Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৭ জুলাই, ২০২১ ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ

" খালি পেটে এক টুকরো হলুদ খান, দেখুন রোগমুক্তির যাদু! " , -সন্তোষ কুমার বর্মা,- সহকারী শিক্ষক, -ভান্ডারদহ জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট। মোবাইল- ০১৭৬৮৯২৬৬৫৮

হলুদ এমন একটি মসলা যা, আমিষ-নিরামিশ সব রান্নায় অতি প্রয়োজনীয়। এটা ছাড়া প্রায় সব খাবার ফ্যাকাশে দেখায়।  

আয়ুর্বেদের জন্মলগ্ন থেকেই হলুদের সঙ্গে এই শাস্ত্রের নাড়ির সম্পর্ক।  হাজার বছর আগেও তৎকালীন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানতেন প্রকৃতিক এ উপাদানটি হল পুষ্টিকর উপাদানের একটি পাওয়ার হাইজ, যাকে ঠিক উপায়ে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে শরীরকে নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকবে না। 

এমন ভাবা ভিত্তিহীন ছিল না, তা আজকের নানা গবেষণাতেও প্রমাণ মেলে। খবর বোল্ডস্কাইয়ের।বিশেষজ্ঞদের একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে, হলুদের অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্ট-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। সেই সঙ্গে মজুত রয়েছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজও, যা নানাভাবে শরীরকে মজবুত রাখতে এবং কঠিন থেকে কঠিনতর রোগ-ব্যাধিকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

শুধু তাই নয়, হলুদ পিরিয়ডের যন্ত্রণাও কমিয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা খালি পেটে এক কোয়া করে হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

ডায়াবেটিস কমায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সকালে উঠে কাঁচা হলুদ খেলে দেহের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না।  

ক্ষত সারায়: কাঁচা হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন এবং আরও নানা সব অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যে কোনো ধরনের ক্ষতের যন্ত্রণা কমায়। এটা আঘাত সারাতেও দারুণভাবে কাজ করে। এ কারণেই তো ছোট বাচ্চাদের নিয়মিত কাঁচা হলুদ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ক্ষতস্থানে অল্প পরিমাণে হলুদ বেঁটে লাগিয়ে দিলেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়। 

দেহের অন্দরে ইনফ্লেমেশনের মাত্রা কমায়: দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে শরীরে প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে নানান রোগ। তাই তো নিয়মিত হলুদ খাওয়া উচিত। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, যা প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মাথা যন্ত্রণা সারায়: এবার থেকে মাথা যন্ত্রণা হলেই এক কাপ হলুদ মেশানো দুধ খেয়ে নেবেন। দেখবেন কষ্ট কমেগেছে। হলুদের অন্দরে থাকা কার্কিউমিন এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি উপাদান শরীরের অন্দরে প্রদাহ কমায়। ফলে মাথা যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: ওয়েদার পরিবর্তনের সময় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পরে। এই কারণেই এই সময় নিয়মিত এক গ্লাস দুধে কয়েক চামচ হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। আসলে এই পানীয়টিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান, ইমিউনিটিকে মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে কোনও রোগই ধারে কাছে আসতে পারে না। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ খাওয়া শুরু করলে শরীরে বিশেষ কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এর ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। আর একবার মেটাবলিজম রেট বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়।  হলুদে কার্কিউমিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা শরীরে উপস্থিত ফ্যাট সেলেদের গলানোর মধ্যে দিয়ে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট