সহকারী শিক্ষক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
থিংক-পেয়ার-শেয়ার (Think-Pair-Share)
পলাশ মন্ডল
থিংক-পেয়ার-শেয়ার (Think-Pair-Share বা TPS) হলো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকরী সহযোগিতামূলক (Cooperative) ও সক্রিয় শিখন কৌশল। ১৯৮১ সালে ফ্র্যাঙ্ক লাইম্যান (Frank Lyman) এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন।
এই কৌশলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এককভাবে চিন্তাভাবনা করে, জোড়ায় আলোচনা করে এবং পরবর্তীতে পুরো ক্লাসের সাথে তাদের মতামত শেয়ার করে।
থিংক-পেয়ার-শেয়ার কৌশলের ৩টি মূল ধাপ
- Think (একক চিন্তা):
- শিক্ষক ক্লাসে একটি প্রশ্ন, সমস্যা বা বিষয় উপস্থাপন করেন।
- শিক্ষার্থীদের শান্তভাবে নির্দিষ্ট কিছু সময় (৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট) দেওয়া হয় নিজে নিজে একা চিন্তা করার এবং নিজ নিজ খাতায় উত্তর বা আইডিয়া নোট করার জন্য।
- Pair (জোড়ায় আলোচনা):
- এবার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা সহপাঠীর (Partner) সাথে জোড়া তৈরি করতে বলেন।
- শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ চিন্তা ও উত্তর একে অপরের সাথে শেয়ার করে, আলোচনা করে এবং সমন্বিত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
- Share (সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া):
- শেষ ধাপে শিক্ষক কিছু জোড়াকে বেছে নিয়ে পুরো ক্লাসের সামনে তাদের উত্তর বা আইডিয়া শেয়ার করতে বলেন।
- শিক্ষক তা ব্ল্যাকবোর্ডে বা চার্টে সারসংক্ষেপ হিসেবে লিখে রাখতে পারেন।
চিত্র রূপ (Visual Representation)
নিচে থিংক-পেয়ার-শেয়ার কৌশলের পর্যায়ক্রমিক প্রবাহ চিত্রাকারে উপস্থাপন করা হলো:
+-------------------------------------------------------+
| থিংক-পেয়ার-শেয়ার (TPS) প্রবাহ |
+-------------------------------------------------------+
+-------------------+
| ১. Think (T) |
| (এককভাবে চিন্তা) |
+---------+---------+
|
| (নিজের ধারণা সাজানো)
v
+-------------------+
| ২. Pair (P) |
| (জোড়ায় আলোচনা) |
+---------+---------+
|
| (পরস্পরের মত বিনিময়)
v
+-------------------+
| ৩. Share (S) |
| (সবার সাথে শেয়ার) |
+-------------------+
(শ্রেণীকক্ষে সামগ্রিক
সিদ্ধান্ত গ্রহণ)
বাস্তব উদাহরণ
- বিষয়: সমাজবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞান।
- প্রশ্ন: "প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কী পরিবর্তন আনা উচিত?"
- Think (চিন্তা): প্রতিটি শিক্ষার্থী ১ মিনিট একা চিন্তা করে ২-৩টি পয়েন্ট নিজ খাতায় লেখে।
- Pair (জোড়া): বেঞ্চের পাশের বন্ধুর সাথে আলোচনা করে দুজনের আইডিয়া মিলিয়ে সেরা ২টি সমাধান তৈরি করে।
- Share (শেয়ার): শিক্ষক কয়েকটি জোড়াকে তাদের পয়েন্টগুলো ক্লাসের সবাইকে বলতে বলেন এবং বোর্ডে তুলে ধরেন।
থিংক-পেয়ার-শেয়ার কৌশলের সুবিধা
- লজ্জা ও সংকোচ দূর হয়: যে শিক্ষার্থীরা পুরো ক্লাসের সামনে কথা বলতে ভয় পায়, তারা প্রথমে জোড়ায় আলোচনা করায় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
- সক্রিয় অংশগ্রহণ: ক্লাসের প্রতিটি শিক্ষার্থী (১০০%) কোনো না কোনোভাবে চিন্তায় ও আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হয়।
- যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ: কথা বলা, অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও নিজের যুক্তি উপস্থাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
মন্তব্য করুন
০
০ মন্তব্য