সহযোগী অধ্যাপক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক ২০২৬ | Wafid Medical Report Check
📌 পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক
📌 এক ক্লিকে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করুন
📌 সম্পূর্ণ ফ্রিতে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করতে ক্লিক করুন
গালফের কোনো দেশে কাজের ভিসায় যেতে হলে মেডিকেল টেস্ট দেওয়াটা বাধ্যতামূলক ধাপগুলোর একটা। টেস্ট দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে একটাই — রিপোর্টে FIT এলো তো? অনেকে এই খবরটুকু জানতে এজেন্ট বা দালালের পেছনে ঘোরেন, টাকাও খরচ করেন। অথচ কাজটা আপনি নিজেই করতে পারবেন, একদম ফ্রি, মোবাইল থেকেই। শুধু পাসপোর্ট নাম্বারটা লাগবে। এই পোস্টে ধাপে ধাপে দেখানো হলো কীভাবে Wafid (আগের GAMCA) ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করবেন, কোন স্ট্যাটাসের মানে কী, রিপোর্ট না পেলে কী করবেন, আর UNFIT এলে আপনার করণীয় কী।
Wafid (ওয়াফিদ) কী? GAMCA থেকে Wafid হলো কেন
আগে এই ব্যবস্থাটার নাম ছিল GAMCA — পুরো নাম Gulf Approved Medical Centers Association। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (GCC) দেশগুলোতে যারা কাজ বা বসবাসের জন্য যান, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই সংস্থার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতেই করতে হতো। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে এই পুরো প্রোগ্রামটি নতুন নামে চালু হয় — Wafid। পরিচালনা করে Gulf Health Council (GHC)। নাম বদলালেও কাজ একই আছে: বুকিং, মেডিকেল টেস্ট আর রিপোর্ট — সব এখন একটিমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল Wafid-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে হয়। তাই পুরনো GAMCA নামে খুঁজলেও শেষ পর্যন্ত আপনাকে এই ওয়েবসাইটেই আসতে হবে।
যেসব দেশের জন্য এই মেডিকেল লাগে, সেগুলো হলো: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন — মোট ছয়টি GCC দেশ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ কর্মী এই দেশগুলোতে যান, তাই Wafid মেডিকেল আর তার রিপোর্ট চেক করার নিয়মটা জানা প্রত্যেক প্রবাসী কর্মীর জন্যই জরুরি।
কাদের জন্য Wafid মেডিকেল বাধ্যতামূলক
উপরের ছয়টি GCC দেশের যেকোনো একটিতে কর্মী ভিসায় (work visa) যেতে চাইলে মেডিকেল টেস্ট বাধ্যতামূলক।
যারা পরিবার নিয়ে বসবাসের ভিসায় (residence visa) যাবেন, তাদের ক্ষেত্রেও দেশভেদে এই মেডিকেল লাগে।
কাতারের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটা Qatar Visa Center (QVC) দিয়ে হয়, কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তি সেই Wafid রিপোর্টই — রিপোর্ট চেকও একই পোর্টালে হয়।
একটা বিভ্রান্তি এখানে পরিষ্কার করে রাখা ভালো। মালয়েশিয়া GCC-র সদস্য দেশ নয়, তাই মালয়েশিয়াগামীদের মেডিকেল হয় আলাদা FOMEMA ব্যবস্থায়, Wafid দিয়ে নয়। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: কবে চালু ও আবেদন নিয়ম পোস্টটা দেখে নিতে পারেন।
মেডিকেলে যেসব টেস্ট করা হয়
Wafid মেডিকেলে সাধারণত যেসব পরীক্ষা করা হয়:
শারীরিক পরীক্ষা (উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ)
বুকের এক্স-রে (যক্ষ্মা বা ফুসফুসের সমস্যা দেখার জন্য)
রক্ত পরীক্ষা (HIV, হেপাটাইটিস B ও C, সিফিলিসসহ বেশ কয়েকটি সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং)
প্রস্রাব পরীক্ষা
চোখ ও কানের পরীক্ষা
নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা (পদভেদে প্রযোজ্য)
দেশ ও ভিসার ধরন অনুযায়ী টেস্টের তালিকায় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। মূলত সংক্রামক রোগ আর গুরুতর শারীরিক সমস্যা আছে কিনা, সেটাই এই স্ক্রিনিংয়ে যাচাই করা হয়।
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার নিয়ম
রিপোর্ট চেক করতে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা লগইন লাগে না, টাকাও লাগে না। আপনার যা লাগবে: পাসপোর্ট নাম্বার অথবা মেডিকেলের সময় পাওয়া Wafid স্লিপ নাম্বার, আর একটি মোবাইল বা কম্পিউটার। দুটি পদ্ধতিতেই চেক করা যায়।
পদ্ধতি ১: পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে চেক
প্রথমে Wafid-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। ঠিকানাটা নিজে টাইপ করে ঢুকুন — wafid.com ছাড়া অন্য কোনো সাইটে পাসপোর্ট নাম্বার দেবেন না।
ওয়েবসাইটের মেনু থেকে Medical Examination Result (অথবা View Medical Reports) অপশনে ক্লিক করুন।
এবার By Passport Number অপশনটি সিলেক্ট করুন।
পাসপোর্ট নাম্বারটি হুবহু পাসপোর্টের মতো করে লিখুন — মাঝে কোনো স্পেস বা ড্যাশ দেবেন না। পাশের Nationality ঘরে Bangladesh সিলেক্ট করুন।
স্ক্রিনে দেখানো ক্যাপচা কোডটি মিলিয়ে লিখে Check বাটনে ক্লিক করুন।
আপনার রিপোর্টের স্ট্যাটাস স্ক্রিনে দেখাবে — পরীক্ষার তারিখ, মেডিকেল সেন্টারের নামসহ। FIT হলে সেখান থেকেই PDF ডাউনলোড করে বা Print করে কপি রেখে দিন।
পদ্ধতি ২: Wafid স্লিপ নাম্বার দিয়ে চেক
একইভাবে Wafid ওয়েবসাইটে গিয়ে Medical Examination Result পেজটি খুলুন।
এবার By Wafid Slip Number অপশনটি সিলেক্ট করুন।
মেডিকেল বুকিংয়ের সময় পাওয়া স্লিপে থাকা নাম্বারটি (GCC slip number) সঠিকভাবে লিখুন।
ক্যাপচা মিলিয়ে Check বাটনে ক্লিক করলেই স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
পাসপোর্ট নাম্বার মনে না থাকলে বা টাইপে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে স্লিপ নাম্বার পদ্ধতিটা বেশি নির্ভরযোগ্য। আর অনলাইনে রিপোর্ট দেখলেও মূল (physical) রিপোর্টটি আপনাকে সেই মেডিকেল সেন্টার থেকেই সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। PDF আর প্রিন্ট কপি দুটোই যত্নে রাখুন।
রিপোর্ট স্ট্যাটাসের মানে কী
চেক করার পর স্ক্রিনে নিচের যেকোনো একটি স্ট্যাটাস দেখাতে পারে:
স্ট্যাটাস | মানে | এরপর করণীয় |
FIT | আপনি মেডিকেলে উত্তীর্ণ, স্বাস্থ্যগতভাবে যোগ্য | PDF ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে রাখুন, ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের কাজ এগিয়ে নিন |
UNFIT | পরীক্ষায় এমন কিছু পাওয়া গেছে যার কারণে এখন ভিসা প্রক্রিয়া এগোবে না | চিকিৎসা নিন, অপেক্ষার মেয়াদ শেষ হলে অনুমোদিত সেন্টারেই আবার মেডিকেল দিন |
PENDING / Under Process | রিপোর্ট এখনো প্রক্রিয়াধীন, সেন্টার আপলোড করেনি বা রিভিউ চলছে | ২–৩ দিন পর আবার চেক করুন, তাড়াহুড়ার দরকার নেই |
REFERRED | আরও কিছু পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের মতামত লাগবে | মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করে নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা দিন |
ABSENT | বুক করা তারিখে মেডিকেলে উপস্থিত হননি | নতুন করে বুকিং নিতে হবে; বুকিং ফি ফেরতযোগ্য নয় |
No Record Found | আপনার তথ্য দিয়ে কোনো রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না | নাম্বার ও জাতীয়তা আবার মিলিয়ে দেখুন, স্লিপ নাম্বার দিয়ে চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে সেন্টারে যোগাযোগ করুন |
রিপোর্ট আসতে কতদিন লাগে? মেয়াদ কতদিন
বেশিরভাগ মেডিকেল সেন্টার পরীক্ষার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল অনলাইনে আপলোড করে দেয়। তবে ব্যস্ত মৌসুমে, বাড়তি পরীক্ষা লাগলে বা তথ্য যাচাইয়ে দেরি হলে সময় বেশি লাগতে পারে — Wafid-এর গাইডলাইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল আসতে সর্বোচ্চ ২৬ দিন পর্যন্ত সময় লাগা সম্ভব। তাই ৩–৪ দিনেও রিপোর্ট না এলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই; এক সপ্তাহ পার হলে সেন্টারে একবার খোঁজ নিন।
মেয়াদের ব্যাপারে দুটি তারিখ আলাদা করে মনে রাখুন:
মেডিকেল স্লিপের মেয়াদ: স্লিপ তৈরি হওয়ার পর সাধারণত ৩০ দিন — এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে ফেলতে হয়, নাহলে স্লিপ বাতিল হয়ে নতুন বুকিং লাগে।
FIT রিপোর্টের মেয়াদ: রিপোর্ট ইস্যু হওয়ার তারিখ (পরীক্ষার তারিখ নয়) থেকে ৬০ দিন। এই ৬০ দিনের মধ্যেই ভিসা স্ট্যাম্পিংসহ পরবর্তী কাজ শেষ করতে হয়। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে পুরো মেডিকেল আবার দিতে হবে — কোনো মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
রিপোর্ট খুঁজে না পেলে (No Record Found) করণীয়
এই সমস্যাটায় সবচেয়ে বেশি মানুষ পড়েন। ঘাবড়ানোর আগে নিচের ধাপগুলো একে একে মিলিয়ে দেখুন:
পাসপোর্ট নাম্বার হুবহু মিলেছে তো? একটা অক্ষর বা সংখ্যা এদিক-ওদিক হলেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে না। পাসপোর্ট হাতে নিয়ে মিলিয়ে আবার লিখুন।
জাতীয়তা ঠিক সিলেক্ট করেছেন তো? Nationality ঘরে Bangladesh থাকতে হবে।
সদ্য মেডিকেল দিয়ে থাকলে একটু অপেক্ষা করুন। সেন্টার আপলোড না করা পর্যন্ত পোর্টালে কিছুই দেখাবে না। ৪৮–৭২ ঘণ্টা পর আবার চেক করুন।
স্লিপ নাম্বার দিয়ে চেষ্টা করুন। পাসপোর্ট নাম্বারে সেন্টারের ডেটা এন্ট্রিতে ভুল থাকলে এই পদ্ধতিতে পেয়ে যেতে পারেন।
ক্যাপচা বারবার ভুল হলে ব্রাউজার বদলে চেষ্টা করুন, অথবা কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।
তবু না পেলে মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করুন। নাম, পাসপোর্ট নাম্বার বা জন্মতারিখে এন্ট্রির ভুল থাকলে সেন্টার change request দিয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে তা সংশোধন করতে পারে — এর জন্য কাউকে আলাদা টাকা দেওয়ার কথা নয়।
UNFIT হলে কী করবেন
UNFIT স্ট্যাটাস দেখলে প্রথম কথা হলো — ভিসা প্রক্রিয়া আপাতত থেমে যাবে, এটা মেনে নিন এবং আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না। করণীয়গুলো সাজিয়ে দিচ্ছি:
কেন UNFIT হলো জেনে নিন। মেডিকেল সেন্টার থেকে রিপোর্টের কারণটা জানুন। যক্ষ্মার পুরনো দাগ, হেপাটাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ — কারণভেদে পরবর্তী পথ আলাদা।
চিকিৎসা নিন। যেসব সমস্যা চিকিৎসায় সারে, সেগুলোর যথাযথ চিকিৎসা সম্পন্ন করুন এবং প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্টগুলো সংরক্ষণ করুন।
অপেক্ষার মেয়াদ মানুন। UNFIT হওয়ার পর সাধারণত কমপক্ষে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়; অবস্থা ও দেশের নিয়ম অনুযায়ী এই মেয়াদ আরও বেশি (কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬ মাস) হতে পারে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবার মেডিকেল দিয়ে লাভ নেই।
পুনরায় মেডিকেল শুধু Wafid-অনুমোদিত সেন্টারেই দিন। নতুন করে অনলাইনে বুকিং করে নির্ধারিত সেন্টারে যেতে হবে।
কিছু রোগে স্থায়ী বাধা থাকতে পারে। HIV, হেপাটাইটিস B/C বা সক্রিয় যক্ষ্মার মতো কিছু অবস্থায় GCC দেশগুলোতে প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে — এ ব্যাপারে সেন্টার ও গন্তব্য দেশের নিয়মই চূড়ান্ত।
