প্রভাষক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ
‘টিচার্স আর দ্য গার্ডিয়ান্স অব সিভিলাইজেশন’ শিক্ষকরা সভ্যতার অভিভাবক। কোনো এক মনীষী বলেছেন, ‘শিক্ষাদান করা রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়েও কঠিন কাজ।’ আর সে কঠিন কাজটি যিনি করেন তার নামই শিক্ষক। শিক্ষা কেবল একটি জাতির বর্তমানকে আলোকিত করে না; এটি একটি জাতির অতীতকে তৈরি করে এবং তার ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। আর সেই হাতিয়ারের প্রধান কারিগর শিক্ষক। একটি শিশুর হাতে খড়ি দেওয়া এবং হাতে বই তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে তার চিন্তাশক্তি, মূল্যবোধ, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ-প্রতিটি স্তরেই শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ বাংলাদেশে শিক্ষকের পেশাগত মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। নিজেদের পেশাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে এখনো শিক্ষকদের ভূমিকা খুবই কম। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বিগত ৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হলো। এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রূপদান”। এই স্লোগানটি শিক্ষকতা পেশার বর্তমান বাস্তবতায় অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে। এবারের প্রতিপাদ্য মূলত আমাদের গভীরভাবে ভাবিত করেছে এবং আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে: আমরা যদি শিক্ষকদের পাশে না দাঁড়াই, তাদের মর্যাদা সমুন্নত না করি, ভবিষ্যৎ নিরাপদ না করি, তাহলে তারা কীভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবেন, কীভাবে জাতি গড়বেন, কীভাবে সভ্যতার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন?
১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ অক্টোবর ইউনেসকো ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) যৌথভাবে রেকমেনডেশন কানসার্নিং দ্য স্ট্যাটাস অব টিচার্স গ্রহণ করে। শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে এটিই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দলিল ও মানদন্ড । ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো এবং আইএলওর এই ঐতিহাসিক সুপারিশের ৬০ বছর পূর্তি হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষকতা পেশা আজ নতুন বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং ক্রমবর্ধমান কর্মচাপ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা শিক্ষকতার প্রকৃতি ও শিখনের ধরন বদলে দিচ্ছে। অতএব, শিক্ষক দিবসে ছয় দশক আগের সেই দলিলকে শুধু বাস্তবায়ন করা নয় বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের শিক্ষকতার জন্য উপযোগী করে নতুন সুপারিশমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা উচিত।
বাংলাদেশের শিক্ষক সমিতিগুলো শিক্ষকের অধিকারকে কেবল বেতন-ভাতা, মর্যাদা ও চাকরির নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়; কিন্তু ইউনেসকো-আইএলওর ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের সুপারিশমালার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক প্রশস্ত। সেখানে শিক্ষকের উপযুক্ত বেতন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ, পেশাগত স্বাধীনতা, ন্যায়সংগত মূল্যায়ন এবং নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষককে অন্য সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে তুলনীয় জীবনযাত্রার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সুপারিশমালায় শিক্ষকের পেশাগত স্বাধীনতার ধারণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ইউনেসকো-আইএলও সুপারিশ অনুযায়ী, শিক্ষকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থী মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ পেশাগত বিচারবোধ প্রয়োগের স্বাধীনতা শিক্ষকদের রয়েছে। শিক্ষককে কেবল উপর মহলের নির্দেশ বাস্তবায়নকারী কর্মী হিসেবে দেখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ এতে তার পেশাগত সৃজনশীলতা, বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা বস্তুনিষ্ঠ, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সংগত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যায্য মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকাও উচিৎ-মর্মে মতামত দেওয়া হয়েছে। কারণ একজন ভালো শিক্ষক কখনো দায়িত্বহীন স্বাধীনতা চান না। তিনি চান বিশ্বাসভিত্তিক পেশাগত স্বাধীনতা। তিনি চান ন্যায্য ও উন্নয়নমুখী জবাবদিহি। বর্তমান সমাজে আর্থিক নিরাপত্তা হচ্ছে সম্মান ও মর্যাদার অন্যতম বাস্তব ভিত্তি। শিক্ষক দিবসে একজন শিক্ষককে সমাজে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলা সহজ; কিন্তু সেই মর্যাদার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করা কঠিন।
একজন শিক্ষক যদি দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে আর্থিক অনিশ্চয়তা, আবাসন-সংকট, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের শিক্ষা এবং অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে কেবল মৌখিক ও আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দিয়ে তার পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা যায় না। ইউনেসকো-আইএলও সুপারিশ স্পষ্টভাবে বলেছে, শিক্ষকের বেতন এমন হওয়া উচিৎ যা তার সামাজিক দায়িত্ব ও যোগ্যতার গুরুত্ব প্রতিফলিত করবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে একটি যুক্তিসংগত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ওইসিডির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণও দেখা যায় যে, অধিকাংশ দেশে সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন অন্যান্য পেশাজীবীর তুলনায় শিক্ষকরা বেতনের দিক থেকে পিছিয়ে আছেন। সুতরাং শিক্ষককে “জাতি গড়ার কারিগর” বলার পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। শিক্ষকের পিছনে বিনিয়োগকে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর পিছনে বিনিয়োগ হিসাবে গণ্য করতে হবে। শিক্ষক হচ্ছেন মা আর শিক্ষা হচ্ছে তার সন্তান। মা না বাঁচলে, মায়ের শরীরে পুষ্টি না থাকলে সন্তান বাঁচবে কিভাবে কিংবা সন্তান সুস্থভাবে জন্ম নিবে কীভাবে?
