মহাপরিচালক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন ফি কত টাকা 2026
এসএসসি পাসের পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রধান চিন্তার বিষয় থাকে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি কত এবং কোন কলেজে কেমন খরচ হবে। ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছুদের সুবিধার্থে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি ২০২৬ এবং সম্পূর্ণ খরচের বিস্তারিত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো ভুল এড়াতে এবং বোর্ডের সর্বশেষ আপডেট জানতে সবার আগে একাদশ শ্রেণির নতুন নীতিমালা পিডিএফ লিংকে ক্লিক করে অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্দেশিকাটি সরাসরি পড়ে নিন
আবেদন পূর্বক দেখে নিন নতুন ভর্তি নীতিমালা 2026(পিডিএফ) ক্লিক করুন .আবেদন ফি সহ সব আছে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নিয়ম ও ফি
কলেজে ভর্তির প্রাথমিক ধাপ শুরু হয় অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে। বোর্ড নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে শিক্ষার্থীদের তাদের পছন্দের কলেজ নির্বাচন করতে হয়।
প্রাথমিক আবেদন ফি: অনলাইনে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা।
নিশ্চয়ন ফি: মেধা তালিকায় সুযোগ পাওয়ার পর সিট কনফার্ম বা নিশ্চয়ন করার জন্য ৩৩৫ টাকা (বোর্ড ফি ও অন্যান্য চার্জসহ) প্রদান করতে হয়।
মাইগ্রেশন: অটো মাইগ্রেশনের মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তন হলে নতুন করে কোনো hsc admission fee বা নিশ্চয়ন ফি দিতে হয় না।
একাদশ শ্রেণির সরকারি কলেজ ভর্তি ফি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি কলেজগুলোর ফি কাঠামো সুনির্দিষ্ট থাকে। এলাকাভেদে সরকারি কলেজে ভর্তি ফি কত তার একটি তুলনামূলক ছক নিচে দেওয়া হলো:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান | মাসিক বেতন (সর্বোচ্চ) | সেশন চার্জ ও অন্যান্য ফি (সর্বোচ্চ) | সম্ভাব্য মোট ভর্তি ফি |
ঢাকা মেট্রোপলিটন | ১৩০ টাকা | ১,৫০০ টাকা | ২,০০০ - ৩,০০০ টাকা |
অন্যান্য মেট্রোপলিটন | ১২০ টাকা | ১,২০০ টাকা | ১,৫০০ - ২,৫০০ টাকা |
জেলা সদর | ১০০ টাকা | ১,০০০ টাকা | ১,২০০ - ২,০০০ টাকা |
উপজেলা / মফস্বল | ৮০ টাকা | ৮০০ টাকা | ১,০০০ - ১,৫০০ টাকা |
(বি.দ্র: ব্যবহারিক বিষয় থাকা সাপেক্ষে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাদশ শ্রেণির সরকারি কলেজ ভর্তি ফি ১০০-২০০ টাকা বেশি হতে পারে।)
একাদশ শ্রেণির বেসরকারি কলেজ ভর্তি ফি
বেসরকারি কলেজগুলোকে এমপিওভুক্ত (MPO) এবং নন-এমপিও (Non-MPO) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই বেসরকারি কলেজে ভর্তি ফি নির্ধারিত হয়।
এমপিওভুক্ত (MPO) বেসরকারি কলেজ
যেসব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন পান, সেখানে কলেজ ভর্তি ফি তুলনামূলক কম থাকে:
কলেজের অবস্থান | উন্নয়ন ফি ও সেশন চার্জ (সর্বোচ্চ) |
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা | ৫,০০০ টাকা |
ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন | ৩,০০০ টাকা |
জেলা সদর পর্যায়ের কলেজ | ২,০০০ টাকা |
উপজেলা পর্যায়ের কলেজ | ১,৫০০ টাকা |
নন-এমপিও (Non-MPO) ও আংশিক এমপিওভুক্ত কলেজ
সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ঢাকা মেট্রোপলিটনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাদশ শ্রেণির বেসরকারি কলেজ ভর্তি ফি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে:
ঢাকা মেট্রোপলিটন (বাংলা মাধ্যম): সর্বোচ্চ ৭,৫০০ টাকা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন (ইংরেজি ভার্সন): সর্বোচ্চ ৮,৫০০ টাকা।
অন্যান্য মেট্রোপলিটন: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা (বাংলা মাধ্যম) এবং ৬,০০০ টাকা (ইংরেজি ভার্সন)।
জেলা পর্যায়: সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা (বাংলা মাধ্যম) এবং ৪,০০০ টাকা (ইংরেজি ভার্সন)।
উপজেলা পর্যায়: সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা (বাংলা মাধ্যম) এবং ৩,০০০ টাকা (ইংরেজি ভার্সন)।
একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে: আনুষঙ্গিক খরচের হিসাব
মূল xi class admission fee-এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের কিছু আনুষঙ্গিক ফি বোর্ডের নিয়মানুযায়ী প্রদান করতে হয়। কলেজ ভর্তি হতে কত টাকা লাগে তার সম্পূর্ণ ধারণা পেতে নিচের খাতগুলো জানা জরুরি:
রেড ক্রিসেন্ট ফি: ৪০ টাকা (এককালীন)।
রোভার স্কাউট / গার্লস গাইড ফি: ১৫ টাকা।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি: ৫ টাকা।
বিজ্ঞান শাখার ব্যবহারিক ফি: প্রতি বিষয় অনুযায়ী আলাদা ফি প্রযোজ্য (সাধারণত ২০০-৩০০ টাকা)।
বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফি: প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী পরিবর্তনশীল।
এইচএসসি ভর্তি ফি প্রদানের মাধ্যম ও সতর্কতা
অনলাইন আবেদন এবং কলেজ নিশ্চয়নের জন্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দিতে হয়।
অনুমোদিত মাধ্যম: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), রকেট (Rocket), উপায় (Upay) এবং টেলিটক প্রিপেইড সিম।
সতর্কতা: ফি প্রদানের সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীর সঠিক এসএসসি রোল নম্বর, পাসের সন, এবং শিক্ষা বোর্ডের নাম সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। ট্রানজেকশন আইডি (TxnID) এবং কনফার্মেশন মেসেজটি ভবিষ্যৎ প্রমাণের জন্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচের সঠিক তথ্য জেনে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে ভর্তির সময় কোনো আর্থিক বা মানসিক জটিলতায় পড়তে হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত কলেজ ভর্তি ফি কত তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দাবি করতে পারে না। অতিরিক্ত ফি সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ জানাতে পারে।
৭
৬ মন্তব্য