সহকারী শিক্ষক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ফোন কি শিক্ষার্থীর শত্রু
মোবাইল ফোন কি শিক্ষার্থীর শত্রু?
সঠিক ব্যবহারে হতে পারে শক্তিশালী শিক্ষাসঙ্গী । আজকের শিক্ষার্থীর হাতে বইয়ের পাশাপাশি আরেকটি জিনিস প্রায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে—স্মার্টফোন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মোবাইল ফোন কি শিক্ষার্থীর জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি শিক্ষার শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে?
আসলে মোবাইল নিজে ভালো বা খারাপ নয়। এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি শিক্ষার্থীর বন্ধু হবে, নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
WHO-এর গবেষণা ও প্রতিবেদনগুলোতে কিশোরদের ডিজিটাল আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানসিক সুস্থতার মধ্যে জটিল সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সাক্ষরতার গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে।বিনোদনের যন্ত্র থেকে শিক্ষার যন্ত্র । একটি স্মার্টফোন দিয়ে একজন শিক্ষার্থী—
- অনলাইন বই পড়তে পারে;
- শিক্ষামূলক ভিডিও দেখতে পারে;
- অভিধান ব্যবহার করতে পারে;
- গণিতের সমস্যা অনুশীলন করতে পারে;
- বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা দেখতে পারে;
- AI-এর সাহায্যে ধারণা পরিষ্কার করতে পারে;
- শিক্ষামূলক কুইজে অংশ নিতে পারে;
- নিজের উপস্থাপনা তৈরি করতে পারে।
অর্থাৎ সমস্যা মোবাইলে নয়; সমস্যা হলো উদ্দেশ্যহীন ব্যবহার।
শিক্ষক ও অভিভাবকের করণীয়
শুধু “মোবাইল ধরবে না”—এই নির্দেশ অনেক সময় কার্যকর হয় না। বরং বলা যেতে পারে—“মোবাইল ব্যবহার করবে, তবে শেখার জন্যও ব্যবহার করবে।” শিক্ষার্থীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া যেতে পারে। বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ ও শিক্ষামূলক ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। মোবাইল ব্যবহারের তিনটি প্রশ্ন শিক্ষার্থী যখন মোবাইল হাতে নেবে, তাকে তিনটি প্রশ্ন করতে শেখানো যেতে পারে—
১. আমি কেন এটি ব্যবহার করছি?
২. কতক্ষণ ব্যবহার করব?
৩. ব্যবহারের পর আমি কী শিখলাম?
এই তিনটি প্রশ্ন ডিজিটাল আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
উপসংহার
মোবাইল ফোনকে কেবল নিষিদ্ধ করার বিষয় হিসেবে দেখলে আমরা সমস্যার একটি অংশ দেখতে পাব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—
মোবাইল থেকে শিক্ষার্থীকে দূরে রাখা নয়; মোবাইলের সঠিক ব্যবহার শেখানো।
কারণ ভবিষ্যতের পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর। তাই প্রযুক্তি থেকে পালিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
৭
৬ মন্তব্য