Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

জাফলংয়ের খাসিয়াপুঞ্জি, মায়াবী ঝরনা, ওপারের ডাওকি সিটি -ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস

জাফলংয়ের খাসিয়াপুঞ্জি, মায়াবী ঝরনা, ওপারের ডাওকি সিটি

ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস

 

এক পাশে উঁচু পাহাড় আর ঝরনার মিতালি। সমতলে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের পাথুরে পিয়াইন নদ। সিলেট জাফলংয়ের নয়নাভিরাম পিয়াইন নদ পেরোলেই দেখা মিলবে খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের জীবনধারা। বেশির ভাগ পর্যটকেরা সাধারণত জাফলং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঘুরে চলে আসেন। তবে আপনি চাইলে একটি দিন খাসিয়া জনপদে কাটাতে পারেন। আবার খাসিয়াদের বাড়িতে রাত যাপন করে তাঁদের জীবন-জীবিকা, খাওয়া-দাওয়া আর সংস্কৃতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন।

জাফলংয়ের সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে সেখানকার আধিবাসীদের জীবনধারা। খাসিয়া সম্প্রদায়ের একেকটি পাড়া বা মহল্লাকে পুঞ্জি বলা হয়। জাফলংয়ে খাসিয়া সম্প্রদায়ের পাঁচটি পুঞ্জি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে বল্লা, সংগ্রামপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি ও প্রতাপপুর। পাঁচটি পুঞ্জিতে প্রায় আড়াই হাজার খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী পার হয়েই শুরু হয়েছে একটি বাজার। তারপর সংগ্রামপুঞ্জি সুপারি বাগান, খাসিয়া রাজার বাড়ি ও এ সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি-জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে আঁকাবাঁকা সরুপথ দিয়ে যেতে হবে সমতল ভূমির চাবাগান।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে সিলেট। এখানে রাত কাটিয়ে তবে আপনাকে কোনো একসময় রওনা হতে হবে এই রুটে। সিলেট থেকে লোকাল বাস, সিএনজি কিংবা লেগুনায় করে জাফলং বাজারে। এখানে আপনাকে মামার বাজারে নামিয়ে দেবে। ওখান থেকে জাফলং জিরো পয়েন্টের দিকে হেঁটে যেতে হবে কিছুক্ষণ আর বর্ষাকালে খেয়া নৌকার ব্যবস্থা আছে। এরপর জাফলং জিরো পয়েন্ট পার হয়ে সোজা মিনিট বিশেক পশ্চিম দিকে হাঁটলে সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা দেখতে পাবেন। তবে এদিক দিয়ে গেলে খাসিয়াপল্লীর বাগান দেখতে পারবেন না। খাসিয়াপুঞ্জিতে যেতে হবে দক্ষিণ দিকে। খসিয়াপুঞ্জির, চা বাগান, রাজার বাড়ি, পান-সুপারির বাগান বা ঝরনার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে হলে নদীর ওপারে ছোট্ট বাজার পেরিয়েই অটো রিজার্ভ করে নিতে হবে। এখান থেকে শেয়ারে অটো, শ্যালোচালিত যানবাহন পাওয়া যায়।

যেভাবে যাত্রা শুরু: গত ১৮ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় পুজার ছুটিতে ঢাকার কমলাপুর থেকে ‘পারাবাত’ ট্রেনে সকাল ৬টায় রওয়ানা হয়ে বেলা ২টায় আমরা সিলেট শহরে পৌঁছালাম। পরদিন ১৯ অক্টোবর সিলেট শহর থেকে আমাদের তিন বন্ধুর চার পরিবারের ১৬ জন ডেলিগেট ভোলাগঞ্জর ও  রাতারগুল ভ্রসণ করলাম। সিলেটে তিন দিনের সফরের তৃতীয় দিনে ২০ অক্টোবর আমাদের গন্তব্য ছিলো জাফলংয়ের খাসিয়াপুঞ্জি ও মায়াবী ঝরনা ভ্রমণ । আমরা পাশের একটি হোটেলে সকালের নাস্তা শেষ করে গাড়িতে উঠি।

