Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী র‍্যাগিংয়ের শিকার
Bikash to get government education stipends (300x250)
Presidency University admission (300x250) 20-08-26


নবীনদের ম্যানার শেখানো কিংবা বনভোজনের কথা বলে ডেকে নিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন ও গালিগালাজ করা—দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাগিং বা বুলিংয়ের দৃশ্যপট মোটেও নতুন নয়।

#শিক্ষার্থী #র‍্যাগিং #শিক্ষার্থী হেনস্তা #বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

নবীনদের ম্যানার শেখানো কিংবা বনভোজনের কথা বলে ডেকে নিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন ও গালিগালাজ করা—দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাগিং বা বুলিংয়ের দৃশ্যপট মোটেও নতুন নয়।

ideal College

সম্প্রতি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বনভোজনের নামে ডেকে নিয়ে চতুষ্পদ প্রাণীর ডাক দিতে বাধ্য করায় এক ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানার শেখানোর নামে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড অ্যাডিকশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ কোনো না কোনো সময় র‍্যাগিং বা বুলিংয়ের তিক্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ও ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. শাফায়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ মাঝারি এবং ১১ দশমিক ৯ শতাংশ গুরুতর মাত্রার হয়রানির শিকার হয়েছেন।

পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাঝারি মাত্রার বুলিংয়ের প্রবণতা বেশি থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে গুরুতর মাত্রার হয়রানির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরনের বিচারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুরুতর বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশি দেখা গেলেও উভয় মাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্যের ব্যবধানের কারণে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নির্যাতনের ধরণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে মৌখিক বিদ্রুপ বা টিজিং, সামাজিকভাবে হেয় করা, শারীরিক ও সাইবার হয়রানি এবং যৌন হয়রানি। মূলত আধিপত্য বিস্তার, মজা করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা থেকে এসব কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে। এছাড়া শারীরিক গঠন, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণেও অনেকে হয়রানির শিকার হন।

এই হয়রানি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যারা গুরুতর মাত্রার র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ নিজেদের শিক্ষাগত ফলাফল আশঙ্কাজনকভাবে খারাপ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় ৭৪ শতাংশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ জানান না।

র‍্যাগিং প্রতিরোধে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্যাম্পাস পর্যবেক্ষণে রাখা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

গবেষক দলের প্রধান ড. শাফায়াত হোসেন মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাগিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা জরুরি। একই সঙ্গে মৌখিক, সামাজিক, শারীরিক ও যৌন হয়রানিকে স্পষ্ট সংজ্ঞায়িত করে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি এবং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