Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:০০ অপরাহ্ণ

ইসলামে শারীরিক স্পর্শ ও চুমুর বিধান সম্পর্কে আলোচনা।

ইসলামে চুমুর বিধান

চুমু বা কিস (Kiss) মানুষের ভালোবাসা, স্নেহ ও আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম। ইসলামে চুমুর বিধান নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক, উদ্দেশ্য, পরিস্থিতি এবং এর ফলে কোনো অনৈতিকতা বা ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে কি না—তার ওপর। তাই সব ধরনের চুমুকে এক কথায় বৈধ বা অবৈধ বলা যথার্থ নয়।

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চুমু: বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য চুমু দেওয়া জায়েজ। এটি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক স্নেহ ও সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রকাশ।

২. সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের চুমু: সন্তানকে স্নেহ করা, কপালে চুমু দেওয়া এবং নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ ইসলামে অনুমোদিত। তবে শালীনতা, নিরাপদ স্পর্শ এবং শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের যৌন উদ্দেশ্য, অশালীন আচরণ কিংবা ক্ষতিকর স্পর্শ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. শিশুদের প্রতি নবীজি (সা.)-এর স্নেহ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসান ইবনে আলী (রা.)-কে চুমু দিলেন। তখন আকরা ইবনে হাবিস (রা.) বললেন, তাঁর দশটি সন্তান রয়েছে, কিন্তু তিনি কাউকে চুমু দেননি। উত্তরে নবীজি (সা.) বললেন, “যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।”

—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩১৮।

এই হাদিস শিশুদের প্রতি স্নেহ, মমতা ও দয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে এ থেকে কোনো শিশুকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করার অনুমতি বোঝায় না।

৪. বেগানা নারী-পুরুষের মধ্যে চুমু: ইসলামে বিবাহবহির্ভূত যৌনঘনিষ্ঠতা ও কামনাপ্রবণ আচরণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।” (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২)। সুতরাং বেগানা নারী-পুরুষের মধ্যে কামনাপূর্ণ চুমু ইসলামের নীতিমালার পরিপন্থী।

শিক্ষকের দায়িত্ব ও শিশু সুরক্ষা

একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর জ্ঞান, চরিত্র ও নৈতিকতা বিকাশের পথপ্রদর্শক। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণে তাঁকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাগত শালীনতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। শিশুকে স্নেহ করার অজুহাতে তার ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন, অনুপযুক্ত স্পর্শ, ভয় দেখানো কিংবা গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাপ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ তদন্তপ্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগ উঠলে শিশুকে দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

উপসংহার

ইসলাম ভালোবাসা, দয়া, শালীনতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়। চুমু কখনো স্নেহের প্রকাশ, আবার সম্পর্ক ও উদ্দেশ্যভেদে তা অনৈতিক আচরণও হতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