প্রভাষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
AI এর নৈতিক ব্যাবহার
লোকটা কত্ত অসামাজিক! টয়লেটের কমোড হতে খাবার খাচ্ছে! ওয়া.. ওয়া...। আপনি জানলে অভাক হবে যে, AI কে যা তা কাজে ব্যাবহার করলে আপনি আমিও অন্যের নিকট এমন অসামাজিক ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে!
কাজের কথায় আসি, গত আগষ্টে কুমিল্লাতে একটি প্রশিক্ষণে "এআই এর নৈতিক ব্যাবহার বিষয়ক" একটি সেশন পরিচালনার সময় লক্ষ্য করলাম যে, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীগন বেশ সচেতন। কিন্তু ভালো ব্যক্তিত্বের অধিকারী অনেক সহজ-সরল মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরল মনে অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজ করতেও দেখছি। তাহলে প্রশ্ন হলো আমরা সবাই কি সচেতন?
AI অল্প সময়ে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, লেখালিখি ও বিভিন্ন কাজ করতে আমাদের সহায়তা করে। AI এর উপকারিতা যেমন রয়েছে, তেমনি অনৈতিক ব্যবহারে ঝুকিও রয়েছে। AI হতে উপকার গ্রহনের পাশাপাশি এর নৈতিক ব্যাবহার সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া উচিৎ।
AI ব্যাবহারে ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা খুব গুরত্বপূর্ণ। যেমন:
১. AI হতে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে।
২. হ্যালুসিনেশন বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
৩. অন্যের লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
৪. ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয় রক্ষা করতে হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে এমন তথ্য এআই চ্যাটবট/ইনপুটবারে দেয়া যাবে না।
৫. মিথ্যা তথ্য, গুজব, ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করা ও প্রচার করা হতে বিরত থাকতে হবে।
৬. AI ওয়েবসাইট বা অ্যাপস ব্যাবহারের আগে একটু ভেবে নিবেন যে, অ্যাপসটি অথেনটিক কি না।
৭. প্রতারকদের তৈরি করা AI সেবা প্রদান করে এমন অ্যাপস ইন্সটল করার সময় আপনি সরল মনে আপনার মোবাইলের গ্যালারি, কন্টাক্ট লিস্ট বা ক্যামেরার মত সংবেদনশীল তথ্যের পারমিশন (Allow) দিয়ে দিচ্ছেন না ত! ভেবে দেখবেন।
৮. কিছু ঝুকিপূর্ণ অ্যাপস রয়েছে, যারা প্রম্পট ছাড়াই আপনার দেয়া ছবি হতে নির্দিষ্ট মডেলের সুন্দর সুন্দর ছবি ফ্রীতে তৈরি করে দিয়ে থাকে। এতে আনন্দিত হবার কিছু নেই, আপনি যেই মাত্র ওদের অ্যাপস এ আপনার ছবি আপলোড করলেন, সেই মাত্র তারা অটোমেটিক আপনার ডিভাইসের ক্যামারা ও গ্যালারি কিংবা পুরো ডিভাইসের এক্সেস পেয়ে যাচ্ছে। তারা আপনার ডিভাইসে লগইন করা সকল একাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে, অপর প্রান্ত হতে কেউ একজন কয়েকশত মাইল দূর হতে আপনার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে আপনাকে দেখতে পারবে। একবার ভেবে দেখুন, কতটা ভয়ানক!
৮. AI এর অনৈতিক ব্যবহারের ফলে আপনি সামাজিকভাবে হেয় হতে পারেন, আইনি জটিলতায় পরতে পারেন, অর্থদণ্ড বা কারাদন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।
৯. AI কে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, নিজস্ব চিন্তা বা সৃজনশীলতার বিকল্প নয়।
মূলকথা: AI ভালো না মন্দ; এর ব্যবহারের মাধ্যমেই নির্ধারণ হয় এর প্রভাব। আসুন, প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল মূল্যবোধ বজায় রেখে AI ব্যবহার করি।
বি:দ্র: টয়লেটের কমোড হতে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য যতটা ঝুকিপূর্ণ, AI এর অনৈতিক ব্যবহার জীবনের জন্য তারচেয়েও বেশি ঝুকিপূর্ণ।
৬
১০ মন্তব্য