সিনিয়র শিক্ষক
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ণ
নিয়োগের ভাইভা, অভিজ্ঞ শিক্ষকের মর্যাদা ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা
নিয়োগের ভাইভা, অভিজ্ঞ শিক্ষকের মর্যাদা ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা
একটি সংবাদপ্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্য প্রকাশের নৈতিকতা এবং মূল্যায়ন-পদ্ধতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন
প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন: দৈনিক আমাদের বার্তা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ‘এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ: ভাইভায় লেজেগোবরে দেড় যুগের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা’
ভূমিকা
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য শক্তি। নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু এই স্বাধীনতার সঙ্গে তথ্যের যথার্থতা, উপস্থাপনার ভারসাম্য ও পেশাগত নৈতিকতা অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। চাঞ্চল্য সৃষ্টি করাই সংবাদের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়; সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়সংগত উপস্থাপনাই তার বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি।
সম্প্রতি দৈনিক আমাদের বার্তায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নতুন ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে কয়েকজন প্রার্থীর ইংরেজিতে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখতে না পারা, এমপিও নীতিমালা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত বুঝতে না পারার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো—এসব অভিযোগ কতটা যাচাই করা হয়েছে? কয়েকজন প্রার্থীর দুর্বল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সামগ্রিক যোগ্যতা নিয়ে এমন সাধারণীকরণ করা যায় কি? আর নিয়োগ বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা কী? প্রশ্নগুলো কাউকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য নয়; সত্য, ন্যায়সংগত মূল্যায়ন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থেই এগুলো তোলা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা: বক্তব্য, প্রমাণ ও প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোকে এক কথায় মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদপ্রার্থীর কাছে প্রাসঙ্গিক এমপিও নীতিমালা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রত্যাশিত। এসব বিষয়ে গুরুতর ঘাটতি থাকলে তা তাঁর পেশাগত প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে।
কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব এবং অভিযোগের প্রমাণ—দুটি পৃথক বিষয়। প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর ব্যর্থতার কথা বলা হলে জানতে ইচ্ছা করে—ঘটনাটি কে প্রত্যক্ষ করেছেন? প্রতিবেদক নিজে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন, নাকি বোর্ডের কোনো সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন? প্রশ্ন ও উত্তর যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি? বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি?
একজন প্রার্থী একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেই তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলা যায় না; আবার একটি মৌলিক প্রশ্নে ব্যর্থতাকে কেবল নার্ভাসনেস বলে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন নয়। সঠিক মূল্যায়নের জন্য জানতে হবে—প্রশ্নটি কী ছিল, উত্তর প্রত্যাশিত মানের কতটা নিচে ছিল এবং ঘটনাটি তাঁর সামগ্রিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রত্যক্ষ তথ্য, নির্ভরযোগ্য সূত্র ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বলেই প্রতিটি অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না; একইভাবে অভিযোগ নেতিবাচক বলেই তা মিথ্যা হয়ে যায় না।
কয়েকজনের ব্যর্থতা কি পুরো শিক্ষকসমাজের পরিচয়?
প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আমার প্রধান প্রশ্ন এখানেই। ‘দেড় যুগের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা’—এই বহুবচন কি সব অভিজ্ঞ শিক্ষককে বোঝাচ্ছে, নাকি তাঁদের মধ্যকার কয়েকজনকে? যদি কয়েকজন প্রার্থীর ব্যর্থতা প্রতিবেদনের ভিত্তি হয়, তাহলে শিরোনামে পুরো অভিজ্ঞ শিক্ষকগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকে। শিরোনাম কেবল আকর্ষণ সৃষ্টির উপকরণ নয়; এটি পাঠকের কাছে সংবাদের প্রথম প্রতিফলন। অনেক পাঠক পুরো প্রতিবেদন পড়েন না, শিরোনাম দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান। ফলে শিরোনামের অতিরঞ্জন সীমিত তথ্যকেও ব্যাপক সাধারণীকরণের রূপ দিতে পারে।
দেড় যুগ শিক্ষকতা করা মানেই একজন শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের জন্য যোগ্য—এমন দাবি আমি করছি না। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এক ধরনের দায়িত্ব নয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের একাডেমিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক স্বচ্ছতা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলার দক্ষতা থাকতে হয়। তবে উল্টো সত্যটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ—ভাইভায় কয়েক মিনিটের দুর্বল পারফরম্যান্স দিয়ে একজন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের সাফল্যে তাঁর অবদান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সামগ্রিক মূল্য নির্ধারণ করাও যুক্তিসংগত নয়। একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হলে ব্যর্থতার পাশাপাশি সফলতার নজির ও পারফরম্যান্সের বৈচিত্র্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ভাইভা কি মেধার পরীক্ষা, নাকি দক্ষতার?
