সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ডিভি লটারিতে কারা আবেদন করতে পারবে ২০২৭ | DV Lottery 2027 Eligibility
📖 ডিভি লটারিতে কারা আবেদন করতে পারবে 2027
📖 ডিভি লটারিতে কারা আবেদন করতে পারবে দেখুন
ডিভি লটারি ২০২৭ (DV Lottery 2027) নিয়ে সবার প্রথম প্রশ্ন একটাই — আমি কি আবেদন করতে পারব? এই প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে দেয় একটা মাত্র নিয়ম: আপনার জন্ম কোন দেশে (country of birth rule)। আপনার নাগরিকত্ব কোন দেশের (citizenship), পাসপোর্ট কোন দেশের, বা আপনি এখন কোন দেশে বাস করছেন — এর কোনোটাই ডিভি লটারির যোগ্যতা ঠিক করে না। ঠিক করে শুধু জন্মদেশ। জন্মদেশ যোগ্য তালিকায় থাকলে আপনি আবেদন করতে পারবেন; না থাকলে সরাসরি পারবেন না — তবে আইনগত দুটি ব্যতিক্রমী পথ খোলা আছে। এই গাইডে পুরো বিষয়টা সহজ ভাষায় খুলে বলা হলো — বাংলাদেশ কেন তালিকার বাইরে, কোন ১৯টি দেশ অযোগ্য (ineligible countries), এশিয়ার কোন দেশগুলো যোগ্য, স্বামী-স্ত্রী বা বাবা-মায়ের জন্মদেশ দিয়ে কীভাবে আবেদন সম্ভব (cross-chargeability), শিক্ষাগত যোগ্যতা (education requirements) ঠিক কতটুকু লাগে, কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে কীভাবে যোগ্য হওয়া যায়, আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নিয়মটা আসলে কী। একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা ভালো: ডিভি লটারি ২০২৭-এর চূড়ান্ত যোগ্য-অযোগ্য দেশের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি — সেটা আসবে ২৯ অক্টোবরের অফিসিয়াল ঘোষণার সঙ্গে। এই গাইডের ভিত্তি হলো ডিভি প্রোগ্রামের স্থায়ী নিয়ম আর সবশেষ প্রকাশিত DV-2026-এর অফিসিয়াল তালিকা (dv lottery 2027 eligible countries list)।
বাংলাদেশ কেন অযোগ্য (Why Bangladesh Is Not Eligible for DV Lottery)
ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কম, সেসব দেশের মানুষকে সুযোগ দেওয়া। তাই নিয়ম করা হয়েছে — আগের পাঁচ বছরে যে দেশগুলো থেকে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষ অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে, সেই দেশগুলো ওই বছরের লটারি থেকে বাদ পড়ে (50,000 immigrant rule)। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর এত বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যান যে, বাংলাদেশ এই সীমার অনেক ওপরে চলে গেছে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি লটারির জন্য অযোগ্য — অর্থাৎ DV-2013 চক্র থেকে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ সরাসরি এই লটারিতে অংশ নিতে পারছেন না। সবশেষ প্রকাশিত DV-2026-এর অফিসিয়াল নির্দেশিকায়ও বাংলাদেশ অযোগ্য ১৯টি দেশের তালিকায় ছিল (dv lottery bangladesh eligibility status)।
এবার প্রশ্ন হলো, DV-2027-এ কি বাংলাদেশের নাম ফিরতে পারে? সৎ উত্তর হলো — এখনো জানা যায়নি, আর পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিতও নেই। তালিকাটি প্রতি বছর নতুন পাঁচ বছরের অভিবাসন পরিসংখ্যান দিয়ে তৈরি হয়, আর বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের সংখ্যা এখনো সীমার অনেক ওপরে। তাই ২৯ অক্টোবরের ঘোষণা আসার আগে কেউ যদি বলে "এবার বাংলাদেশ আবেদন করতে পারবে" — সেটা এখন পর্যন্ত অনুমান বা গুজব ছাড়া কিছু নয়। অফিসিয়াল তালিকা প্রকাশিত হলেই এই পেজের ক্লাস্টারে আপডেট দেওয়া হবে। তবে একটা কথা মনে রাখুন — সরাসরি পথ বন্ধ মানেই সব পথ বন্ধ নয়। জন্মদেশ বাংলাদেশ হলেও পরিবারের অন্য সদস্যের জন্মদেশ দিয়ে আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে, যেটা এই গাইডের ব্যতিক্রম অংশে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অযোগ্য দেশের তালিকা (List of Ineligible Countries for DV Lottery)
