Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশল


১. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশল কী?

কোয়েশ্চন ডাইস (Question Dice) হলো একটি সক্রিয় ও আনন্দদায়ক শিক্ষণ-শিখন কৌশল। এ কৌশলে পাশার ছয়টি পৃষ্ঠে ছয় ধরনের প্রশ্নবোধক শব্দ বা প্রশ্ন লেখা থাকে। শিক্ষার্থীরা পাশা নিক্ষেপ করে যে প্রশ্নবোধক শব্দটি পায়, সেটির সাহায্যে পাঠ-সম্পর্কিত প্রশ্ন তৈরি করে এবং উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, ভাষাদক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

২. কোয়েশ্চন ডাইসের চিত্র

বাংলায় কোয়েশ্চন ডাইসের চিত্র:

                 ___________
                /          /|
               /  কে?     / |
              /__________/  |
             |          |   |
             |  কী?     |   | কোথায়?
             |          |   |
             |__________|  /
             |          | /
             | কখন?     |/
             |__________|

        ছয়টি প্রশ্নবোধক শব্দ:
        ১. কে?
        ২. কী?
        ৩. কখন?
        ৪. কোথায়?
        ৫. কেন?
        ৬. কীভাবে?

দ্রষ্টব্য: চিত্রটি বোঝানোর জন্য একটি নমুনা। বাস্তবে পাশার ছয়টি পৃষ্ঠে একটি করে প্রশ্নবোধক শব্দ লেখা থাকবে।

৩. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশলের ব্যবহারিক উদাহরণ

পাঠের বিষয়: গাছ

প্রশ্নবোধক শব্দ নমুনা প্রশ্ন উত্তর
কে? গাছের যত্ন কে নেয়? মালী বা মানুষ
কী? গাছ আমাদের কী দেয়? অক্সিজেন, ফল ও ছায়া
কখন? গাছে কখন পানি দেওয়া যায়? সকাল বা বিকেলে
কোথায়? গাছ কোথায় জন্মায়? মাটি, বাগান ও বনে
কেন? গাছ লাগানো কেন প্রয়োজন? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য
কীভাবে? কীভাবে গাছের যত্ন নিতে হয়? পানি দিয়ে ও পরিচর্যা করে

৪. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশলের ধাপ

প্রথম ধাপ: পাঠ নির্বাচন
শিক্ষক পাঠ্যবই থেকে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: পাশা তৈরি
একটি ঘনক আকৃতির পাশার ছয়টি পৃষ্ঠে কে, কী, কখন, কোথায়, কেন ও কীভাবে—এই ছয়টি প্রশ্নবোধক শব্দ লিখবেন।

তৃতীয় ধাপ: শিক্ষার্থীদের দল গঠন
শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করবেন।

চতুর্থ ধাপ: পাশা নিক্ষেপ
একজন শিক্ষার্থী পাশাটি নিক্ষেপ করবে। যে প্রশ্নবোধক শব্দটি উপরে উঠবে, সেটি ব্যবহার করে পাঠ-সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন তৈরি করবে।

পঞ্চম ধাপ: প্রশ্নের উত্তর প্রদান
অন্য শিক্ষার্থীরা প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে শিক্ষক সহযোগিতা করবেন।

ষষ্ঠ ধাপ: মূল্যায়ন
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন তৈরি, উত্তর প্রদান, চিন্তাশক্তি ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন।

৫. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশলের বৈশিষ্ট্য

১. এটি একটি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিখন কৌশল।
২. খেলার মাধ্যমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে।
৩. শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে।
৪. প্রশ্ন তৈরি ও উত্তর দেওয়ার দক্ষতা বাড়ায়।
৫. দলীয় কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
৬. শ্রেণিকক্ষের পাঠদানকে আনন্দদায়ক করে তোলে।

৬. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশলের সুবিধা

১. শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
২. শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে পাঠে অংশগ্রহণ করে।
৩. ভাষাগত দক্ষতা ও শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পায়।
৪. যুক্তি দিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
৫. শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
৬. পাঠের বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য করে।

৭. কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশলের সীমাবদ্ধতা

১. পাশা তৈরি ও কার্যক্রম পরিচালনায় সময় লাগে।
২. বড় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া কঠিন হতে পারে।
৩. কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্ন তৈরি করতে অসুবিধা অনুভব করতে পারে।
৪. সঠিকভাবে পরিচালনা না করলে শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।


পরিশেষে বলা যায়, কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশল একটি কার্যকর, আনন্দদায়ক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষণ-পদ্ধতি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে প্রশ্ন তৈরি করতে, উত্তর দিতে এবং নতুন বিষয় শিখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শ্রেণিকক্ষে কোয়েশ্চন ডাইস শিখন কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