Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ণ

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে ২০২৬ | Birth Certificate Correction Fee

জন্ম নিবন্ধন সনদে নামের বানান ভুল, বাবা-মায়ের নামে গরমিল কিংবা জন্ম তারিখ মিলছে না — এই সমস্যা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের অফিসে গেলে অনেকেই প্রথম যে প্রশ্নটা করেন, তা হলো: সংশোধন করতে কত টাকা লাগবে? আশেপাশের দালাল বা কম্পিউটারের দোকান থেকে কেউ বলেন ৫০০ টাকা, কেউ বলেন ২ হাজার টাকা। অথচ সরকারি ফি শুনলে অবাক হবেন — নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা সংশোধনের সরকার নির্ধারিত ফি মাত্র ৫০ টাকা, আর জন্ম তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা। একসময় এই একই সংশোধনে ৫০০ টাকা করে ফি ছিল; সরকার ফি কমিয়ে এখনকার হার নির্ধারণ করেছে।


চাহিদাটা কত বড়, একটা হিসাবেই বোঝা যায় — ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই সারা দেশে প্রায় ৩৫ লাখ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন হয়েছে। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, চাকরির আবেদন — সব জায়গায় জন্ম সনদ লাগে, আর কোথাও তথ্যে গরমিল থাকলেই কাজ আটকে যায়। এই লেখায় পাবেন সরকারি ফি'র পুরো তালিকা, কোন তথ্য সংশোধনে কত টাকা লাগে, অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে নিয়ম, কী কী কাগজপত্র লাগবে, ফি কোথায় জমা দিতে হয় এবং কোন ভুলগুলো করলে আবেদন আটকে যায় বা বাতিল হয়ে যায়।


আগে থেকে পুরো প্রক্রিয়াটা জানতে চাইলে আমাদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম লেখাটাও পড়ে নিতে পারেন — সেখানে সংশোধনের প্রতিটি ধাপ ছবির মতো করে বোঝানো আছে। আর এই লেখায় মূল জোরটা থাকছে খরচের হিসাব আর ফি সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তরে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সরকারি ফি'র তালিকা

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সরকারি ফি আলাদা। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্ধারিত সর্বশেষ ফি তালিকাটি হলো:


সংশোধনের ধরন

ফি (দেশে)

ফি (প্রবাসে, দূতাবাসে)

নিজের নাম সংশোধন

৫০ টাকা

১ ডলারের সমপরিমাণ

পিতা-মাতার নাম সংশোধন

৫০ টাকা

১ ডলারের সমপরিমাণ

ঠিকানা সংশোধন

৫০ টাকা

১ ডলারের সমপরিমাণ

জন্ম তারিখ সংশোধন

১০০ টাকা

২ ডলারের সমপরিমাণ

সংশোধিত সনদের কপি (বাংলা ও ইংরেজি)

বিনামূল্যে

বিনামূল্যে

সনদের ডুপ্লিকেট কপি / পুনর্মুদ্রণ

৫০ টাকা

১ ডলারের সমপরিমাণ


দুটো বিষয় এখানে বিশেষ করে মনে রাখুন। প্রথমত, সংশোধনের পর নতুন সনদের কপি নিতে আলাদা করে কোনো টাকা লাগে না — বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার কপিই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, এই তালিকার বাইরে সরকারি কোনো ফি নেই। অফিসের কেউ বা বাইরের কোনো দালাল যদি সংশোধনের নামে ৫০০-১০০০ টাকা চায়, বুঝবেন সেটা সরকারি ফি নয়।


তবে একটা পার্থক্য জানা দরকার — অনলাইনে ফরম পূরণ করতে অনেকেই কম্পিউটারের দোকানের সাহায্য নেন; দোকানদার সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০০-২০০ টাকা নিতে পারেন, সেটা তার পারিশ্রমিক, সরকারি ফি নয়। নিজে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ফরম পূরণ করলে সেই খরচটাও লাগবে না।

ফি জমা দিতে হয় কোথায়?