জাফরং গিয়ে মামার ঘাট থেকে আমরা অটো ভাড়াসহ প্রতিজন দুইশত টাকার প্যাকেজ টিকিট নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে পিয়াইন নদী পার হলাম। আমরা ঘাটের ওপার গিয়ে লম্বা সিঁড়ি উপরে উঠলাম। অটোতে কিছু দূর যাওয়ার পর দেখতে পেলাম সংগ্রামপুঞ্জির খাসিয়া কমিউনিটি মিশন। এটি মূলত স্থানীয় খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়। এই চত্বরের পাশে একটি হোমস্টে চালু আছে। আরেকটু পথ এগোলেই নকশিয়াপুঞ্জি এরপর আমরা লামাপুঞ্জির দেখলাম। সারা দিন জাফলংয়ের খাসিয়াপুঞ্জি ও মায়াবী ঝরনা ভ্রমণ শেষে রাতে সিলেট শহরে পৌছালাম।

সংগ্রামপুঞ্জি: সংগ্রামপুঞ্জির বুক চিরে যাওয়া রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে পান-সুপারির সারি সারি বাগান দেখা যায়। সবুজের মাঝে পাখ-পাখালির ডাকাডাকি আপনাকে মুগ্ধ করবে। খাসিয়া সম্প্রদায় শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। পরিবার বা রাজার অনুমতি ছাড়া কথা কেউ বলতে চায় না। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দিনভর গাছ থেকে পান আহরণ করেন। আর মহিলারা সেগুলো কুচি করেন। এখানে পানপাতা সংগ্রহ ও খাঁচা ভর্তির দৃশ্যও মুগ্ধ করে পর্যটকদের। পানবরজ ছাড়াও খাসিয়া পল্লীতে দেখা যাবে কমলা বাগান। কাঁচা-পাকা কমলায় নুয়ে আছে বাগানের গাছ।

খাসিয়াদের এক পুঞ্জি থেকে আরেক পুঞ্জিতে যেতে পথের দুই ধারে সুপারি আর পানের বরজের দৃশ্য চোখে পড়বে। পুঞ্জিগুলোয় খাসিয়াদের বাড়িগুলো যেন ছবির মতো সাজানো রয়েছে। মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে মাঁচার ওপর দাড়িয়ে আছে একেকটি বাড়ি। কোনোটি বাঁশের তৈরি আবার কোনোটি পাকা বাড়ি। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিটি বাড়ি ও উঠান একদম ঝকঝকে পরিষ্কার। খাসিয়ারা স্বভাবগতভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করেন। আর প্রাচীনকালে জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে মাচার মতো উঁচু করে বাড়ি বানাতেন খাসিয়ারা। এখন জীবজন্তুর ভয় না থাকলেও উঁচু করে বাড়ি বানানোর প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তাঁরা।

নকশিয়াপুঞ্জি: নকশিয়াপুঞ্জিতে গিয়ে পুঞ্জির হেডম্যান বা প্রধান ওয়েলকাম লাম্বা তাঁরা দুই ভাই মিলে দুটি হোমস্টে চালু করেছেন। ওয়েলকাম লাম্বা বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজম নিয়ে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছ থেকে যখন প্রথম প্রস্তাব পেয়েছিলেন, তখন তাঁরা কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে এখন তাঁদের ধারণা বদলে গিয়েছে। পর্যটকদের কল্যাণে এখন তাঁদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হচ্ছে। এ জন্য তাঁদের খুব বেশি বিনিয়োগেরও প্রয়োজন হয়নি। নিজেদের বাড়ির পড়ে থাকা দুটি কক্ষ তাঁরা ছিমছাম করে সাজিয়েছেন। সঙ্গে শৌচাগার–সুবিধা কিছুটা উন্নত করেছেন। সেখানেই এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এসে থাকছেন।

খাসিয়া পুঞ্জিতে মধ্যাহ্নভোজ সারতে পারেন, রমলা রেস্টুরেন্ট নামের একটি কমিউনিটি রেস্টুরেন্টে। এখানে পর্যটকেরা দেশি খাবারের পাশাপাশি খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যেমন বিন্নি চালের পোলাও, ডকলে (চিকেন সালাদ), বাঁশকোঁড়ল, কাঁঠাল-শুঁটকির তরকারি, সরওয়া (স্যুপ), চিকেন ভুনা ইত্যাদির স্বাদও নিতে পারবেন। এখানে প্রতিবেলা খেতে খরচ পড়বে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারাই এই রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন।

লামাপুঞ্জি: সময় হাতে থাকলে একে একে ঘুরে দেখতে পারেন, সাইকেল ট্র্যাকিং এরিয়া আর লামাপুঞ্জির সেলফি জোন। পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন ডুবতে বসবে, তখন লামাপুঞ্জি আলোকিত করে দিবে একদল খাসিয়া শিশু। খাসিয়া ভাষার গানের তালে তালে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে পর্যটকদের উদ্দেশে নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় ঘুরে দেখবেন কমিউনিটি মিউজিয়াম। যেখানে খাসিয়াদের ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, প্রাচীনকালের কৃষিকাজের ব্যবহৃত সামগ্রী, যুদ্ধের অস্ত্রের আদলে তৈরি মিনিয়েচার প্রদর্শন করা হয়।