নিচের তালিকাটি DV-2026-এর অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী। এই ১৯টি দেশে জন্ম নেওয়া মানুষ সরাসরি ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারেন না (dv lottery ineligible countries list 2027)। DV-2027-এর তালিকা ২৯ অক্টোবরের ঘোষণায় প্রকাশ পাবে — সাধারণত বছরে বছরে এই তালিকায় বড় পরিবর্তন হয় না।
দেশ (Country) | অঞ্চল (Region) |
বাংলাদেশ (Bangladesh) | এশিয়া |
ব্রাজিল (Brazil) | দক্ষিণ আমেরিকা |
কানাডা (Canada) | উত্তর আমেরিকা |
চীন — মূল ভূখণ্ড ও হংকংসহ (China, including Hong Kong) | এশিয়া |
কলম্বিয়া (Colombia) | দক্ষিণ আমেরিকা |
কিউবা (Cuba) | ক্যারিবীয় |
ডোমিনিকান রিপাবলিক (Dominican Republic) | ক্যারিবীয় |
এল সালভাদর (El Salvador) | মধ্য আমেরিকা |
হাইতি (Haiti) | ক্যারিবীয় |
হন্ডুরাস (Honduras) | মধ্য আমেরিকা |
ভারত (India) | এশিয়া |
জ্যামাইকা (Jamaica) | ক্যারিবীয় |
মেক্সিকো (Mexico) | উত্তর আমেরিকা |
নাইজেরিয়া (Nigeria) | আফ্রিকা |
পাকিস্তান (Pakistan) | এশিয়া |
ফিলিপাইন (Philippines) | এশিয়া |
দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) | এশিয়া |
ভেনেজুয়েলা (Venezuela) | দক্ষিণ আমেরিকা |
ভিয়েতনাম (Vietnam) | এশিয়া |
লক্ষ করুন — এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম এই তালিকায় আছে। অর্থাৎ এশিয়া থেকেও বড় জনসংখ্যার দেশগুলোর নাগরিকেরা জন্মদেশের কারণে সরাসরি আবেদন করতে পারেন না। আপনার জন্ম যদি এই ১৯টি দেশের কোনো একটিতে হয়, তাহলে এই গাইডের ক্রস-চার্জেবিলিটি (cross-chargeability) অংশটা আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটা সাধারণ বিভ্রান্তি এখানে পরিষ্কার করা দরকার — এই তালিকাটা জন্মদেশের, নাগরিকত্বের নয়। যেমন কারো জন্ম ভারতে হলে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও ভারতের নেটিভ হিসেবেই গণ্য হবেন এবং সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। আবার উল্টোটাও সত্য — কারো জন্ম নেপালে হলে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হোন বা বাংলাদেশেই বসবাস করুন, নেপালের নেটিভ হিসেবে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে এই হিসেব বদলায় না; ঠিক হয় শুধু জন্মের স্থান দিয়ে। তাই নিজের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রথম ধাপ হলো জন্ম সনদে লেখা জন্মস্থানটি মিলিয়ে দেখা।
এশিয়ার যোগ্য দেশগুলো (Eligible Countries in Asia for DV Lottery)
