সহযোগী অধ্যাপক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: কবে চালু ও আবেদন নিয়ম | Malaysia Calling Visa 2026
📖 এক ক্লিকে মালয়েশিয়া কলিং ভিসা আবেদন করুন
📖 মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬ আবেদনের নিয়ম দেখুন
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবার খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার (Malaysia labour market)। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে — প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে (zero cost migration) মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সবার একটাই প্রশ্ন — মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কি চালু হয়েছে (Malaysia calling visa update)? কবে থেকে আবেদন করা যাবে? খরচ কত লাগবে?
এই পোস্টে মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬ (Malaysia calling visa 2026) নিয়ে যা যা জানা দরকার, সবকিছু এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো — সর্বশেষ আপডেট, আবেদনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচের আসল চিত্র এবং দালাল-প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়। তবে শুরুতেই সবচেয়ে জরুরি সতর্কতাটা জেনে রাখুন: সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো দালাল বা এজেন্সিকে এক টাকাও দেবেন না, পাসপোর্টও জমা দেবেন না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় (Ministry of Expatriates' Welfare) নিজেই এই কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।
একনজরে মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬
বিষয় | তথ্য |
প্রথম ধাপে কর্মী সংখ্যা | ১০,০০০ জন |
প্রথম ধাপের খরচ | সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো কস্ট) |
পাঠানোর মাধ্যম | বোয়েসেল (BOESL) — অগ্রাধিকার ভিত্তিতে |
মোট অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান | ৩৩৮টি (বোয়েসেল + ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি + ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি) |
ভিসার ধরন | কলিং ভিসা বা VDR (Visa With Reference) |
চুক্তির ভিত্তি | ১৮ ডিসেম্বর ২০২২-এর দ্বিপাক্ষিক MoU |
বর্তমান অবস্থা | ঘোষণা হয়েছে; চূড়ান্ত খরচের তালিকা ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি |
আবেদন | অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির পর অনলাইনে (মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে) |
কলিং ভিসা কী (What is Calling Visa)
অনেকেই জানতে চান — কলিং ভিসা কি (calling visa ki)? মালয়েশিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার মূল ভিসাটির আনুষ্ঠানিক নাম হলো ‘ভিসা উইথ রেফারেন্স’ বা VDR (Visa With Reference)। সহজ ভাষায় একেই সবাই ‘কলিং ভিসা’ বলে চেনে। নিয়োগকর্তা কোম্পানি মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে কর্মী নেওয়ার কোটা অনুমোদন পাওয়ার পর ইমিগ্রেশন বিভাগ কর্মীর নামে এই VDR ইস্যু করে। অর্থাৎ কোম্পানি আপনাকে ‘ডেকে পাঠাচ্ছে’ — সেই ডাক বা রেফারেন্সের ভিত্তিতেই ভিসা হয়, তাই নাম কলিং ভিসা।
এই VDR পাওয়ার পর কর্মীর পাসপোর্টে ই-ভিসা (e-Visa) দেওয়া হয় এবং সেটি নিয়েই মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করা যায়। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর পাসপোর্টে বসে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাস বা PLKS স্টিকার। মনে রাখবেন, কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় ঢোকার একমাত্র বৈধ পথ হলো এই কলিং ভিসা (VDR)। ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করা বা ভিসার ধরন বদলানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে: সর্বশেষ আপডেট ও বর্তমান অবস্থা
সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নের উত্তরটা পরিষ্কার করে বলি: মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026 (Malaysia calling visa kobe chalu hobe) — নীতিগতভাবে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। ২০২৪ সালের মে মাসে নানা অনিয়ম ও জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর ভিত্তিতে এবার নতুন করে প্রক্রিয়া সাজানো হয়েছে, যাতে পুরনো সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত খরচের সুযোগ না থাকে।
তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। শ্রমবাজার ‘খুলে দেওয়ার ঘোষণা’ আসা মানেই আজ থেকেই আবেদন শুরু হয়ে গেছে — এমন নয়। বর্তমান অবস্থা হলো:
প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মীকে বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সম্মতি হয়েছে।
মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে — এর মধ্যে বোয়েসেল (BOESL), ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে।
কলিং ভিসা ও ই-ভিসার প্রশাসনিক কাজগুলো মূলত বোয়েসেল ও অনুমোদিত ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
চূড়ান্ত খরচের তালিকা এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ মালয়েশিয়া কলিং ভিসার আজকের খবর (Malaysia calling visa latest news) হলো — দরজা খোলার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির। বিজ্ঞপ্তি এলেই এই পোস্টে আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে। কেউ যদি এখনই ‘ভিসা হয়ে যাবে’ বলে টাকা চায়, বুঝবেন সেটি প্রতারণা — কারণ আবেদনের সরকারি প্রক্রিয়াই এখনো শুরু হয়নি।
জিরো কস্টে ১০,০০০ কর্মী: বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ
এবারের সবচেয়ে বড় খবর হলো জিরো কস্ট (zero cost) পদ্ধতি। প্রথম ধাপে নির্বাচিত ১০,০০০ কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। ‘জিরো কস্ট’ মানে হলো — ভিসা, প্রসেসিং, মেডিকেল ও যাতায়াতসহ যাবতীয় অভিবাসন ব্যয় কর্মীর পকেট থেকে যাবে না; এই খরচ বহন করবে নিয়োগকর্তা পক্ষ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা। এই বিশেষ প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL — Bangladesh Overseas Employment and Services Limited)-কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো বেসরকারি মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল এই সুযোগের মাঝখানে ঢুকতে না পারে।
কেন এই পদ্ধতি এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ আগের সাইকেলে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ফি সামান্য হলেও দালাল-সিন্ডিকেটের কারণে কর্মীদের গুনতে হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। জিরো কস্ট মডেলে সেই সুযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম ধাপের ১০,০০০ কর্মীর পর পরবর্তী ধাপগুলোতে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানো হবে — তবে সেক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
কারা আবেদন করতে পারবে (যোগ্যতা)
মালয়েশিয়া কলিং ভিসায় কারা আবেদন করতে পারবে (Malaysia calling visa eligibility) — এই বিষয়ে চূড়ান্ত যোগ্যতার তালিকা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে। তবে আগের সাইকেলের অভিজ্ঞতা ও সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যেসব বিষয় থাকা জরুরি:
বয়স: সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত বয়সসীমা বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হবে।
পাসপোর্ট: বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টে পর্যাপ্ত মেয়াদ বাকি থাকতে হবে। মেয়াদ কম থাকলে এখনই নবায়ন করে রাখুন।
স্বাস্থ্য: নির্ধারিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ফিট (fit) হতে হবে।
শিক্ষা ও দক্ষতা: সাধারণ খাতের কাজে উচ্চশিক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক নয়, তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের দক্ষতার সনদ থাকলে তা আবেদনে যুক্ত করতে হবে। দক্ষ (skilled) ক্যাটাগরিতে ট্রেড সার্টিফিকেট থাকলে অগ্রাধিকার মিলতে পারে।
খাতসমূহ: আগের মতোই প্রধান কাজের খাতগুলো হলো — কারখানা বা ম্যানুফ্যাকচারিং (manufacturing), নির্মাণ (construction), বাগান বা প্ল্যান্টেশন (plantation), কৃষি (agriculture) এবং সেবা খাত (service sector)। মনে রাখবেন, গৃহকর্মীদের প্রক্রিয়া এই সাধারণ কলিং ভিসার আওতায় নয় — তাঁদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো এজেন্সি আপনাকে ‘যোগ্য’ বা ‘নিশ্চিত নির্বাচিত’ বললে সতর্ক থাকুন — নির্বাচনের একমাত্র ভিত্তি হবে সরকারি প্রক্রিয়া।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসার আবেদন করার নিয়ম: ধাপে ধাপে
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা আবেদন (Malaysia calling visa apply) প্রক্রিয়ার ধাপগুলো জানা থাকলে দালালের মিথ্যা কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে এগোয়:
ধাপ ১: অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেল (BOESL)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এই বিজ্ঞপ্তিতেই থাকবে — কোন খাতে কতজন কর্মী নেওয়া হবে, যোগ্যতা কী, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদনের লিংক। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ‘আবেদন চলছে’ শুনলে আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ২: অনলাইনে আবেদন
