Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সরকারি বেতন বাড়লেও বেসরকারিতে অনিশ্চয়তা
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাড়াতে মন্ত্রিসভা নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে, যেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

#সরকারি চাকরিজীবী #বেসরকারি চাকরিজীবী #বেতন #বেতন-ভাতা

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাড়াতে মন্ত্রিসভা নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে, যেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তবে এতে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ লাভবান হলেও সামগ্রিক বাজারব্যবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট, ব্যাহত উৎপাদন এবং স্থবির বিনিয়োগের কারণে দেশের বেসরকারি খাতের পক্ষে এই মুহূর্তে বেতন বাড়ানো কতটা সম্ভব—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Recruitment to teacher pool

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। আগামী ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে সব ভাতা একসাথে কার্যকর করা হলে বছরে বেতন-ভাতা খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রায় অর্ধেক।

অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এ ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ে মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। ফলে পরোক্ষভাবে এই অতিরিক্ত করের চাপ গিয়ে পড়বে বেসরকারি খাতের সাধারণ কর্মীদের কাঁধেই।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের একটি অংশ অবশ্য বলছে, বেসরকারি খাতে কোনো একক বেতন কাঠামো নেই। সরকারি পে স্কেলের সঙ্গে বেসরকারি খাতের মজুরি পুনর্গঠনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বেসরকারি খাতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত বেতন বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। আবার কোথাও হয়তো দীর্ঘদিন বাড়েনি। একটি মিশ্র চিত্র রয়েছে।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর সিপিডি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখায় যে, উচ্চ বেতনের কারণে সরকারি চাকরি আগের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর ফলে বেসরকারি খাত দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে: একদিকে মূল্যস্ফীতি ও বর্ধিত জীবনযাত্রার খরচের সাথে সমন্বয় করে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সরকারি খাতের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন ও দক্ষ মেধা আকর্ষণ করার কঠিন প্রতিযোগিতা।

বিগত সরকারি বেতন কাঠামোর অভিজ্ঞতা বলছে, সরকারি চাকরির সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা তাই শুধু বেতনের নয়; পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটি, চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাও এর অংশ। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, এসব বেতনবহির্ভূত সুবিধার আওতায় সরকারি খাতে তুলনামূলক বেশি। এবারের বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে।

AIUB (300x250) 25-08-26

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও এই পে স্কেল শ্রমবাজারের সিংহভাগজুড়ে থাকা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয় না বাড়লেও খরচ বাড়বে, যা সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

নিটওয়্যার শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বেসরকারি খাতের শিল্পকারখানা এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় মজুরি বাড়ানো হলে শিল্পমালিকদের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতে ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দের আগে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন বা মজুরি নির্ধারণের আইনগত সুযোগ নেই। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময়কার আইনে পাঁচ বছর পর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান আছে।

সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেবল সরকারি কোষাগারের হিসাব নয়। এর প্রভাব পড়বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যয়, কর্মী ধরে রাখার সক্ষমতা, পণ্যের উৎপাদন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর ওপর।

মন্তব্য করুন

ব্লগ