সহকারী শিক্ষক
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:২২ পূর্বাহ্ণ
নতুন ধরনের ন্যানো প্যাটার্ন
মাত্র ১ মিলিওয়াটের লেজার দিয়ে বছরের পর বছর টিকে থাকার মতো ন্যানো-প্যাটার্ন তৈরি, বিজ্ঞানীদের এমনই এক অভাবনীয় উদ্ভাবনের সাক্ষী হলো বিশ্ব!
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সম্পূর্ণ সাধারণ এবং কম ক্ষমতার লেজার ব্যবহার করে পলিমারের ওপর অত্যন্ত সূক্ষ্ম নকশা আঁকার দারুণ একনপ্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। এই নকশা শুধু দেখতে সুন্দর নয়, মাসের পর মাস এমনকী বছরের পর বছরও হুবহু অক্ষত থাকে। ভবিষ্যতের পানিরোধী আবরণ, অপটিক্যাল ডিভাইস, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তথ্য সংরক্ষণ এবং নকলবিরোধী প্রযুক্তিতে এই পদ্ধতি দারুণ সাফল্য আনতে পারে।
এই গবেষণার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর উপকরণের সহজলভ্যতা এবং অবিশ্বাস্য কম শক্তির ব্যবহার। পেট্রোলিয়াম পরিশোধন থেকে পাওয়া সস্তা ও প্রচুর পরিমাণে থাকা সালফার এবং ডাইসাইক্লোপেন্টাডিয়েন যৌগের মিশ্রণে এই বিশেষ সালফার-সমৃদ্ধ পলিমার তৈরি করা হয়। আর এর ওপর নকশা তুলতে প্রয়োজন হয় মাত্র ১ মিলিওয়াটের লেজার, যা আমরা দৈনন্দিন কাজে যেসব সাধারণ লেজার পয়েন্টার ব্যবহার করি তার চেয়েও কম শক্তিশালী! এই মৃদু আলো পলিমারের সংস্পর্শে আসামাত্রই এর পৃষ্ঠভাগ সামান্য ফুলে ওঠে। লেজারের আলোর সময়কাল নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গবেষকেরা সেখানে ইচ্ছেমতো বিন্দু, রেখা বা জটিল গ্রিডের দীর্ঘস্থায়ী প্যাটার্ন 'এঁকে' দিচ্ছেন, অর্থাৎ উপাদানটি কেটে না ফেলে কম আলোতেই এর পৃষ্ঠে সূক্ষ্মভাবে 'লেখা' সম্ভব হচ্ছে।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই প্যাটার্নগুলোর রূপান্তর ক্ষমতা চমকে দেওয়ার মতো। কোনও রঙিন রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াই এগুলো প্রজাপতির ডানা বা ময়ূরের পালকের মতো দৃষ্টিনন্দন 'স্ট্রাকচারাল কালার' তৈরি করতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট কোণ থেকে আলো পড়লেই কেবল রঙের আভা ফুটে ওঠে। ফলে অতি গোপন বারকোড কিংবা পণ্য নকল প্রতিরোধে এটি নিরাপত্তার দারুণ কৌশল হতে পারে। পাশাপাশি, পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর ‘PFAS’ রাসায়নিক ছাড়াই এটি দিয়ে তৈরি করা যাচ্ছে চমৎকার পানিরোধী বা ‘সুপারহাইড্রোফোবিক’ পৃষ্ঠ। ফলে পানিরোধী আবরণের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হওয়া (self-cleaning), বরফ জমা রোধ এবং মেডিক্যাল ডিভাইসে জীবাণু প্রতিরোধ করার কাজেও এটি চমৎকার ভূমিকা রাখবে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পুরো উদ্ভাবনটির সূচনা হয়েছিল হঠাৎ এক আকস্মিক পর্যবেক্ষণে। পলিমারের পৃষ্ঠ পরীক্ষা করতে গিয়ে লেজারের আলোয় এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখে গবেষকেরা থমকে যান এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে প্রোগ্রামযোগ্য লেজার সিস্টেমে রূপ দিয়ে নিখুঁত প্রযুক্তিতে বদলে ফেলেন। যদিও এটিকে বাণিজ্যিক শিল্পোৎপাদনে রূপ দিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে, তবে কম শক্তি ও সস্তা উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব ‘স্মার্ট টেকনোলজি’ প্রমাণ করে দিল যে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দুনিয়ায় ছোট ছোট পরিবর্তনও এনে দিতে পারে বিশাল সম্ভাবনা!
৭
৬ মন্তব্য