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে হবে। প্রথম ধাপের জিরো কস্ট নিয়োগে বোয়েসেলের মাধ্যমে সরাসরি আবেদনের সুযোগ থাকবে — কোনো বেসরকারি এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে আবেদন জমা দিতে হবে না।
ধাপ ৩: বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন
বিদেশগামী প্রতিটি কর্মীকে বিএমইটি (BMET) ডাটাবেজে নিবন্ধিত হতে হয়। আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই এই রেজিস্ট্রেশন করা যায় এবং QR কোডযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়া যায়। এখনো রেজিস্ট্রেশন না করে থাকলে সময় থাকতেই করে রাখুন।
ধাপ ৪: চাহিদাপত্র (Demand Letter) সত্যায়ন
মালয়েশিয়ার কোম্পানি কর্মী নেওয়ার কোটা অনুমোদন পাওয়ার পর চাহিদাপত্র বা ডিমান্ড লেটার (demand letter) ইস্যু করে, যা কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশন যাচাই করে সত্যায়িত করে। এই সত্যায়িত চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেই কর্মী বাছাই চূড়ান্ত হয়।
ধাপ ৫: মেডিকেল পরীক্ষা
নির্বাচিত কর্মীকে সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং রিপোর্ট মালয়েশিয়ার FOMEMA সিস্টেমে যাবে। বিশেষ সতর্কতা: ২০২৬ সালের নতুন সাইকেলের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই বোয়েসেল বা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আগেই কোনো ক্লিনিকে মেডিকেল টেস্ট করাবেন না — অননুমোদিত রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
ধাপ ৬: কলিং ভিসা (VDR) ও ই-ভিসা ইস্যু
সব যাচাই শেষ হলে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে কলিং ভিসা (VDR) ইস্যু হয় এবং পাসপোর্টে ই-ভিসা (e-Visa) দেওয়া হয়। আসল VDR বা ই-ভিসা মালয়েশিয়া সরকারের অফিশিয়াল পোর্টালে যাচাই করা যায় — শুধু কাগজের প্রিন্ট দেখে নিশ্চিত হবেন না।
ধাপ ৭: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও যাত্রা
শেষ ধাপে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স (BMET clearance) নিয়ে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। এরপর ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে ইমিগ্রেশন পার হলে কোম্পানি কর্মীকে গ্রহণ করে এবং পাসপোর্টে PLKS স্টিকার বসে।
এখন থেকে যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন
বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় বসে না থেকে এখনই এই কাজগুলো সেরে রাখুন: (১) পাসপোর্ট না থাকলে বানিয়ে নিন, মেয়াদ কম থাকলে নবায়ন করুন; (২) আমি প্রবাসী অ্যাপে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করে রাখুন; (৩) শিক্ষাগত ও দক্ষতার সনদগুলো গুছিয়ে রাখুন; (৪) কোনো একটি কাজে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন — দক্ষ কর্মীর চাহিদা সব খাতেই বেশি; (৫) প্রতিদিন মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (চেকলিস্ট)
আবেদনের সময় যেসব কাগজপত্র লাগবে, আগেই গুছিয়ে রাখুন:
কাগজপত্র | বিবরণ |
বৈধ পাসপোর্ট | মূল পাসপোর্ট, পর্যাপ্ত মেয়াদসহ |
পাসপোর্ট সাইজের ছবি | সাম্প্রতিক তোলা ছবি (বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী) |
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | বায়োমেট্রিক তথ্যসহ |
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
দক্ষতা/অভিজ্ঞতার সনদ | ট্রেড সার্টিফিকেট বা কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ (যদি থাকে) |
মেডিকেল রিপোর্ট | নির্ধারিত অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে (নির্দেশনার পর) |
বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড | আমি প্রবাসী অ্যাপ থেকে প্রাপ্ত QR কোডযুক্ত কার্ড |
কোনো কাগজের মূল কপি দালালের হাতে তুলে দেবেন না। প্রয়োজনে ফটোকপি দিন এবং মূল কপি নিজের কাছে রাখুন।
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে: সরকারি ফি বনাম বাস্তবতা
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে (Malaysia jete koto taka lage) — এটি কর্মীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা। এবারের চিত্রটি পরিষ্কার:
প্রথম ধাপ (১০,০০০ কর্মী): সম্পূর্ণ জিরো কস্ট — কর্মীর কোনো অভিবাসন খরচ লাগবে না।
পরবর্তী ধাপসমূহ: সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী খরচ হবে। তবে ২০২৬ সালের নতুন সাইকেলের চূড়ান্ত খরচের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি — ঘোষণা এলে তা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতেই জানা যাবে।
আগের সাইকেলের অভিজ্ঞতা: আগেরবার সরকার নির্ধারিত মোট ফি ছিল মাত্র ৭৯,০০০ টাকার মতো। কিন্তু দালাল ও সিন্ডিকেটের কারণে বাস্তবে অনেক কর্মীকে ৫–৬ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছিল। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণেই এবার সরকার জিরো কস্ট মডেল ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।
যে খরচ কর্মীর নয়: মালয়েশিয়া প্রান্তের লেভি (levy) ফি, ভিসা ফি ও সিকিউরিটি বন্ড নিয়োগকর্তা কোম্পানির বহন করার কথা। কোনো এজেন্সি এসবের নামে কর্মীর কাছ থেকে টাকা চাইলে সেটি নিয়মবহির্ভূত।
সুতরাং এখন কেউ যদি ‘সিন্ডিকেট ফি’, ‘ডিমান্ড ফি’ বা ‘ব্লক মানি’র নামে ৩–৬ লাখ টাকা দাবি করে, সরাসরি বুঝে নিন — এটি প্রতারণা। অভিযোগ জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।
অনুমোদিত ৩৩৮ প্রতিষ্ঠান: এজেন্সি যাচাই করবেন যেভাবে
এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনুমোদন পেয়েছে মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান:
বোয়েসেল (BOESL): সরকারি প্রতিষ্ঠান — প্রথম ধাপের জিরো কস্ট নিয়োগে অগ্রাধিকার।
২৫টি প্রসেসিং/সার্ভিস এজেন্সি: কলিং ভিসা ও ই-ভিসার প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে।
৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি: নিজ নিজ লাইসেন্সের আওতায় কর্মী প্রেরণ ও বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের কাজ করবে।
এই তালিকার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর অনুমোদিত নয়। এজেন্সি আসল কিনা যাচাইয়ের উপায়:
অফিসিয়াল তালিকা মেলান: মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অনুমোদিত এজেন্সির তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম ও লাইসেন্স (RL) নম্বর আছে কিনা দেখুন।
অফিসে যান, দালালের কথায় নয়: অনুমোদিত এজেন্সির নিজস্ব অফিস ও লাইসেন্স প্রদর্শিত থাকে। শুধু মোবাইলে যোগাযোগ করা ‘মাধ্যম’ বা দালালের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
আমি প্রবাসী অ্যাপে যাচাই: টাকা দেওয়ার আগে আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপে নিজের বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন ও প্রক্রিয়ার অবস্থা নিজে যাচাই করুন।
ভিসা যাচাই: ভিসা হাতে পেলে মালয়েশিয়া সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করুন — ছাপানো কাগজই যথেষ্ট প্রমাণ নয়।
রসিদ ছাড়া টাকা নয়: কোনো অর্থ লেনদেন হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, টাকার অঙ্ক ও কারণ উল্লেখ করে লিখিত রসিদ নিন।
দালাল-প্রতারণা এড়ানোর উপায়: মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা
শ্রমবাজার খোলার খবরের সঙ্গে সঙ্গে দালাল চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা বেসরকারি এজেন্সিকে টাকা বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।
বোয়েসেলের নির্দেশনা ছাড়া আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল ফিটনেস টেস্ট করাবেন না।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য সরকার ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক (24/7 helpline) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে — যেকোনো প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহ হলে সেখানে অভিযোগ জানান।
প্রতারণার যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন:
‘ভিসা আগে, টাকা এখনই’: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই টাকা দাবি করা মানেই প্রতারণা।
হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া PDF ভিসা: অনেক দালাল এডিট করা PDF পাঠিয়ে বলে ‘আপনার কলিং ভিসা এসে গেছে’। অফিসিয়াল পোর্টালে যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করবেন না।
ট্যুরিস্ট ভিসার প্রলোভন: ‘আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় যান, গিয়ে কাজের ভিসা বানিয়ে দেব’ — এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করা যায় না, ধরা পড়লে জেল-জরিমানা ও দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
অননুমোদিত মেডিকেল সেন্টার: ‘এটাই মালয়েশিয়া অনুমোদিত ক্লিনিক’ বলে পাড়ার ক্লিনিকে টেস্ট করালে সেই রিপোর্ট FOMEMA সিস্টেমে গ্রহণ হবে না — টাকাটাই নষ্ট হবে।
অতিরিক্ত খরচের দাবি: সরকারি ফির বাইরে ‘সিন্ডিকেট ফি’ বা ‘ব্লক মানি’ চাওয়া বেআইনি।
কোম্পানির নাম বলতে না পারা: কোন কোম্পানিতে, কোন খাতে কাজ — এসব নির্দিষ্ট তথ্য দিতে টালবাহানা করলে সেই প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন।
মনে রাখবেন, আপনার কষ্টের টাকা ও ভবিষ্যৎ দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে এক মুহূর্তের অসতর্কতায়। সরকারি প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরে এগোনোই একমাত্র নিরাপদ পথ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কি চালু হয়েছে?
নীতিগতভাবে হ্যাঁ। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মীকে বিনা খরচে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আবেদনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি — বিজ্ঞপ্তি এলেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে থেকে আবেদন করা যাবে?
আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেই মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি ও সার্কুলার প্রকাশ করা হবে। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই আবেদনের তারিখ ও নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হবে।
কলিং ভিসা মানে কী?
কলিং ভিসা হলো ‘ভিসা উইথ রেফারেন্স’ বা VDR (Visa With Reference) — মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা কোম্পানি কোটা অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মীর নামে ইস্যু করা কাজের ভিসা। এই ভিসা ছাড়া কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করা যায় না।
সত্যিই কি বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ — প্রথম ধাপে নির্বাচিত ১০,০০০ কর্মীর জন্য সরকার সম্পূর্ণ জিরো কস্ট (zero cost) পদ্ধতির ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে অভিবাসন ব্যয় বহন করবে নিয়োগকর্তা পক্ষ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা। এই ধাপে বোয়েসেলের মাধ্যমে নিয়োগ হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর খরচ সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী হবে, যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা লাগবে?
প্রথম ধাপের ১০,০০০ কর্মীর জন্য খরচ শূন্য। পরবর্তী ধাপের চূড়ান্ত খরচের তালিকা এখনো ঘোষণা হয়নি। আগের সাইকেলে সরকারি ফি ছিল প্রায় ৭৯,০০০ টাকা, যদিও দালালদের কারণে বাস্তবে অনেকে ৫–৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এবার এর বেশি টাকা কেউ চাইলে সেটি প্রতারণা ধরে অভিযোগ করুন।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে?
২০২৬ সালের নতুন সাইকেলের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। বোয়েসেল বা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আগেই কোনো ক্লিনিকে মেডিকেল টেস্ট করাবেন না — অননুমোদিত সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ করা যাবে কি?
না, একদমই না। মালয়েশিয়ার আইনে কাজের জন্য অবশ্যই কলিং ভিসা (VDR) নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে হয়। ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করা বেআইনি — ধরা পড়লে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কোনো দালাল এই প্রস্তাব দিলে বুঝবেন সে প্রতারক।
কোনো এজেন্সি বা দালাল টাকা চাইলে কী করব?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট দেবেন না — এটাই মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা। এমন দাবি পেলে টাকা না দিয়ে প্রথমে যাচাই করুন প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত ৩৩৮ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে কিনা। প্রতারণার চেষ্টা হলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সরকারের ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেলে অভিযোগ জানান।
শেষ কথা
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬ (Malaysia calling visa 2026) নিয়ে এবারের খবর সত্যিই আশাব্যঞ্জক — বন্ধ শ্রমবাজার খুলেছে, প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মী যাবেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে, আর পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে থাকছে সরকারি নজরদারি। কিন্তু এই সুযোগের আসল সুফল পেতে হলে ধৈর্য ও সতর্কতা দুটোই জরুরি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগ পর্যন্ত কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট দেবেন না, পাসপোর্ট ও কাগজপত্র গুছিয়ে আমি প্রবাসী অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন সেরে রাখুন, আর সর্বশেষ আপডেটের জন্য মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেই এই পোস্টে আবেদনের তারিখ ও সরাসরি নিয়ম আপডেট করে দেওয়া হবে।
৮
৮ মন্তব্য