যোগ্য দেশের তালিকা বোঝার নিয়মটা খুব সহজ — মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আলাদা করে যোগ্য দেশের তালিকা দেয় না, দেয় শুধু অযোগ্য দেশের তালিকা। অর্থাৎ যে দেশের নাম অযোগ্য তালিকায় নেই, সেই দেশ জন্মদেশ হিসেবে যোগ্য (eligible by default)। এই নিয়ম অনুযায়ী এশিয়ার বহু দেশই যোগ্য, যেমন — নেপাল (Nepal), ভুটান (Bhutan), শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka), মালদ্বীপ (Maldives), থাইল্যান্ড (Thailand), মালয়েশিয়া (Malaysia), ইন্দোনেশিয়া (Indonesia), জাপান (Japan), সৌদি আরব (Saudi Arabia), সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates) ইত্যাদি। এই দেশগুলোর যেকোনো একটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি সেই দেশের "নেটিভ" (native of an eligible country) হিসেবে গণ্য হন এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরাসরি আবেদন করতে পারেন।
বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে এই তালিকার সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো নেপাল। প্রতিবেশী এই দেশটি অযোগ্য তালিকায় নেই, তাই নেপালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ডিভি লটারির জন্য পুরোপুরি যোগ্য। এই তথ্যটা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা পরের অংশেই পরিষ্কার হবে — কারণ আপনার নিজের জন্ম বাংলাদেশে হলেও, আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি নেপালের মতো যোগ্য কোনো দেশে জন্মে থাকেন, তাহলে আপনার পরিবারের জন্য আবেদনের দরজা খুলে যেতে পারে।
ব্যতিক্রম: বাংলাদেশে জন্ম হলেও যেভাবে আবেদন সম্ভব (Cross-Chargeability Explained)
এবার আসা যাক এই গাইডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে। আপনার জন্ম অযোগ্য দেশে হলেও দুটি আইনগত পথে আপনি অন্য একটি যোগ্য দেশকে নিজের জন্মদেশ হিসেবে "চার্জ" করতে পারেন (chargeability)। একে বলা হয় ক্রস-চার্জেবিলিটি (cross-chargeability)। পথ দুটি হলো — স্বামী বা স্ত্রীর জন্মদেশ, এবং বাবা-মায়ের জন্মদেশ। এর বাইরে ভাইবোন, সন্তান বা অন্য কোনো আত্মীয়ের জন্মদেশ দিয়ে এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
পথ ১: স্বামী বা স্ত্রীর জন্মদেশ (Spouse's Country of Birth)
আপনার স্ত্রী বা স্বামী (spouse) যদি যোগ্য কোনো দেশে জন্মে থাকেন, তাহলে আপনি তার জন্মদেশকে নিজের চার্জেবিলিটি দেশ হিসেবে ব্যবহার করে আবেদন করতে পারেন (chargeability to spouse's country of birth)। একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক — ধরুন স্ত্রীর জন্ম বাংলাদেশে, আর স্বামীর জন্ম নেপালে। এই পরিবারে সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো স্বামীকে প্রধান আবেদনকারী (principal applicant) করা, কারণ তিনি জন্মগতভাবেই যোগ্য দেশের নেটিভ — তার কোনো ব্যতিক্রমের দরকার নেই; স্ত্রী ও সন্তানেরা তার এন্ট্রিতে ডেরিভেটিভ (derivative) হিসেবে থাকবেন। আবার স্ত্রী চাইলে নিজেও প্রধান আবেদনকারী হয়ে আলাদা একটি এন্ট্রি দিতে পারেন — সেখানে তিনি নিজের চার্জেবিলিটি দেশ হিসেবে স্বামীর জন্মদেশ নেপাল দাবি করবেন (cross-charge)। অর্থাৎ এমন দম্পতি চাইলে দুটি আলাদা এন্ট্রি দিতে পারেন — স্বামীর এন্ট্রি নেপালের নেটিভ হিসেবে, স্ত্রীর এন্ট্রি নেপালে ক্রস-চার্জ করে — এবং দুটি এন্ট্রিতেই অপরজন ও সব সন্তানের নাম তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। এতে পরিবারের সুযোগ দ্বিগুণ হয় এবং এটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত। তবে শর্ত হলো — ক্রস-চার্জ করা এন্ট্রিতে নির্বাচিত হলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই একসঙ্গে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে; spouse-কে বাদ দিয়ে একা ভিসা নেওয়া যাবে না।
পথ ২: বাবা-মায়ের জন্মদেশ (Parents' Country of Birth)
দ্বিতীয় পথটি হলো বাবা-মায়ের দিক থেকে। আপনার বাবা বা মা যদি যোগ্য কোনো দেশে জন্মে থাকেন, তাহলে আপনি সেই দেশকে চার্জেবিলিটি দেশ হিসেবে দাবি করতে পারেন। যেমন — আপনার জন্ম বাংলাদেশে, কিন্তু আপনার মায়ের জন্ম নেপালে; সেক্ষেত্রে আপনি মায়ের জন্মদেশ নেপাল দাবি করে আবেদন করতে পারবেন। আরেকটি ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাওয়া যায় — আপনার জন্মের সময় আপনার বাবা-মা যদি যোগ্য কোনো দেশের বৈধ বাসিন্দা (legal resident) ছিলেন এবং একই সঙ্গে জন্মদেশে (অযোগ্য দেশে) তাঁরা বাসিন্দা ছিলেন না, তাহলেও সেই দেশ দাবি করা যায়। এই পথটি সাধারণত যাদের বাবা-মা কাজের বা বসবাসের সূত্রে বিদেশে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
কাগজপত্র ও সতর্কতা (Documents and Warnings)
ক্রস-চার্জেবিলিটি দাবি করলেই হবে না — নির্বাচিত হলে ভিসা ইন্টারভিউতে সেটা প্রমাণ করতে হবে। আপনার নিজের জন্ম সনদ (birth certificate), spouse-এর জন্ম সনদ যেখানে তার জন্মদেশ স্পষ্ট লেখা আছে, বিবাহ সনদ (marriage certificate), আর বাবা-মায়ের পথ ব্যবহার করলে তাদের জন্ম সনদ বা জন্মের সময়ের বাসস্থানের প্রমাণ — এসব কাগজপত্র লাগবে। প্রমাণ দিতে না পারলে নির্বাচিত হয়েও ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। আরেকটা বিষয়ে কঠোর সতর্কতা: জন্মদেশ নিয়ে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এন্ট্রি করা যাবে না। ভুল চার্জেবিলিটি দাবি ধরা পড়লে এন্ট্রি ও ভিসা দুটোই বাতিল হয়, এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভিসার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপনার পরিবারের ক্ষেত্রে কোন পথটি সত্যিই প্রযোজ্য, আবেদনের আগেই কাগজপত্র হাতে নিয়ে যাচাই করে নিন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা (DV Lottery Education Requirements)
জন্মদেশের শর্ত পার হওয়ার পর দ্বিতীয় বড় শর্ত হলো শিক্ষা অথবা কাজের অভিজ্ঞতা — দুটির যেকোনো একটি পূরণ করলেই চলবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে শর্ত হলো হাই স্কুল শিক্ষা (high school education) সম্পন্ন করা, যার অর্থ হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে ১২ বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা (12 years of formal education) সফলভাবে শেষ করা। বাংলাদেশের হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি (HSC) পাস করলেই এই শর্ত পূরণ হয়। এসএসসি (SSC) পর্যন্ত পড়া — অর্থাৎ ১০ বছর — যথেষ্ট নয়। মনে রাখবেন, এখানে "আনুষ্ঠানিক শিক্ষা" বলতে বোঝায় স্কুল-কলেজের নিয়মিত পাঠ্যক্রমে পড়ে পরীক্ষায় পাস করা; সমমানের পরীক্ষা বা শর্টকাট সার্টিফিকেট (equivalency certificate) দিয়ে এই ১২ বছর "পূরণ" করার কোনো সুযোগ ডিভি নিয়মে নেই।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — শিক্ষার এই শর্তটা শুধু এন্ট্রি করার সময়ের দাবি নয়, যাচাই হয় ভিসা ইন্টারভিউতে। নির্বাচিত হলে কনস্যুলার অফিসারের সামনে আপনার এইচএসসি পাসের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট দেখাতে হবে। কাগজপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে লটারিতে নাম ওঠার পরেও ভিসা মিলবে না। তাই যারা এইচএসসি পাস করেছেন, তারা আবেদনের সময় থেকেই সার্টিফিকেট ও মার্কশিট হাতের কাছে রাখুন। আরেকটা ছোট্ট কিন্তু জরুরি কথা — শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু প্রধান আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য; spouse ও সন্তানদের (derivatives) ক্ষেত্রে এই শর্ত লাগে না।
কাজের অভিজ্ঞতার বিকল্প পথ (Qualifying Work Experience for DV Lottery)
যাদের এইচএসসি পাস নেই, তাদের জন্য দ্বিতীয় পথ হলো কাজের অভিজ্ঞতা (qualifying work experience)। শর্ত হলো — গত পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত দুই বছর এমন কোনো পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যে পেশায় কাজ করতে কমপক্ষে দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা লাগে। সব পেশা এই হিসেবে পড়ে না। কোন পেশা যোগ্য তা ঠিক করা হয় মার্কিন শ্রম বিভাগের O*NET ডাটাবেস দিয়ে — পেশাটিকে O*NET-এর Job Zone 4 বা Job Zone 5-এ থাকতে হবে এবং তার SVP রেটিং হতে হবে 7.0 বা তার বেশি (O*NET Job Zone 4-5, SVP 7.0+)। Job Zone 4 মানে যেসব পেশায় কাজ শিখতে দুই থেকে চার বছরের প্রস্তুতি লাগে, আর Job Zone 5 হলো আরও উচ্চতর প্রস্তুতির পেশা। সাধারণত Job Zone 1 থেকে 3-এর পেশাগুলো — যেগুলোতে অল্প সময়ের প্রশিক্ষণেই কাজ শেখা যায় — এই পথে গণনা হয় না।
নিজের পেশা যোগ্য কিনা যাচাই করার উপায় (how to check your occupation on O*NET):
প্রথমে O*NET-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট onetonline.org-এ যান।
সার্চ বক্সে নিজের পেশার ইংরেজি নাম লিখে খুঁজুন — যেমন Electrician, Nurse বা Computer Programmer।
পেশার পেজটি খুলে নিচের দিকে "Job Zone" অংশটি দেখুন — সেখানে 4 বা 5 লেখা আছে কিনা।
একই পেজে "SVP Range" দেখুন — মান 7.0 বা তার বেশি কিনা (যেমন 7.0 to <8.0)।
দুটি শর্তই মিললে আপনার পেশা এই পথে যোগ্য ধরা হবে; নির্বাচিত হলে ইন্টারভিউতে অভিজ্ঞতার প্রমাণ — যেমন চাকরির সনদ বা নিয়োগপত্র — দেখাতে হবে।
একটা সতর্কতা: শুধু দুই বছর কাজ করলেই হবে না, কাজটা যোগ্য পেশার তালিকায় (Job Zone 4-5) থাকতে হবে। তাই এই পথে আবেদন করার আগে O*NET-এ নিজের পেশা যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি ধাপ।
বয়সসীমা আছে কি (DV Lottery Age Limit)
অনেকের প্রশ্ন — ডিভি লটারিতে আবেদনের জন্য বয়স কত হতে হবে (dv lottery age limit)? সরাসরি উত্তর হলো: ডিভি প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ন্যূনতম বা সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই (no official age limit)। ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও আবেদন করা যায়, বয়সের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। তবে বাস্তবতা হলো, আবেদনের মূল শর্তই হলো এইচএসসি পাস অথবা দুই বছরের যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা — এই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে কার্যত প্রধান আবেদনকারীর বয়স সাধারণত অন্তত ১৭-১৮ বছর হয়ে যায়। অর্থাৎ বয়স আলাদা কোনো বাধা নয়; আসল মাপকাঠি হলো শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা। কেউ যদি কম বয়সেই এইচএসসি পাস করে থাকেন, তিনিও আবেদন করতে পারবেন। আর সন্তানদের কথা আলাদা — ২১ বছরের কম বয়সী সব অবিবাহিত সন্তানকে বাবা-মায়ের এন্ট্রিতে তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক, তারা সঙ্গে যাক বা না যাক। সন্তান বাদ দিয়ে এন্ট্রি করলে পরবর্তীতে ভিসা বাতিলের বড় কারণ হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য (DV Lottery for Bangladeshi Expats)
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতারসহ বিশ্বের নানা দেশে কোটির কাছাকাছি বাংলাদেশি কাজ করেন, আর তাদের অনেকেরই ধারণা — বিদেশে থাকলেই হয়তো ডিভি লটারিতে আবেদন করা যাবে। এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা: শুধু বিদেশে বসবাস বা কাজের পারমিট (work permit/iqama) থাকলেই যোগ্যতা আসে না। আগের নিয়মটাই আবার মনে করুন — যোগ্যতা ঠিক হয় জন্মদেশ দিয়ে (country of birth), বর্তমান ঠিকানা দিয়ে নয়। সৌদি আরব বা আরব আমিরাতে দশ বছর ধরে থাকলেও, আপনার জন্ম যদি বাংলাদেশে হয়, তাহলে আপনি বাংলাদেশের নেটিভ হিসেবেই গণ্য হবেন এবং সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না (dv lottery 2027 for bangladeshi expats)।
তবে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দুটি বাস্তব দিক আছে। প্রথমত, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তান — যেমন কোনো বাংলাদেশি দম্পতির সন্তান সৌদি আরবে জন্মালে, সে জন্মসূত্রে সৌদি আরবের নেটিভ; সৌদি আরব অযোগ্য তালিকায় না থাকায় সেই সন্তান বড় হয়ে নিজের যোগ্যতায় (শিক্ষার শর্ত পূরণ করে) সরাসরি আবেদন করতে পারবে। কিন্তু মনে রাখা জরুরি — সন্তানের জন্মদেশ দিয়ে বাবা-মা আবেদন করতে পারেন না; ক্রস-চার্জেবিলিটি শুধু স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-মায়ের দিক থেকেই আসে, উল্টো দিকে নয়। দ্বিতীয়ত, প্রবাসী বাংলাদেশির spouse যদি যোগ্য দেশে জন্মে থাকেন — যেমন স্ত্রী নেপালে জন্মেছেন — তাহলে ওপরে বর্ণিত প্রথম ব্যতিক্রমী পথে পুরো পরিবারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রবাসীদের জন্য বাস্তব পরামর্শ একটাই: আবেদনের আগে দেখুন আপনার বা আপনার spouse-এর জন্মদেশ যোগ্য তালিকায় আছে কিনা — বসবাসের দেশ নয়, জন্মের দেশ।
একনজরে যোগ্যতার সারসংক্ষেপ (DV Lottery 2027 Eligibility Summary)
বিষয় | নিয়ম |
মূল ভিত্তি | যোগ্যতা ঠিক হয় জন্মদেশ (country of birth) দিয়ে; নাগরিকত্ব বা বসবাসের দেশ দিয়ে নয় |
বাংলাদেশ | ২০১২ সাল থেকে অযোগ্য; DV-2027-এর চূড়ান্ত তালিকা আসবে ২৯ অক্টোবরের ঘোষণায় |
অযোগ্য দেশ | মোট ১৯টি (DV-2026-এর অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী) |
যোগ্য দেশ | অযোগ্য তালিকায় নাম নেই এমন সব দেশই যোগ্য (যেমন: নেপাল) |
ব্যতিক্রম (Cross-Chargeability) | স্বামী/স্ত্রীর জন্মদেশ অথবা বাবা-মায়ের জন্মদেশ দাবি করা যায় |
শিক্ষাগত যোগ্যতা | এইচএসসি পাস = ১২ বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা; সমমান/শর্টকাট সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নয় |
কাজের অভিজ্ঞতা | গত ৫ বছরে অন্তত ২ বছর; O*NET Job Zone 4-5, SVP 7.0 বা বেশি |
বয়সসীমা | আনুষ্ঠানিক কোনো বয়সসীমা নেই; কার্যত শিক্ষা/অভিজ্ঞতাই মাপকাঠি |
পাসপোর্ট | নতুন নিয়মে আবেদনের সময় বৈধ পাসপোর্টের তথ্য ও বায়োগ্রাফিক পেজের স্ক্যান বাধ্যতামূলক |
সাধারণ জিজ্ঞাসা (DV Lottery Eligibility FAQ)
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি কি সরাসরি ডিভি লটারি ২০২৭-এ আবেদন করতে পারবেন?
না। জন্মদেশ বাংলাদেশ হলে সরাসরি আবেদন করা যাবে না, কারণ বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকে অযোগ্য তালিকায় আছে। DV-2027-এর চূড়ান্ত তালিকা ২৯ অক্টোবরের ঘোষণায় প্রকাশ পাবে, তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। তবে স্বামী/স্ত্রী বা বাবা-মা যোগ্য দেশে জন্মালে ক্রস-চার্জেবিলিটির পথে সুযোগ থাকতে পারে।
আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব (dual citizenship) আছে — এতে কি সুবিধা হবে?
না। ডিভি লটারিতে যোগ্যতা নাগরিকত্ব দিয়ে হয় না, হয় জন্মদেশ দিয়ে। আপনার দ্বিতীয় নাগরিকত্ব যে দেশেরই হোক, সেই দেশে আপনার জন্ম না হলে সেটি কোনো কাজে আসবে না। জন্মদেশ যোগ্য তালিকায় থাকলেই আপনি নেটিভ হিসেবে গণ্য হবেন।
আমার স্ত্রী যোগ্য দেশে (যেমন নেপালে) জন্মেছেন — আমরা কি আবেদন করতে পারব?
হ্যাঁ, পারবেন। আপনার স্ত্রী জন্মগতভাবেই যোগ্য দেশের নেটিভ, তাই তিনি নিজে প্রধান আবেদনকারী হতে পারবেন। আপনিও প্রধান আবেদনকারী হয়ে স্ত্রীর জন্মদেশ ক্রস-চার্জ (cross-charge) করে আলাদা এন্ট্রি দিতে পারেন — অর্থাৎ দম্পতি হিসেবে দুটি এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ক্রস-চার্জ করা এন্ট্রিতে জিতলে দুজনকেই একসঙ্গে ভিসার আবেদন করতে হবে।
এইচএসসি পাস না থাকলে কি আবেদনের কোনো উপায় নেই?
আছে। শিক্ষার বিকল্প হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার পথ খোলা আছে — গত পাঁচ বছরে অন্তত দুই বছর এমন পেশায় কাজ করতে হবে, যেটি O*NET ডাটাবেসে Job Zone 4 বা 5-এ পড়ে এবং যার SVP রেটিং 7.0 বা তার বেশি। নিজের পেশা onetonline.org-এ যাচাই করে নিন। তবে নির্বাচিত হলে ইন্টারভিউতে অভিজ্ঞতার কাগজপত্র দেখাতে হবে।
ডিভি লটারিতে আবেদনের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ বয়স কত?
আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বয়সসীমাই নেই। তবে এইচএসসি পাস বা দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হয় বলে কার্যত আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ১৮ বছরের কাছাকাছি বা বেশি হয়। বয়স বেশি হওয়া কোনো বাধা নয়।
আবেদনের সময় কি পাসপোর্ট লাগবে?
হ্যাঁ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রধান আবেদনকারীকে আবেদনের সময় বৈধ (মেয়াদোত্তীর্ণ নয়) পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে এবং পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক/স্বাক্ষর পেজের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে (passport requirement)। রাষ্ট্রহীন (stateless) ব্যক্তিসহ খুব সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ছাড় আছে। তাই যোগ্য হলেও পাসপোর্ট না থাকলে আবেদন করা যাবে না — আগে পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করে নিন। ধাপে ধাপে আবেদনের পদ্ধতি আমাদের আবেদনের নিয়ম গাইডে বিস্তারিত দেওয়া আছে।
বিবাহিত হলে কি আবেদনের সুযোগ বেশি?
এক অর্থে হ্যাঁ। দুজন spouse-এর প্রত্যেকে যোগ্য হলে (একজন জন্মগতভাবে, অন্যজন ক্রস-চার্জ করে হলেও) দুজনই আলাদা আলাদা এন্ট্রি দিতে পারেন, প্রতিটি এন্ট্রিতে অপরজন ও সব সন্তানের নামসহ — ফলে পরিবারের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দ্বিগুণ হয়। তবে সতর্ক থাকুন: একজন ব্যক্তি নিজে একাধিক এন্ট্রি দিলে তার সব এন্ট্রি বাতিল হয়ে যায় (one entry rule)।
সন্তান যোগ্য দেশে জন্মালে কি বাবা-মা আবেদন করতে পারবেন?
না। ক্রস-চার্জেবিলিটি শুধু স্বামী/স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের দিক থেকে পাওয়া যায় — সন্তানের জন্মদেশ দিয়ে বাবা-মা আবেদন করতে পারেন না। তবে সেই সন্তান নিজে বড় হয়ে, শিক্ষার শর্ত পূরণ করে, নিজের জন্মদেশের নেটিভ হিসেবে সরাসরি আবেদন করতে পারবে।
জন্ম সনদে জন্মস্থান নিয়ে সমস্যা থাকলে কী হবে?
ভিসা ইন্টারভিউতে জন্মদেশ প্রমাণের মূল কাগজ হলো জন্ম সনদ। কাগজপত্রে জন্মস্থান ভুল বা অস্পষ্ট থাকলে নির্বাচিত হয়েও ভিসা বাতিল হতে পারে। তাই আবেদনের আগেই জন্ম সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক করে রাখুন, আর ক্রস-চার্জ দাবি করলে spouse বা বাবা-মায়ের জন্ম সনদও প্রস্তুত রাখুন।
আমি এখন বিদেশে থাকি — আমার জন্মদেশ কোনটি ধরা হবে?
আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, জন্মদেশ বলতে বোঝায় আপনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশে জন্ম হলে বিদেশে বসবাস করলেও আপনি বাংলাদেশের নেটিভ; আবার যোগ্য কোনো দেশে জন্ম হলে বাংলাদেশে থাকলেও আপনি সেই দেশের নেটিভ হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।
আপনার বা আপনার পরিবারের জন্মদেশ যোগ্য তালিকায় থাকলে, অথবা ক্রস-চার্জেবিলিটির পথে সুযোগ থাকলে — পরের ধাপ হলো সঠিক নিয়মে আবেদন করা, কারণ ফরমের একটি ছোট ভুলেই এন্ট্রি বাতিল হয়ে যায়। আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া, ছবির নিয়ম ও পাসপোর্ট স্ক্যানসহ ধাপে ধাপে জানতে পড়ুন:
আরও পড়ুন: ডিভি লটারি আবেদন করার নিয়ম ২০২৭
আর ডিভি লটারি ২০২৭-এর আবেদন কবে থেকে শুরু, আপিলের পর সময়সূচি বদলাল কিনা — এসব সর্বশেষ খবর জানতে দেখুন:
আরও পড়ুন: ডিভি লটারি ২০২৭ আবেদন কবে থেকে
৮
৮ মন্তব্য