প্রভাষক
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
সমুদ্রের ত্রাস
সমুদ্রের নীল জলরাশির নিচে লুকিয়ে থাকা বিচিত্র প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম রহস্যময় এবং আতঙ্কজনক প্রাণী হলো বক্স জেলিফিশ (Box Jellyfish)। এর শারীরিক গঠন অনেকটা চতুর্ভুজ বা বাক্সের মতো হওয়ায় একে ‘বক্স জেলিফিশ’ বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সামুদ্রিক প্রাণীদের একটি। প্রধানত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রে এদের বেশি দেখা যায়। বক্স জেলিফিশের শারীরিক গঠন অন্যান্য সাধারণ জেলিফিশের থেকে বেশ আলাদা। এটি দেখতে স্বচ্ছ ও হালকা নীল রঙের, যা জলের মধ্যে একে প্রায় অদৃশ্য করে রাখে। একটি পূর্ণবয়স্ক বক্স জেলিফিশের শরীর থেকে প্রায় ১৫টি পর্যন্ত শুঁড় বা কশেরুকা (tentacles) বের হতে পারে, যা দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এই শুঁড়গুলোতে হাজার হাজার বিশেষ কোষ থাকে, যাকে ‘নেমাটোসিস্ট’ (nematocyst) বলা হয়। এই কোষগুলোর মাধ্যমেই তারা তাদের তীব্র বিষ শিকার বা শত্রুর শরীরে প্রয়োগ করে। অন্যান্য সাধারণ জেলিফিশের মতো এরা শুধু স্রোতের অনুকূলে ভেসে বেড়ায় না বরং নিজেদের ইচ্ছামতো সাঁতার কাটতে পারে। এদের ২৪টি চোখ রয়েছে, যা এদের শিকার ধরতে সাহায্য করে। বক্স জেলিফিশের বিষ এতটাই মারাত্মক যে, আক্রমণের কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হতে পারে, পক্ষাঘাত ঘটতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এর বিষ সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তসঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা শুরু করার আগেই অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যান। এই বিষাক্ততার কারণে সাঁতারু ও ডুবুরিদের কাছে এটি একটি বড় আতঙ্ক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীর ভূমিকা রয়েছে। ছোট মাছ ও চিংড়িজাতীয় প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এদের বংশবৃদ্ধি ও বিচরণ এলাকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামুদ্রিক পর্যটন ও নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সৌন্দর্য ও ভীতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন হলো এই বক্স জেলিফিশ। সমুদ্রের এই খুদে অথচ ভয়ংকর বিষধর প্রাণীটি প্রকৃতির এক অনন্য ও বিস্ময়কর সৃষ্টি।
৭
৭ মন্তব্য