আজ থেকে ঠিক একটা বছর আগে, জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। ১৮তম NTRCA পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দিনে (১ সেপ্টেম্বর) যোগ দিয়েছিলাম ঐতিহ্যবাহী 'কিশোরগঞ্জ মডেল হাই স্কুল'-এ একজন শিক্ষক হিসেবে।
দেখতে দেখতে ৩৬৫টি দিন কেটে গেল! আজ আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম বছর পূর্তি।
পেছনের দিকে তাকালে বুকটা এক অদ্ভুত ভালোলাগা আর আবেগে ভরে ওঠে। প্রথম দিনের সেই চেনা-অচেনা ভয়, দ্বিধা—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ এই বিদ্যালয়টি আমার ভালোবাসার এক ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
এই একটি বছরে শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মহোদয় এবং সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের কাছ থেকে যে স্নেহ, মমতাপূর্ণ মেন্টরশিপ আর সহমর্মিতা পেয়েছি, তা আমাকে প্রতিদিন ঋণী করেছে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই পথচলা এত সহজ হতো না।
আর আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় শিক্ষার্থীরা... তোমরাই তো আমার এই আঙিনার আসল প্রাণ! প্রতিদিন ক্লাসরুমে তোমাদের সেই নিষ্পাপ হাসিমুখ, জানার তীব্র আকুলতা আর একরাশ ভালোবাসা আমার সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। তোমাদের শিক্ষক হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।
শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি গুরুদায়িত্ব—মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার ব্রত। এই এক বছরে কত কিছু শিখেছি, কত অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে স্মৃতির পাতায়! জানি না কতটা দিতে পেরেছি, তবে আমার সততা, চেষ্টা আর ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না।
এই বিশেষ দিনে সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চাই, যেন আগামী দিনগুলোতেও আরও নিষ্ঠা ও সততার সাথে আলো ছড়িয়ে যেতে পারি এবং আমার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারি।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা—কিশোরগঞ্জ মডেল হাই স্কুল পরিবার।
১
১ মন্তব্য