Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৪১ অপরাহ্ণ

যৌবনকালে তওবা করাই নবীগণের চরিত্র

শেখ সাদী রহ. বলেন "বৃদ্ধকালে অত্যাচারী নেকড়ে বাঘ ও বুযুর্গ হয়ে যায়, কিন্তু  যৌবন কালে তওবা করে বুযুর্গ হওয়ায় হলো নবীগণের চরিত্র " 

শেখ সাদী (রহ.) এই বাণীর মাধ্যমে সামর্থ্য থাকা অবস্থায় পাপ ত্যাগ করা এবং যৌবনকালের তওবার বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন।

বার্ধক্যের বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধ বয়সে মানুষের শারীরিক শক্তি, প্রবৃত্তি এবং অন্যায় করার সামর্থ্য এমনিতেই লোপ পায়। একটি হিংস্র নেকড়ে বাঘ যখন বুড়ো হয়ে যায়, তখন শিকার করার শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় সে শান্ত হতে বাধ্য হয়। শেখ সাদী (রহ.) এই রূপকের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বার্ধক্যে এসে অন্যায়ের সুযোগ বা শক্তি হারিয়ে ভালো হওয়া কোনো আত্মিক উন্নয়ন বা অর্জিত মহানুভবতা নয়; এটি শারীরিক অক্ষমতা ও সময়ের বাধ্যবাধকতা মাত্র।

যৌবনের তওবা ও নবীগণের চরিত্র যৌবন হলো শক্তি, উদ্দামতা এবং পাপের প্ররোচনায় পড়ার প্রধান সময়। এই বয়সে অন্যায় করার সুযোগ, প্রবৃত্তি ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি নিজের নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে, ভুল স্বীকার করে তওবা করে এবং সৎপথে ফিরে আসে, তার আনুগত্যই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। প্রবৃত্তি দমন করে শক্তি থাকা অবস্থায় খোদাভীরু জীবনযাপন করা নবী-রাসূলগণ এবং সত্যনিষ্ঠ সাধকদের মূল বৈশিষ্ট্য। ইসলামেও যৌবনের ইবাদত ও তওবাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে; রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে যুবক তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে কাটায়, হাশরের কঠিন দিনে সে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে।

পাপ করার শক্তি ও সুযোগ হারিয়ে ভালো হওয়া কোনো বীরত্ব নয়; বরং পাপের সামর্থ্য ও প্রবল প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও যৌবনে নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রেখে আল্লাহর অনুগত হওয়াই হলো প্রকৃত বুজুর্গি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