Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

মহাবিশ্বের কিছু সমীকরণ আপনি প্রতিদিন অজান্তেই মেনে চলেন

 ধরুন, এক সকালে আপনি ঘুম থেকে উঠলেন। জানালার বাইরে সূর্য উঠেছে। আপনি বিছানা থেকে নামলেন, কয়েক পা হাঁটলেন, ফোনটা হাতে নিলেন। সবকিছুই স্বাভাবিক। 


কিন্তু যদি আপনাকে বলা হয়: "এই সাধারণ সকালটির প্রতিটি মুহূর্তের পেছনে এমন কিছু নিয়ম কাজ করছে, যেগুলো আপনি চাইলেও অমান্য করতে পারবেন না।"


আপনি যখন মেঝেতে পা রাখলেন, তখন মহাকর্ষ আপনাকে পৃথিবীর দিকে টেনে রাখল। আপনি যখন হাঁটলেন, তখন আপনার পায়ের সঙ্গে মাটির ঘর্ষণ আপনাকে সামনে এগোতে সাহায্য করল। ফোনের স্ক্রিনে আঙুল রাখতেই বৈদ্যুতিক চার্জের জগত আপনার স্পর্শকে সংকেতে পরিণত করল। আর ফোন থেকে বের হওয়া রেডিও তরঙ্গ ছুটে গেল আলোর গতির কাছাকাছি বেগে।


আপনি এসবের কোনোটার জন্য অনুমতি দেননি। তবুও সবকিছু ঠিকঠাক ঘটল। কারণ মহাবিশ্ব মানুষের নিয়মে চলে না। চলে তার নিজস্ব নিয়মে। 


নিউটনের গতির সমীকরণ থেকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা, ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকত্ব থেকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স, প্রকৃতির গভীরে এমন কিছু গাণিতিক নিয়ম রয়েছে, যেগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবন থেকে শুরু করে নক্ষত্রের জন্ম, গ্রহের গতি এবং আলো কীভাবে মহাকাশ পাড়ি দেয়, সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার? 


আপনি মহাবিশ্বকে বোঝার আগেই মহাবিশ্ব আপনাকে তার সমীকরণ মেনে চলতে বাধ্য করছে। আপনি দৌড়ান বা থেমে যান। পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যান বা নিজের ঘরেই থাকেন। আপনার ইচ্ছা বদলাতে পারে। আপনার বিশ্বাস বদলাতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির মৌলিক নিয়মগুলো আপনার জন্য বদলাবে না। 


হয়তো এটাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে গভীর রহস্য। আমরা মহাবিশ্বের নিয়ম আবিষ্কার করছি না। আমরা আসলে এমন এক বাস্তবতাকে ধীরে ধীরে পড়তে শিখছি যার সমীকরণ আমাদের জন্মের বহু বিলিয়ন বছর আগেই লেখা হয়ে গিয়েছিল।


মন্তব্য করুন

ব্লগ