অনেকে মনে করেন অনলাইন আবেদনের সময়ই হয়তো বিকাশ বা কার্ডে ফি দিতে হবে। আসলে তা নয়। bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে শুধু আবেদন ফরম পূরণ হয় — ফি সেখানে নেওয়া হয় না। সরকারি ফি জমা দিতে হয় আপনার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কার্যালয়ে — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ বা সেনানিবাস এলাকার ক্ষেত্রে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিসে — আবেদনের প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়, সরাসরি।


ফি জমা দিয়ে অবশ্যই রসিদ বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিয়ে রাখুন। পরবর্তীতে কোনো জটিলতা হলে এই রসিদটাই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। আরেকটা জরুরি কথা — অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রিন্ট কপি, কাগজপত্র ও ফি নিয়ে অফিসে জমা দিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে জমা না দিলে সিস্টেম থেকে আবেদনটি নিজে থেকেই বাতিল হয়ে যায়, তখন আবার নতুন করে আবেদন করতে হয়।

কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়?

জন্ম নিবন্ধনে সাধারণত যেসব তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন পড়ে:


  • নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি বানানসহ)

  • পিতার নাম ও মাতার নাম

  • জন্ম তারিখ

  • স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা

  • জন্মস্থান সংক্রান্ত তথ্য


এর মধ্যে জন্ম তারিখের বিষয়টা আলাদা করে জানা জরুরি। বয়স নিয়ে অপব্যবহার ঠেকাতে জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম এখন অনেক কঠোর। বর্তমানে উপযুক্ত প্রমাণসাপেক্ষে জন্ম তারিখের দিন ও মাস সংশোধন করা যায়, কিন্তু জন্ম সাল বা বয়স পরিবর্তন কার্যত বন্ধ। কারো জন্ম সাল বদলানো একান্তই প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের বিশেষ অনুমোদন নিতে হয় — সেটা সাধারণ আবেদনের চেয়ে অনেক লম্বা ও জটিল প্রক্রিয়া, এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টারসহ শক্ত প্রমাণ লাগে। তাই জন্ম সাল বদলানোর কথা ভাবলে আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে সম্ভাবনাটা জেনে নেওয়াই ভালো; শুধু স্কুল সার্টিফিকেট দেখিয়ে সাল বদলানো যায় না।


একাধিক তথ্যে ভুল থাকলে আলাদা আলাদা আবেদন করার দরকার নেই — একই আবেদনে সবগুলো ভুল একসাথে উল্লেখ করুন। এতে সময়ও বাঁচবে, আর বারবার অফিসে দৌড়াতে হবে না।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন — ধাপে ধাপে

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ

প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট bdris.gov.bd-এ যান। এটাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল — অন্য কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন করা যায় না। হোমপেজ থেকে "জন্ম নিবন্ধন সংশোধন" অপশনটি নির্বাচন করুন।

ধাপ ২: নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন

আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ লিখুন। তথ্য মিললে আপনার বর্তমান নিবন্ধনের বিবরণ পর্দায় দেখা যাবে।

ধাপ ৩: সংশোধনের ধরন বেছে নিন

যে তথ্যটি বদলাতে চান — নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা — তা নির্বাচন করুন। একাধিক তথ্য বদলাতে চাইলে সবগুলোই এই ধাপে উল্লেখ করুন।

ধাপ ৪: সঠিক তথ্য লিখুন

সংশোধিত তথ্য বাংলায় ও ইংরেজিতে সঠিকভাবে লিখুন। এই ধাপে সবচেয়ে সতর্ক থাকুন — ইংরেজি বানান অবশ্যই আপনার শিক্ষাগত সনদ বা পাসপোর্টের বানানের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন, না হলে এক জায়গার ভুল ঠিক করতে গিয়ে আরেক জায়গায় নতুন গরমিল তৈরি হবে।

ধাপ ৫: প্রমাণপত্র আপলোড করুন

সংশোধনের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্পষ্ট স্ক্যান কপি (PDF বা JPG ফরম্যাটে) আপলোড করুন। ছবি ঝাপসা হলে যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে, তাই স্ক্যান যেন পড়া যায় তা নিশ্চিত করুন। কোন ধরনের সংশোধনে কী প্রমাণ লাগবে, তা নিচের অংশে দেওয়া আছে।

ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট ও প্রিন্ট

সব তথ্য আবার মিলিয়ে দেখে আবেদন সাবমিট করুন। সাবমিট হলে একটি Application ID বা আবেদন নম্বর পাবেন — এটি অবশ্যই নোট করে রাখুন কিংবা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন, স্ট্যাটাস দেখতে এটি লাগবে। এরপর পূরণ করা আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করে নিন।

