সিনিয়র শিক্ষক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:১৩ অপরাহ্ণ
বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আশরাফ আলী (রাহ.) এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মানিত আরবি প্রভাষক, আখতারিয়াপাড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আশরাফ আলী (রাহ.) এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
তিনি ১৯৫১ সালের ০১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের আখতারিয়া পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল আলিম ও মাতার নাম মুস্তফা খাতুন।
তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৬ দাখিল, ১৯৬৮ আলিম এবং ১৯৭০ সালে ফাজিল পাশ করেন। অতঃপর ১৯৭২ এবং ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা ও চট্টগ্রাম ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে হাদিস ও ফিকহ বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে কামিল পাশ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।
ছাত্র জীবন শেষ করে তিনি ০১ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্ম জীবন শুরু হয়।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করার জন্য ১৯৮৪-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত লোহাগাড়া বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে জীবনের শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত চকরিয়া বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সমাজে যোগ্য নাগরিক গঠন করে দেশ ও মানবসেবার মানসে তিনি ১৯৭৫ সালে আধুনগর আখতারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ১৯৮০ সালে আধুনগর শাহ জব্বারীয়া এতিমখানা ও ২০০০ সালে 'বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স আধুনগর' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আমৃত্যু সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি "মিরকাতুল ঈমান" নামে আরবি ভাষায় একটি অনবদ্য গ্রন্হ রচনা করেন।
তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বৃহত্তর লোহাগাড়া - সাতকানিয়া ও চকরিয়ার অসংখ্য মানুষ তরিকতের দীক্ষা নিয়ে বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব দ্বয়ের সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন।
তিনি ১৯৭২ সালে বায়তুশ শরফের পীর আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর দ্বিতীয় কন্যা মোছাম্মৎ তাহেরা বেগমের সাথে শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হন।
এ মহান কর্মবীর ২৩ অক্টোবর ২০০৭ সালে আধুনগরস্থ নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহ ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্নীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান।
উক্ত দিন বাদে আছর সহস্রাধিক ছাত্র - শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে, বায়তুশ শরফের পীর শাহসূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন রাহ. এর ইমামতিতে, আখতারিয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে আখতারিয়াপাড়া বায়তুশ শরফ মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাঁর ইন্তেকালের পর চট্টগ্রাম ও ঢাকা বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাঁর জীবন চরিত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
আল্লাহ তাঁকে পবিত্র জান্নাতুল ফেরদৌস দাখিল করুন।
------------------
❤️তথ্য সংগ্রহে ও সম্পাদনায়ঃ কবি মুহাম্মদ সোলাইমান।
৮
৮ মন্তব্য