সহকারী শিক্ষক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মোস্তাফিজুর রহমান
নওগাঁর মান্দার কুসুম্বায় ইতিহাস দাঁড়িয়ে রয়, পাথরজুড়ে শতাব্দীর শিল্প আজও কথা কয়। গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহের শাসনামলের কালে, নয়শ ছেষট্টি হিজরিতে, পঞ্চান্ন-আটের সনে— সুলায়মানের উদ্যোগে গড়ে অনন্য ইমারত, সময়ের বুকে রেখে গেছে শিল্পের অমর স্বাক্ষর।
ইটের গাঁথুনি, পাথর-মোড়া দেয়াল তার গায়, খিলান, গম্বুজ, কারুকাজে মুগ্ধতা ছড়ায়। চার কোণে চার অষ্টকোণী বুরুজ মাথা তুলে, অলংকরণের রেখা যেন ইতিহাসের ফুলে। আয়তাকার এ স্থাপত্যে বাংলার শিল্পরীতি, পাথরখোদাই নকশায় মেলে কারিগরের প্রীতি।
পূর্ব প্রাচীরে তিনটি খিলান—প্রবেশপথের সারি, ভেতরজুড়ে পাথরস্তম্ভ, শিল্পের অনুপম কারুকারি। দুই আইল আর তিন বে-তে গড়া অন্তরাল, ছয়টি গম্বুজ ছায়া ফেলে, স্থাপত্য অতুলনীয় কাল। পশ্চিম দেয়ালে তিন মিহরাব, নকশায় মনোহর, প্রার্থনার নীরবতায় জাগে ইতিহাসের স্বর।
লতাপাতা, ফুলের নকশা, জ্যামিতির জাল, পাথরজুড়ে শিল্পীর হাতে সময় হয় উজ্জ্বল। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য যেন পাথরে লেখা গান, কুসুম্বা মসজিদে আজও জাগে অতীতের সম্মান। কত যুগ পেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের দ্বার— বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যে সে অমূল্য উপহার।
#mostafezur_rahman_
১
২ মন্তব্য