দালালের ফাঁদে পা দেবেন না। "টাকা দিলে রিপোর্ট FIT করে দেবো" — এমন কথা বলা মাত্রই বুঝবেন প্রতারণা। রিপোর্ট সরাসরি GCC ডেটাবেসে থাকে; কারও পক্ষে তা বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। এতে টাকাও যাবে, প্রতারণার রেকর্ডে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও নষ্ট হতে পারে।
Wafid মেডিকেলের খরচ কত
বাংলাদেশ থেকে Wafid মেডিকেলের খরচ মূলত দুই ভাগে জমা হয়:
খাত | আনুমানিক খরচ | যেভাবে দিতে হয় |
অনলাইন বুকিং (স্লিপ) ফি | ১০ মার্কিন ডলার | wafid.com-এ আন্তর্জাতিক কার্ডে পেমেন্ট; অন্যের সাহায্যে তুললে প্রায় ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ নেওয়া হয় |
মেডিকেল সেন্টার ফি | প্রায় ৮,৫০০ টাকা | পরীক্ষার দিন সেন্টারে নগদে |
রিপোর্ট চেক (অনলাইন) | সম্পূর্ণ ফ্রি | wafid.com-এ নিজে চেক করুন |
অর্থাৎ মোট খরচ পড়ে আনুমানিক ১০,০০০ টাকার মতো। মনে রাখবেন, ফি ও ডলারের হার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে — বুকিংয়ের সময় ওয়েবসাইটে আর সেন্টারে যাওয়ার আগে ফোন করে বর্তমান ফিটা জেনে নিন। আরও দুটি জরুরি নিয়ম: এখন অনলাইনে আগাম বুকিং বাধ্যতামূলক — সরাসরি সেন্টারে গিয়ে (walk-in) মেডিকেল করা যায় না; আর কোন সেন্টারে আপনার মেডিকেল হবে, সেটা আপনি নিজে বেছে নিতে পারবেন না — সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার শহরের অনুমোদিত সেন্টার নির্ধারণ করে দেয়।
মেডিকেলের দিন সঙ্গে যা যা নেবেন
মূল পাসপোর্ট ও এর পরিষ্কার ফটোকপি
বুকিং স্লিপের প্রিন্ট কপি
পাসপোর্ট সাইজের ৪ কপি ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড; ওমানের ক্ষেত্রে নীল ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে)
সৌদি আরবের ক্ষেত্রে: ভিসা নাম্বার ও MOFA যাচাইয়ের কাগজ
কুয়েতের ক্ষেত্রে: মূল ভিসার কপি
নির্ধারিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে সেন্টারে পৌঁছান। আগের পুরনো কোনো মেডিকেল রিপোর্ট (বিশেষ করে বুকের এক্স-রে সংক্রান্ত) থাকলে সেগুলোও সঙ্গে রাখুন — প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে।
ভুয়া ওয়েবসাইট ও প্রতারণা থেকে সাবধান
GAMCA নামটা পুরনো ও পরিচিত বলে এই নামে অসংখ্য ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ আর এজেন্ট সক্রিয় আছে, যারা স্লিপ তোলা বা রিপোর্ট চেকের নামে অতিরিক্ত টাকা নেয়। সুরক্ষিত থাকতে তিনটা নিয়ম মানুন:
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট একটাই: wafid.com। বুকিং, স্লিপ, রিপোর্ট চেক — সব কাজ শুধু এখানেই হয়।
রিপোর্ট চেক সম্পূর্ণ ফ্রি। চেক করে দেওয়ার জন্য কেউ টাকা চাইলে সেটা প্রতারণা।
অপরিচিত কোনো সাইট বা পেজে পাসপোর্ট নাম্বার, ছবি বা কার্ডের তথ্য দেবেন না।
FIT রিপোর্টের পরের ধাপ
রিপোর্ট FIT এলে ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির বাকি ধাপগুলো গুছিয়ে নিন। বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে কর্মী হিসেবে যেতে হলে BMET-র রেজিস্ট্রেশন ও স্মার্ট কার্ড (ছাড়পত্র) লাগে — এই প্রক্রিয়াটা জানতে আমি প্রবাসী BMET রেজিস্ট্রেশন ও স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড পোস্টটা পড়ে নিন। মনে রাখবেন, FIT রিপোর্টের ৬০ দিনের মেয়াদের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করা জরুরি, তাই দেরি না করে প্রতিটি ধাপ দ্রুত শেষ করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
GAMCA আর Wafid কি একই জিনিস?