আমরা অটোতে দক্ষিণ দিকের শেষ মাথায় গিয়ে খাসিয়া পুঞ্জিতে সিলেট অঞ্চলের বৃহত্তম সমতল ভূমির চা–বাগান হিসেবে খ্যাত খসিয়া চা–বাগান ঘুরে দেখলাম। এর একটু দক্ষিণ-পশ্চিমে দিকে গিয়ে একজন খাসিয়া পানচাষির সঙ্গে দেখা হলো। এখানে সরাসরি দেখলাম পানপাতা সংগ্রহের প্রক্রিয়া। পানপাতা খাসিয়াদের কাছে পবিত্র একটি পাতা। তাই প্রতিদিন সকালে গোসল করে পবিত্র অবস্থায় পানচাষিরা এ কাজ করেন। পানবরজের ভেতরেই রয়েছে সুপারি আর দেশি কমলার গাছ। মূলত পান আর সুপারি খাসিয়াদের প্রধান আয়ের উৎস। তবে প্রথাগত এই কাজের পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমেও দিনবদলের স্বপ্ন দেখছে জাফলংয়ের এই খাসিয়া জনপদ।

হোমস্টে: গত বছরের জুলাই থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে জাফলংয়ের খাসিয়াপুঞ্জিতে চালু হয়েছে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’। এ উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে তিনটি পুঞ্জি বা পাড়ায় চারটি হোমস্টে চালু হয়েছে, যেখানে অন্তত ১৫ জন পর্যটক খাসিয়াদের বাড়িতে রাত যাপন করতে পারেন। খাসিয়াপুঞ্জিতে চালু হওয়া কমিউনিটি ট্যুরিজমের সেবা নিতে আপনাকে অন-লাইনে যোগাযোগ করে আসতে হবে। জাফলং জিরো পয়েন্টের বল্লার ঘাটে পৌঁছাতেই ট্যুরিজমের গাইডরা আপনাকে স্বাগত জানাবেন। গাইড হিসেবে যারা থাকবেন, তারা সবাই খাসিয়া সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী। এখানকার কিছু তরুণ-তরুণীরা পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে খাসিয়া জনপদে কমিউনিটি ট্যুরিজম চালু করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। আইএলওর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একাধিকবার কমিউনিটির বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কর্মশালা করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। খাসিয়াদের মধ্যে অনেকেই এখন নিজেদের বাড়িতে হোমস্টে সুবিধা চালুর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। নতুন ধারার এ পর্যটন চালুর পর কক্ষভাড়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন, একইভাবে স্থানীয় অটোরিকশাচালক, দোকানি, ট্যুর গাইড—সবাই পর্যটনের মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারছেন। যদিও বর্তমানে রাতযাপনের ব্যবস্থাটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রাতযাপনের অনুমতি নিতে হবে। তবে খাসিয়াপুঞ্জিতে কমিউনিটি ট্যুরিজম দিন দিন আরও বিস্তৃত চচ্ছে।

মায়াবী ঝরণা: সংগ্রামপুঞ্জির মায়াবী ঝরনা নবীন স্পট। কেউ কেউ সেনগ্রামপুঞ্জি ঝরনাও বলে। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ঝরণাটি দেখা যায়। শুকনা মেীসুমে মাত্র ২০ মিনিটের হাঁটার পথ। ভারত সীমান্তে ঝরনাটি বিএসএফের পাহরায় বাংলাদেশিরা চূড়া পর্যন্ত উঠতে পারেন। ঝরনার খানিকটা দূর থেকেই মেঘালয়ের পাহাড় বেয়ে বয়ে যাওয়ার গর্জন কানে আসবে। সামনে যেতেই চোখে পড়বে গাছ, পাথর আর পানির অপূর্ব মেলবন্ধন। পাহাড়ের গা-বেয়ে বেশ কয়েকটি ধারায় নেমে আসছে ফেনিল সাদা পানির স্রোত। কখনও সবুজ ঝোপের ভেতর দিয়ে, কখনওবা নগ্ন পাথরের বুক চিরে নেমে আসে এ পানি। প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ের কাছেই হাতছানি দিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের ডাকছে মায়াবী ঝরনা।

বর্ষাকালে জাফলংয়ের শীতল জলে শরীর ভেজানোর পর আরো কিছুক্ষণ ভিজতে মন চাইবে। জিরো পয়েন্ট থেকেই দেখা যায় সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। হেঁটেই তপ্ত বালু পার হয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। কাছে গিয়ে নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এখানকার সৌন্দর্য। ঝর্ণার কাছে এসে একটু থমকে তবে উঠতে চেষ্টা করবেন পাহাড়ের গা ঘেঁষে বেড়ে ওঠা পাথুরে এ ঝর্ণায়। একদম পাহাড়ের ওপর থেকে শুরু হওয়া জলপ্রপাতের বড় পাথরের কারণে প্রথমে ভাগ হয়ে গেছে দুই ভাগে। দুই ভাগ থেকে চার ভাগে। এভাবে লম্বা একটা সময় বিভিন্ন খণ্ডে ভাগ হয়ে শেষ হয়েছে একটা ছোট্ট তীব্র, সুন্দর ঝর্ণার মধ্য দিয়ে। নিচের সেই ছোট ঝর্ণায়ও একসঙ্গে পাঁচ-ছয়জন দাঁড়িয়ে গোসল করা যায়। এ এক অপূর্ব দৃশ্য। বড় বড় পাথর এমনভাবে সাজানো যেন মনে হয় সিঁড়ি। পাথুরে ঝর্ণাবেষ্টিত এই সিঁড়ি বেয়ে প্রথমেই একেবারে পাহাড়ের ওপরে ঝর্ণাটার কাছে চলে যায় যে কেউ।

ওপারের ডাউকি সিটি: বাংলাদেশের জাফলং থেকে দৃশ্যমান ভারতের ডাউকি শহরের দৃশ্য এক কথায় অসাধারণ। ডাউকি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম ‘জৈন্তিয়া’ পাহাড় এলাকায় অবস্থিত একটি পর্যটন শহর। পুরো শহরটি এক বিশাল পাহাড়ের উপর অবস্থিত। খাড়া পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বিশাল অট্টালিকা বানিয়ে গোড়ে তোলা হয়েছে এক বিশাল শহর। রংবেরঙের বহু অট্টালিকা মিলে গড়ে উঠেছে এক শহর, যা বাংলাদেশের জাফলং থেকে দৃশ্যমান এবং এই দৃশ্য এককথায় অসাধারণ যা আপনার চোখ জুড়িয়ে দিবে। দিনে বেলা দূর পাহাড়ে ছোট ছোট ঘর দেখা গেলেও এগুলো আসলে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এছাড়াও রাতের ডাউকি শহরের দৃশ্য এক অন্যরকম অনুভুতি দিবে আপনাকে। যা ছবিতে কোন ভাবেই বঝানো সম্ভব না। আমি তামাবিল হয়ে দার্জেলিং যাওয়ার পথে এ শহরে একদিন অবস্থান খুব ভাবে দেখেছিলাম।

সমাপনী: শহুরে খোলস ছেড়ে প্রকৃতির মহানুভবতার কাছে আত্মসমর্পণের এই তো সুযোগ! বাইরে কড়া রোদেও সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা যেন সাদরে বরণ করে নিতে চায় আমাদেরকে তার অপরূপ স্নিগ্ধতা দিয়ে। এ এক শান্তির পরশ, অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধতার পালা। এখানে এলে সময় যেন আপেক্ষিক হয়ে যায়। হৈ-হুল্লোড়, সেলফি আর পাথুরে সিঁড়িতে ঝর্ণার স্বাদ নিতে নিতে কখন যে ফেরার সময় হয়ে গেলো, টেরই পেলাম না! ফিরতি পথে নৌকায় আবার জাফলং জিরো পয়েন্টের দিকে। মিনিট বিশেকের মধ্যেই জাফলং জিরো পয়েন্ট। রাতে ওপারের ডাওকি সিটির মনোরম দৃশ্য দেখতে পেলাম। মতিউল ভাই ও নূরুজ্জামান ভায়ের রংপুর ফেরার বাস রাত সারে আটটা। তাই তারাহুরা করে গাড়ীতে উঠা, তারপর নিজ গন্তব্যে রওয়ানা। সময়ের ব্যবধানে হয়তো অনেক জায়গায় যাওয়া হবে; কিন্তু সংগ্রামপুঞ্জি ও মাযাবী ঝর্ণায় যদি না আসেন, রাতের ডাউকি শহরের দৃশ্য যদি না দেখেন, তাহলে জাফলং ভ্রমণটা অপূর্ণই থেকে যাবে।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক জীবনকথা ও রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সিক্স’২৪ বিজয়ী ট্রাভেলার।

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