Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

সবুজ দক্ষতা: জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান

এই জায়গাতেই গ্রিন স্কিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতের একজন প্রকৌশলীকে হয়তো শক্তি দক্ষতা বুঝতে হবে, একজন কৃষিবিদকে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি জানতে হবে, একজন ব্যবসায়ীকে স্থায়িত্বতা বুঝতে হবে এবং একজন নগর পরিকল্পনাবিদকে পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।

গ্রিন স্কিল অর্জনের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে আলাদা ডিগ্রি করতে হবে এমন ধারণা ভুল। নিজের পড়ার বিষয়ের সঙ্গে পরিবেশগত জ্ঞান যুক্ত করাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। পরিবেশ, জলবায়ু, জ্বালানি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত পড়া যেতে পারে। নিজের এলাকার কোনো পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে ছোট গবেষণা করা যায়। বিদ্যালয় বা কলেজে বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় কিংবা সচেতনতামূলক প্রকল্প নেওয়া যায়।

এর সঙ্গে ডেটা বিশ্লেষণ, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা যুক্ত করা দরকার। কারণ ভবিষ্যতের গ্রিন জব শুধু পরিবেশ সম্পর্কে ভালো ধারণা চাবে না; সেই জ্ঞানকে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করার সক্ষমতাও চাইবে।

আজকের শিক্ষার্থী যে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই চাকরির কর্মক্ষেত্র হয়তো পাঁচ বা দশ বছর পর আগের মতো থাকবে না। প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তন আনছে, তেমনি জলবায়ু ও পরিবেশগত বাস্তবতাও কর্মজগতকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার অর্থ শুধু কম্পিউটার বা এআই শেখা নয়; পৃথিবীর পরিবর্তনকেও বোঝা।

সবুজ দক্ষতা তাই কোনো নির্দিষ্ট পেশার জন্য সীমাবদ্ধ একটি বিষয় নয়। এটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে কীভাবে কাজ করতে হবে, কীভাবে সম্পদ ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হবে এবং কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে তার একটি নতুন কর্মদক্ষতা।

আজ যে শিক্ষার্থী পরিবেশকে শুধু পরীক্ষার একটি অধ্যায় হিসেবে না দেখে নিজের ভবিষ্যৎ পেশার অংশ হিসেবে দেখতে শিখবে, আগামী দিনের কর্মবাজারে সে হয়তো এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। কারণ পৃথিবী যখন আরও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, তখন সবুজ দক্ষতা শুধু পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার নয়, এটি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক ( রাষ্ট্রবিজ্ঞান), ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