহ বা “আল্লাহর সিংহ” উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া নবী করিম গাদীর খুমের ভাষণে তাঁকে মুমিনদের “মওলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।[

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট