সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:০২ পূর্বাহ্ণ
জিগস শিখন কৌশল (Jigsaw Learning Method)
জিগস শিখন কৌশল (Jigsaw Learning Method) হলো একটি সমবায়মূলক বা দলগত শিখন পদ্ধতি (জিগস শিখন কৌশল (Jigsaw Learning Method) হলো একটি সমবায়মূলক বা দলগত শিখন পদ্ধতি (Cooperative Learning Method), যা ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমাজবিজ্ঞানী এলিয়ট আরনসন (Elliot Aronson) এবং তাঁর সহকর্মীরা উদ্ভাবন করেছিলেন। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা।
নিচে চিত্রসহ জিগস শিখন কৌশলের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
জিগস শিখন কৌশলের মূল ধারণা
একটি বড় বিষয়বস্তুকে কয়েকটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি প্রাথমিক দলে (Home Group) ভাগ করা হয় এবং দলের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট একটি অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দলের একই অংশ নিয়ে কাজ করা সদস্যরা মিলে একটি "বিশেষজ্ঞ দল" (Expert Group) গঠন করে এবং বিষয়টি ভালোভাবে শিখে নিজ নিজ দলে ফিরে এসে অন্যদের তা শিখিয়ে দেয়। ঠিক যেমন জিগস পাজলের (Jigsaw Puzzle) টুকরোগুলো মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি হয়, তেমনি সবাই মিলে পাঠের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করে।
জিগস শিখন কৌশলের চিত্র রূপ
নিচে এই কৌশলের ধাপগুলো একটি কাঠামোগত চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:
[ ধাপ ১: মূল দল গঠন (Home Groups) ]
------------------------------------
গ্রুপ 'ক': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
গ্রুপ 'খ': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
গ্রুপ 'গ': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
│
└─► (প্রত্যেক দলের প্রতিটি সদস্য একেকটি নির্দিষ্ট অংশের দায়িত্ব পায়)
- অংশ ১ (যেমন: লাল)
- অংশ ২ (যেমন: নীল)
- অংশ ৩ (যেমন: সবুজ)
- অংশ ৪ (যেমন: হলুদ)
═══════════════════════════
[ ধাপ ২: বিশেষজ্ঞ দল গঠন (Expert Groups) ]
---------------------------------------
সব 'অংশ ১' (লাল) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ১ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ২' (নীল) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ২ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ৩' (সবুজ) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ৩ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ৪' (হলুদ) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ৪ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
═══════════════════════════
[ ধাপ ৩: মূল দলে প্রত্যাবর্তন ও শিখন (Return to Home Groups) ]
-------------------------------------------------------------
গ্রুপ 'ক': [বিশেষজ্ঞ ১] + [বিশেষজ্ঞ ২] + [বিশেষজ্ঞ ৩] + [বিশেষজ্ঞ ৪]
(সবাই মিলে একে অপরকে নিজ নিজ অংশ বুঝিয়ে দেয় ও পাঠ সম্পন্ন করে)
জিগস শিখন কৌশলের ধাপসমূহ (বিস্তারিত)
১. মূল দল গঠন (Home Group Formation):
* ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ৪ থেকে ৫ জন করে সদস্য নিয়ে কয়েকটি মূল দলে ভাগ করা হয়। এই দলগুলোকে 'হোম গ্রুপ' বলা হয়।
২. পাঠ বিভাজন (Topic Segmentation):
* আজকের পাঠের মূল বিষয়বস্তুকে সমান ৪ বা ৫টি ভাগে ভাগ করে দলের প্রতি সদস্যকে একেকটি অংশ পড়ার বা শেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৩. বিশেষজ্ঞ দল গঠন (Expert Group):
* বিভিন্ন মূল দল থেকে একই অংশ পাওয়া শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে একটি নতুন দল গঠন করে, যাকে 'বিশেষজ্ঞ দল' বলে। যেমন—সব দলের ১ নম্বর সদস্যরা মিলে দল ১, ২ নম্বর সদস্যরা মিলে দল ২। তারা নিজেদের অংশটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে, তথ্য সংগ্রহ করে এবং নিজেদের মধ্যে তা আয়ত্ত করে।
৪. মূল দলে ফিরে যাওয়া (Return to Home Group):
* বিশেষজ্ঞরা আবার নিজ নিজ মূল দলে (Home Group) ফিরে আসে। এরপর দলের সবাই একে একে তাদের নির্দিষ্ট অংশটুকু অন্যদের বুঝিয়ে দেয় এবং শিখিয়ে দেয়।
৫. মূল্যায়ন (Evaluation):
* পুরো প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষক ব্যক্তিগত বা দলগত মূল্যায়নের (কুইজ বা পরীক্ষা) মাধ্যমে যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা পাঠটি কতটুকু আয়ত্ত করতে পেরেছে।
জিগস কৌশলের সুবিধা
* সক্রিয় অংশগ্রহণ: ক্লাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে সক্রিয় থাকতে হয়, কারণ তার অংশের ওপর দলের অন্যরা নির্ভরশীল।
* সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব: এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা দূর করে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বাড়ায়।
* আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিজের অংশে পারদর্শী হয়ে অন্যদের শেখানোর ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
* ভয় বা জড়তা দূর: বড় একটি বিষয়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়ানো হয় বলে শিখন প্রক্রিয়া সহজ ও ভীতিহীন হয়।
Learning Method), যা ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমাজবিজ্ঞানী এলিয়ট আরনসন (Elliot Aronson) এবং তাঁর সহকর্মীরা উদ্ভাবন করেছিলেন। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা।
নিচে চিত্রসহ জিগস শিখন কৌশলের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
জিগস শিখন কৌশলের মূল ধারণা
একটি বড় বিষয়বস্তুকে কয়েকটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি প্রাথমিক দলে (Home Group) ভাগ করা হয় এবং দলের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট একটি অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দলের একই অংশ নিয়ে কাজ করা সদস্যরা মিলে একটি "বিশেষজ্ঞ দল" (Expert Group) গঠন করে এবং বিষয়টি ভালোভাবে শিখে নিজ নিজ দলে ফিরে এসে অন্যদের তা শিখিয়ে দেয়। ঠিক যেমন জিগস পাজলের (Jigsaw Puzzle) টুকরোগুলো মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি হয়, তেমনি সবাই মিলে পাঠের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করে।
জিগস শিখন কৌশলের চিত্র রূপ
নিচে এই কৌশলের ধাপগুলো একটি কাঠামোগত চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:
[ ধাপ ১: মূল দল গঠন (Home Groups) ]
------------------------------------
গ্রুপ 'ক': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
গ্রুপ 'খ': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
গ্রুপ 'গ': [ছাত্র ১] [ছাত্র ২] [ছাত্র ৩] [ছাত্র ৪]
│
└─► (প্রত্যেক দলের প্রতিটি সদস্য একেকটি নির্দিষ্ট অংশের দায়িত্ব পায়)
- অংশ ১ (যেমন: লাল)
- অংশ ২ (যেমন: নীল)
- অংশ ৩ (যেমন: সবুজ)
- অংশ ৪ (যেমন: হলুদ)
═══════════════════════════
[ ধাপ ২: বিশেষজ্ঞ দল গঠন (Expert Groups) ]
---------------------------------------
সব 'অংশ ১' (লাল) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ১ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ২' (নীল) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ২ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ৩' (সবুজ) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ৩ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
সব 'অংশ ৪' (হলুদ) এর সদস্যরা ──► [ বিশেষজ্ঞ দল ৪ ] (একত্রে আলোচনা ও শেখা)
═══════════════════════════
[ ধাপ ৩: মূল দলে প্রত্যাবর্তন ও শিখন (Return to Home Groups) ]
-------------------------------------------------------------
গ্রুপ 'ক': [বিশেষজ্ঞ ১] + [বিশেষজ্ঞ ২] + [বিশেষজ্ঞ ৩] + [বিশেষজ্ঞ ৪]
(সবাই মিলে একে অপরকে নিজ নিজ অংশ বুঝিয়ে দেয় ও পাঠ সম্পন্ন করে)
জিগস শিখন কৌশলের ধাপসমূহ (বিস্তারিত)
১. মূল দল গঠন (Home Group Formation):
- ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ৪ থেকে ৫ জন করে সদস্য নিয়ে কয়েকটি মূল দলে ভাগ করা হয়। এই দলগুলোকে 'হোম গ্রুপ' বলা হয়।
২. পাঠ বিভাজন (Topic Segmentation):
- আজকের পাঠের মূল বিষয়বস্তুকে সমান ৪ বা ৫টি ভাগে ভাগ করে দলের প্রতি সদস্যকে একেকটি অংশ পড়ার বা শেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৩. বিশেষজ্ঞ দল গঠন (Expert Group):
- বিভিন্ন মূল দল থেকে একই অংশ পাওয়া শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে একটি নতুন দল গঠন করে, যাকে 'বিশেষজ্ঞ দল' বলে। যেমন—সব দলের ১ নম্বর সদস্যরা মিলে দল ১, ২ নম্বর সদস্যরা মিলে দল ২। তারা নিজেদের অংশটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে, তথ্য সংগ্রহ করে এবং নিজেদের মধ্যে তা আয়ত্ত করে।
৪. মূল দলে ফিরে যাওয়া (Return to Home Group):
- বিশেষজ্ঞরা আবার নিজ নিজ মূল দলে (Home Group) ফিরে আসে। এরপর দলের সবাই একে একে তাদের নির্দিষ্ট অংশটুকু অন্যদের বুঝিয়ে দেয় এবং শিখিয়ে দেয়।
৫. মূল্যায়ন (Evaluation):
- পুরো প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষক ব্যক্তিগত বা দলগত মূল্যায়নের (কুইজ বা পরীক্ষা) মাধ্যমে যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা পাঠটি কতটুকু আয়ত্ত করতে পেরেছে।
জিগস কৌশলের সুবিধা
- সক্রিয় অংশগ্রহণ: ক্লাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে সক্রিয় থাকতে হয়, কারণ তার অংশের ওপর দলের অন্যরা নির্ভরশীল।
- সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব: এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা দূর করে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বাড়ায়।
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিজের অংশে পারদর্শী হয়ে অন্যদের শেখানোর ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- ভয় বা জড়তা দূর: বড় একটি বিষয়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়ানো হয় বলে শিখন প্রক্রিয়া সহজ ও ভীতিহীন হয়।
০
০ মন্তব্য