ধাপ ৭: অফিসে জমা দিন

প্রিন্ট কপি, মূল কাগজপত্র ও ফটোকপি এবং নির্ধারিত ফি নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার এলাকার নিবন্ধন কার্যালয়ে জমা দিন। কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই করে অনুমোদন দিলে সংশোধিত তথ্য সিস্টেমে হালনাগাদ হয়ে যাবে, এরপর সংশোধিত সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।

সংশোধনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগে

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রমাণপত্র আলাদা হয়। মূল নীতি একটাই — যে তথ্যটি বদলাতে চাইছেন, তার সঠিক রূপটি কোনো সরকারি বা শিক্ষাগত দলিলে থাকতে হবে।


সংশোধনের ধরন

যেসব প্রমাণপত্র লাগতে পারে

নিজের নাম

শিক্ষাগত সনদ (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি), জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট (থাকলে)

পিতা-মাতার নাম

পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ, নিজের শিক্ষাগত সনদ

জন্ম তারিখ

শিক্ষা বোর্ডের সনদ, হাসপাতালের জন্ম সনদ, টিকা কার্ড, বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টারের প্রত্যয়ন

ঠিকানা

নাগরিকত্ব সনদ, চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র, বিদ্যুৎ বিল বা বাড়ির দলিলের কপি


মনে রাখুন, অফিসভেদে কাগজের চাহিদায় কিছুটা হেরফের হতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে একবার ফোন করে বা সরেজমিনে গিয়ে তালিকাটা মিলিয়ে নিলে একবারেই কাজ শেষ হবে। জন্ম সনদ হাতে না থাকলে বা নিবন্ধন নম্বর জানা না থাকলে আগে অনলাইনে তথ্য যাচাই করে নিন — নিচে যাচাইয়ের নিয়ম দেওয়া আছে।

সংশোধন হতে কত দিন সময় লাগে?

আবেদন ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হয়। নাম বা ঠিকানার মতো সাধারণ সংশোধন অনেক ক্ষেত্রে এর আগেই হয়ে যায়; জন্ম তারিখের সংশোধনে যাচাই বেশি লাগায় সময় একটু বেশি লাগতে পারে। অফিসের কাজের চাপ অনুযায়ী সময় কম-বেশি হওয়া স্বাভাবিক।

আবেদনের স্ট্যাটাস যেভাবে দেখবেন

bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে "আবেদনের অবস্থা" (Application Status) অপশনে গিয়ে আবেদনের সময় পাওয়া Application ID লিখলেই আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে দেখা যাবে — গৃহীত হয়েছে, যাচাই চলছে, অনুমোদিত হয়েছে নাকি কোনো কারণে আটকে আছে। মাঝে মাঝে স্ট্যাটাস দেখে নিলে অফিসে অহেতুক যাতায়াত কমবে।

প্রবাসীদের জন্য সংশোধনের নিয়ম ও ফি

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা দেশে না এসেও সংশোধন করতে পারেন — সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। প্রবাসীদের জন্য ফি ডলারে নির্ধারিত: নাম, পিতা-মাতার নাম বা ঠিকানা সংশোধনে ১ ডলারের সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা, আর জন্ম তারিখ সংশোধনে ২ ডলারের সমপরিমাণ। প্রমাণপত্রের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম — শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। পরিবারের কারো জন্ম সনদে ভুল থাকলে পাসপোর্ট নবায়ন বা ভিসার কাজে আটকে যাওয়ার আগেই সংশোধন করে নেওয়া ভালো।

যেসব ভুলে আবেদন আটকে যায় বা বাতিল হয়

  • ১৫ দিনের মধ্যে অফিসে জমা না দেওয়া: অনলাইনে আবেদন করেই অনেকেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র সময়মতো জমা না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

  • প্রমাণপত্রের সঙ্গে তথ্যের গরমিল: সনদে এক বানান, আবেদনে আরেক বানান লিখলে যাচাইয়ে আবেদন আটকে যায়।

  • শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে জন্ম সাল বদলাতে চাওয়া: জন্ম সাল পরিবর্তনে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ও শক্ত প্রমাণ লাগে; সাধারণ আবেদনে সাল বদলায় না।