লিখিত পরীক্ষা, এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি মূল্যায়ন পদ্ধতির নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে। লিখিত পরীক্ষা বিষয়জ্ঞান ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা যাচাই করে; মৌখিক পরীক্ষা প্রার্থীর যোগাযোগদক্ষতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পেশাগত উপলব্ধি ও নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি অনুধাবনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা ভাবার সুযোগ নেই। প্রার্থী দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করলেও প্রাসঙ্গিক নীতিমালায় মৌলিক ধারণা না রাখলে তা মূল্যায়নের যথার্থ বিষয়।
কিন্তু ভাইভার ফল বিশ্লেষণে প্রার্থীর উত্তর, তার প্রেক্ষাপট, প্রশ্নের ধরন ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। একজন প্রার্থী নার্ভাস হয়ে পরিচিত প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তাঁর অন্যান্য যোগ্যতা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। তাই ভাইভায় ব্যর্থতার ঘটনা প্রকাশের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নিয়োগ বোর্ড কি সুস্পষ্ট মানদণ্ডে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছে? নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশাসনিক জ্ঞান ও যোগাযোগদক্ষতা যাচাইয়ের পদ্ধতি যথাযথভাবে নির্ধারিত আছে কি? মূল্যায়নে ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কী? এসব প্রশ্ন নিয়োগপ্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাইভা বোর্ডের তথ্য প্রকাশ: অধিকার ও দায়িত্ব
প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তথ্যের উৎস। সংবাদে বোর্ডের অভিজ্ঞতা, প্রার্থীদের উত্তর ও ভাইভার নানা ঘটনা তুলে ধরা হলে জানতে ইচ্ছা করে—এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে? কোনো বোর্ড সদস্যের সঙ্গে সাংবাদিকের কথা বলা মাত্রই তা বেআইনি হয়ে যায় না; আবার তথ্য পৌঁছেছে বলেই প্রকাশের সব দায়িত্ব অকার্যকর হয়ে যায় না।
প্রথমত, বোর্ডের সদস্য তথ্য দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছিলেন কি না, তা বিবেচ্য। দ্বিতীয়ত, তথ্য প্রকাশে কোনো গোপনীয়তার বিধি বা নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রকাশিত বক্তব্যের যথার্থতা ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ড সদস্যের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে কি না—তা একমাত্র প্রশ্ন নয়; তিনি কী তথ্য দিয়েছেন, কোন প্রেক্ষাপটে দিয়েছেন এবং তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে সতর্কতা জরুরি: এনটিআরসিএর এই নির্দিষ্ট নিয়োগের ভাইভা চলাকালে বোর্ড সদস্যদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, তা যাচাই ছাড়া কাউকে বিধিভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। তবে আইনগত নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন থেকে যায়—চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়ার এমন তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যা যাচাইহীন অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্যের রূপ দেয় বা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে অমূলক সংশয় তৈরি করে।
গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা কোথায়?
গণমাধ্যমের কাজ কেবল ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা নয়; ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অনিয়ম প্রকাশ করাও তার দায়িত্ব। তাই শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার অজুহাতে তাঁদের দুর্বলতা আড়াল করা উচিত নয়; বরং প্রকৃত দুর্বলতা চিহ্নিত হওয়া উচিত, যাতে নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও মানসম্মত হয়। কিন্তু সমালোচনা ও অবমাননা এক নয়। তথ্যভিত্তিক সমালোচনা সংশোধনের পথ দেখায়; অতিরঞ্জিত সাধারণীকরণ মানুষকে হেয় করে, অথচ সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হতে পারে।
একটি দায়িত্বশীল প্রতিবেদনে অন্তত চারটি বিষয় গুরুত্ব পাওয়া উচিত—অভিযোগের নির্ভরযোগ্যতা, ঘটনার যথাযথ প্রেক্ষাপট, শিরোনামের সঙ্গে মূল তথ্যের সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের প্রচেষ্টা। কয়েকজন প্রার্থীর দুর্বলতা প্রকাশ করা যেতে পারে, কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে সব অভিজ্ঞ শিক্ষককে একই পাল্লায় মাপলে পাঠকের সামনে বাস্তবতার অসম্পূর্ণ ছবি উপস্থিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একই সঙ্গে প্রার্থীদেরও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করলেই পেশাগত উন্নয়ন থেমে থাকে না। নীতিমালা সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন একজন শিক্ষকের দায়িত্বেরই অংশ। গণমাধ্যমের সমালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ঘাটতি সংশোধন করাও পেশাগত পরিপক্বতার পরিচয়।
উপসংহার: সত্য প্রকাশ হোক, সাধারণীকরণ নয়
দৈনিক আমাদের বার্তার প্রতিবেদনটি শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের প্রস্তুতি, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও মূল্যায়নব্যবস্থার মান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রতিটি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই এবং শিরোনাম ও উপস্থাপনার যথার্থতা বিচার করাও সমান প্রয়োজনীয়।
আমি কোনো প্রার্থীর অযোগ্যতাকে আড়াল করতে চাই না; চাই না কোনো বোর্ড সদস্যের দায়িত্বহীন আচরণও উপেক্ষিত থাকুক। একইভাবে প্রমাণ ছাড়া প্রতিবেদককে অসত্য প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার প্রশ্ন কেবল এই—কয়েকজন প্রার্থীর ব্যর্থতার ঘটনা কি দেড় যুগের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সামগ্রিক পরিচয় হয়ে উঠতে পারে? বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশে সত্যতা, অনুমোদন ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন কি আলোচনার বাইরে থাকবে? আর সংবাদমাধ্যম কি চাঞ্চল্যকর শিরোনামের পাশাপাশি তথ্যের সীমা ও প্রেক্ষাপটও পাঠকের সামনে তুলে ধরবে না?
শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার অর্থ তাঁদের ভুলকে অস্বীকার করা নয়; আর ভুল তুলে ধরার অর্থ পুরো শিক্ষকসমাজকে হেয় করাও নয়। একইভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে তার জবাবদিহির প্রশ্ন পরিত্যাগ করা নয়। সত্য প্রকাশিত হোক, দুর্বলতা চিহ্নিত হোক, যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হোক—কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকুক সবাই। শিক্ষক, নিয়োগ বোর্ড ও গণমাধ্যম—প্রত্যেকের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হলেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
মুফিদুল আলম
রামু, কক্সবাজার
১
২ মন্তব্য