শিক্ষকের মর্যাদা ও সু্যোগ সুবিধার ব্যাপারে বিশ্বের কিছু কিছু দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আমরা উদাহরণ হিসাবে অনুসরণ করতে পারি। বিশ্বের অন্যতম মানসম্মত শিক্ষার দেশ ফিনল্যান্ড। সেখানে শিক্ষকতা একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উচ্চমানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের ওপর সামাজিক আস্থার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বমানের। দেশটির শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে কম প্রশাসনিক চাপের মধ্যে কাজ করেন। শিক্ষককে প্রতিটি পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ না করে তার পেশাগত বিচারবোধের ওপর আস্থা রাখার সংস্কৃতি সেখানে দীর্ঘদিন থেকে গড়ে উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের কাঠামোর মধ্যে শিক্ষকরা পাঠদান ও শিক্ষণ-পদ্ধতিতে যথেষ্ট পেশাগত স্বাধীনতা ভোগ করেন।
প্রযুক্তিতে অন্যতম অগ্রসর আরেকটি উন্নত শিক্ষার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষকতা ঐতিহাসিকভাবে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো শিক্ষকতাই তাদের প্রথম পছন্দের পেশা। একই সঙ্গে কোরিয়ার শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বেশ স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ। তবে বিপরীত দিকও রয়েছে। মাত্র ২৯ শতাংশ শিক্ষক বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং প্রশাসনিক কাজ গড়ে সপ্তাহে ছয় ঘণ্টা, যা একটি উল্লেখযোগ্য চাপ। উচ্চ সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত আকর্ষণ থাকলেও কর্মচাপ ও পারিশ্রমিক নিয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কোরিয়াতেও রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে শিক্ষকরা নিজেদের চাকুরি নিয়ে সন্তুষ্ট । শিক্ষক হিসাবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মুল্যায়ন নিয়ে তারা সন্তুষ্ট । তাছাড়া ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সেখানে ৩৪ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন সমাজে শিক্ষকরা মূল্যায়িত হন। আরও উল্লেখযোগ্য, ৯৩ শতাংশ শিক্ষকের স্থায়ী চাকরির চুক্তি রয়েছে এবং ৫১ শতাংশ শিক্ষক তাদের বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট। ২০১৮ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বেতন-সন্তুষ্টি ১৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে এখানেও সবকিছু আদর্শ নয়: পূর্ণকালীন শিক্ষকরা সপ্তাহে গড়ে ৪৭ দশমিক ৫ ঘণ্টা কাজ করেন এবং প্রশাসনিক কাজ, নতুন নীতি ও পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন তাদের বড় চাপের উৎস।
এসব উদাহরণ হুবহু বাংলাদেশে অনুকরণ করা হয়তো এই মুহূর্তে সম্ভব হবে না। তবে এখানে মূল শিক্ষা হলো, যে রাষ্ট্র শিক্ষককে পেশাজীবী হিসেবে বিশ্বাস করে, তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আর শিক্ষকদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সেই রাষ্ট্র শিক্ষার ভিতও শক্তিশালী করতে পারে। শিক্ষকের মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে গেলে এসব উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে কোনো দেশের মডেলই হুবহু অনুকরণীয় নয়; বরং তাদের নীতি ও সংস্কৃতি থেকে নিজেদের বাস্তবতার উপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়।
বাংলাদেশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত শিক্ষক-নীতি প্রণয়ণ করা একান্ত জরুরী। পাশাপাশি শিক্ষক সুরক্ষা আইন এবং শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা দরকার যা শিক্ষকের মর্যদা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব-কর্তব্যের পরিসীমা নির্ধারন করবে। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে এবারের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে চাই তবে আমাদের নিম্নোক্ত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে। প্রথমত, শিক্ষকতার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে একজন শিক্ষক তার যোগ্যতা, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষককে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শিক্ষাকার্যক্রম বহির্ভূত দায়িত্ব থেকে মুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষকের প্রধান কাজ হল শেখানো, শিক্ষার্থীর বিকাশ এবং পেশাগত উন্নয়ন আর এর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণকে আনুষ্ঠানিকতা না বানিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক, ধারাবাহিক ও শ্রেণিকক্ষ-কেন্দ্রিক পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে; বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর মানসিক-সামাজিক-আবেগিক বিকাশের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছেন কিনা তা পরিমাপ করা যায়।
চতুর্থত, পদোন্নতি, পুরস্কার, বদলি ও কর্মমূল্যায়নে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
পঞ্চমত, শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই ও মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়নে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিৎ। কারণ শ্রেণিকক্ষের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবচেয়ে বাস্তব ও প্রত্যক্ষ জ্ঞান ঐ পর্যায়ের শিক্ষকদেরই রয়েছে। তাই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলাম বা পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন খুব একটা সুফল বয়ে আনবে না।
ষষ্ঠত, শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষকদের পেশাজীবী সংস্থাগুলোর গঠনমূলক মতামতকে নীতিনির্ধারণের অংশীদার করা দরকার। এ ছাড়া শিক্ষা প্রশাসন ও নেতৃত্বের সর্বস্তরের পদে ঐ স্তরের যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া ও পদায়ন করা একান্ত দরকার। সর্বোপরি, শিক্ষককে কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ বাস্তবায়নকারী হিসেবে নয়, একজন স্বায়ত্তশাসিত, দায়িত্বশীল ও জ্ঞাননির্ভর পেশাজীবী হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি দিতে হবে। শিক্ষককে বিশ্বাস করলে, মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিলে তিনি শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করতে পারবেন। তাই বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে "শিক্ষকদের উন্নয়নের” বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিক্ষকদের উন্নয়ন মানে শিক্ষার উন্নয়ন আর শিক্ষার উন্নয়ন মানে জাতির উন্নয়ন, জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
১
২ মন্তব্য