  • ঝাপসা স্ক্যান আপলোড: পড়া যায় না এমন কাগজ আপলোড করলে আবেদন ফেরত আসে।

  • দালালের হাতে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া: সরকারি ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা জেনে রাখলে এই প্রতারণা থেকে বাঁচা যায়।

  • একাধিক ভুলে আলাদা আলাদা আবেদন: সব ভুল এক আবেদনে উল্লেখ না করলে বারবার ফি ও সময় নষ্ট হয়।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন যেভাবে

সংশোধনের পর তথ্য ঠিকভাবে হালনাগাদ হয়েছে কিনা, যাচাই করে নেওয়া যায় বিনামূল্যে। everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলেই সনদের বর্তমান তথ্য দেখা যাবে। পাসপোর্ট বা চাকরির আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সনদ ব্যবহারের আগে একবার যাচাই করে নিলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়।


কারো যদি এখনো জন্ম নিবন্ধনই করা না থাকে, তাহলে সংশোধনের প্রশ্ন আসে না — আগে নতুন নিবন্ধন করতে হবে। নতুন করে আবেদনের খরচও খুব কম: জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিলম্ব ফি ২৫ টাকা এবং তার পরে ৫০ টাকা। নতুন আবেদনের পুরো নিয়ম জানতে পড়ুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম লেখাটি।


মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সংশোধনের একই ফি কাঠামো প্রযোজ্য — তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকা ও তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা; আবেদন করা যায় একই পোর্টাল থেকে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জন্ম নিবন্ধনে নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

সরকারি ফি মাত্র ৫০ টাকা। শুধু নাম নয় — পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা সংশোধনের ফিও ৫০ টাকা করে।

জন্ম তারিখ সংশোধনের ফি কত?

জন্ম তারিখ সংশোধনের সরকারি ফি ১০০ টাকা। প্রবাসে দূতাবাসের মাধ্যমে করলে ২ ডলারের সমপরিমাণ লাগে।

ফি কি অনলাইনে দেওয়া যায়?

না। bdris.gov.bd-তে শুধু আবেদন ফরম পূরণ হয়। ফি দিতে হয় আবেদনের প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কার্যালয়ে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন) সরাসরি।

সংশোধন হতে কত দিন লাগে?

সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস। সাধারণ তথ্য সংশোধন আগে হয়, জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে যাচাই বেশি বলে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

জন্ম সাল বা বয়স কি সংশোধন করা যায়?

সাধারণ আবেদনে জন্ম সাল বদলানো যায় না। উপযুক্ত প্রমাণে দিন ও মাস সংশোধন সম্ভব; সাল বদলাতে হলে জেলা প্রশাসকের বিশেষ অনুমোদন লাগে, যা জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

একাধিক তথ্য ভুল থাকলে কি আলাদা আবেদন লাগবে?

না। একই আবেদনে সবগুলো ভুল একসাথে উল্লেখ করুন। এতে একবারের যাতায়াতেই কাজ শেষ হবে।

সংশোধিত সনদের কপি নিতে কি আবার ফি লাগবে?

না। সংশোধনের পর বাংলা ও ইংরেজি — দুই ভাষার সনদ কপিই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে পরে আলাদাভাবে ডুপ্লিকেট কপি বা পুনর্মুদ্রণ নিলে ৫০ টাকা ফি লাগে।

অনলাইনে আবেদন করে অফিসে না গেলে কী হবে?

আবেদন সাবমিটের ১৫ দিনের মধ্যে প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে; তখন নতুন করে আবেদন করতে হবে।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের খরচ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা বা দালালের পেছনে টাকা ঢালার কোনো কারণ নেই — সরকারি ফি নাম ও ঠিকানা সংশোধনে ৫০ টাকা, জন্ম তারিখে ১০০ টাকা, আর সংশোধিত সনদের কপি একদম ফ্রি। অনলাইনে bdris.gov.bd থেকে আবেদন করে ১৫ দিনের মধ্যে কাগজপত্রসহ স্থানীয় অফিসে জমা দিলেই প্রক্রিয়া শেষ। আবেদনের আগে প্রমাণপত্রগুলো গুছিয়ে নিন, ইংরেজি বানান সনদের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন, আর ফি দিয়ে রসিদ নিতে ভুলবেন না। পোর্টালের মেনু বা নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বর্তমান নির্দেশনা একবার দেখে নেওয়া ভালো।


মন্তব্য করুন

ব্লগ