হ্যাঁ। GAMCA ছিল এই মেডিকেল প্রোগ্রামের পুরনো নাম। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে Gulf Health Council এটিকে Wafid নামে পুনর্গঠন করে। বুকিং, টেস্ট ও রিপোর্ট — সব এখন wafid.com পোর্টালেই হয়।
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে রিপোর্ট চেক করতে টাকা লাগে?
না, একদম ফ্রি। wafid.com-এ গিয়ে পাসপোর্ট নাম্বার ও জাতীয়তা (Bangladesh) দিলেই স্ট্যাটাস দেখা যায়। কেউ চেকের জন্য টাকা চাইলে দেবেন না।
মেডিকেল দেওয়ার কতদিন পর রিপোর্ট অনলাইনে আসে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট আপলোড হয়ে যায়। তবে বাড়তি পরীক্ষা বা যাচাই লাগলে সময় বেশি লাগতে পারে; Wafid-এর গাইডলাইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৬ দিন পর্যন্ত লাগা সম্ভব।
FIT রিপোর্টের মেয়াদ কতদিন?
রিপোর্ট ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে ৬০ দিন। এই সময়ের মধ্যে ভিসা স্ট্যাম্পিং শেষ করতে না পারলে মেডিকেল আবার দিতে হবে। মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যায় না।
UNFIT হলে আবার কবে মেডিকেল দিতে পারব?
সাধারণত কমপক্ষে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়, অবস্থা অনুযায়ী মেয়াদ আরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ করে, মেয়াদ পেরোলে নতুন বুকিং নিয়ে Wafid-অনুমোদিত সেন্টারেই আবার মেডিকেল দিতে হবে।
স্লিপ নাম্বার হারিয়ে ফেললে কী করব?
চিন্তা নেই — পাসপোর্ট নাম্বার দিয়েই রিপোর্ট চেক করা যায়, স্লিপ নাম্বার বাধ্যতামূলক নয়। আর বুকিংয়ের কপি দরকার হলে wafid.com-এর Appointment Slips অপশন থেকে পাসপোর্ট তথ্য দিয়ে স্লিপ আবার বের করা যায়।
কোন মেডিকেল সেন্টারে আমার পরীক্ষা হবে, নিজে বেছে নিতে পারব?
না। বুকিংয়ের সময় সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার নির্বাচিত শহরের একটি অনুমোদিত সেন্টার নির্ধারণ করে দেয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে Wafid-অনুমোদিত সেন্টার আছে; তালিকা wafid.com-এর Medical Centers List অপশনে পাওয়া যায়।
এজেন্ট ছাড়া নিজে বুকিং করা যাবে?
অবশ্যই যাবে। wafid.com-এ গিয়ে দেশ ও গন্তব্য সিলেক্ট করে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে বুকিং করা যায়; পেমেন্টের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন-সমর্থিত কার্ড লাগে। নিজের কার্ড না থাকলে পরিচিত কারও কার্ড ব্যবহার করা যায় — তবে অচেনা দালালের হাতে পাসপোর্ট তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।
শেষ কথা — মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা বা দালালের পেছনে দৌড়ানোর দিন শেষ। পাসপোর্ট নাম্বারটা হাতে থাকলেই এখন নিজের রিপোর্ট নিজেই যাচাই করা যায়, সেটা FIT হোক বা অন্য যেকোনো স্ট্যাটাস। তথ্যটা সঠিক জায়গা (wafid.com) থেকে নিন, মেয়াদের হিসাবটা মাথায় রাখুন, আর প্রতিটি ধাপ সময়মতো শেষ করুন। আপনার প্রবাস যাত্রা শুভ হোক।
৮
৮ মন্তব্য