সহকারী অধ্যাপক
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০২:২৮ পূর্বাহ্ণ
মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত—সম্মানযোগ্য মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত—সম্মানযোগ্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
ইসলাম শান্তির দীপ্তি, সত্যের আলোকধারা,
ন্যায়-সাম্য-ভ্রাতৃত্বে গড়ে মানবতার সারা।
আল্লাহর বিধান মেনে চলি সত্য পথে সবাই,
মানুষের হক রক্ষা করি—এই তো মুমিনের ঠাঁই।
মুসলমান সে—যার হাত থেকে নিরাপদ মুসলিমজন,
জিহ্বার বিষে আহত নয় কোনো মানুষের মন।
কথায় তার মধুরতা, কাজে ন্যায়ের আলো,
তারই মাঝে ফুটে ওঠে ইসলামেরই ভালো।
মানুষের জীবন আল্লাহপ্রদত্ত অমূল্য এক দান,
অন্যায়ভাবে নষ্ট করা নয় কারও অধিকার জ্ঞান।
রাগের বশে, হিংসার তাপে, তুলো না কারও হাত,
একটি প্রাণের মূল্য যেন পাহাড়সমই প্রভাত।
মুসলমানের রক্ত ঝরানো ভয়ংকর এক পাপ,
প্রতিহিংসার আগুন জ্বেলে বাড়িও না তার তাপ।
দলাদলি আর স্বার্থের টানে করো না সংঘাত,
শান্তির পথে ফিরিয়ে আনো বিভেদের সব রাত।
গালি দেওয়া ফাসেকী—হাদিসে এসেছে বাণী,
যুদ্ধ করা ভয়াবহ—শোনো মুমিন, শোনো জানি।
কথার মাঝে সীমা রেখো, রাগকে রেখো দূরে,
অন্যায়েরও প্রতিবাদ হোক ন্যায়েরই সুরে।
জীবন যদি রক্ষা পায়, বাঁচে কত পরিবার,
একটি প্রাণের কান্নায় কাঁপে কত সংসার।
তাই তো মুমিন জীবন বাঁচায়, করে না ধ্বংস,
শান্তির বীজ বপন করে, দূর করে সব হিংস্রতা-সংঘর্ষ।
অন্যের মাল অন্যায়ভাবে নেওয়া নয় হালাল,
চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা—সবই ঘোর জঞ্জাল।
আত্মসাৎ আর জবরদখল, আমানতের খেয়ানত,
মুমিন হৃদয় এসব থেকে রাখে নিজেকে পবিত্র।
ধনী হোক বা দরিদ্র মানুষ, সবার হক সমান,
অন্যের সম্পদ লোভে নেওয়া নয় ইসলামের বিধান।
সুযোগ পেয়ে দুর্বল মানুষ করো না প্রতারিত,
সততার পথ আঁকড়ে ধরো—হও না কখনো বিচ্যুত।
আমানত এলে রক্ষা করো, ফিরিয়ে দাও যথাকালে,
বিশ্বাস ভেঙে লাভ কী বলো ক্ষণিক অর্থের লোভে?
ব্যবসাতে সত্য বলো, মাপে রেখো ঠিক,
মিথ্যা দিয়ে অর্থ নেওয়া চরিত্র নয় ঠিক।
হারাম পথে অর্জিত ধন সুখের আলো দেয় না,
অন্যের চোখের অশ্রু মুছে সে সম্পদ শান্তি দেয় না।
হালাল রুজি অল্প হলেও তাতেই বরকত হয়,
সততার ধন হৃদয় ভরে, অন্তর নির্মল রয়।
সম্পদের মতো মানুষের সম্মানও মূল্যবান,
ইজ্জত নষ্ট করা কোনো মুমিনের নয় কাজ।
মিথ্যা অপবাদ, গীবত, কুৎসা—সবই নিন্দনীয়,
অন্যকে হেয় করে মানুষ হওয়া কখনো নয় মাননীয়।
কাউকে নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়িও না জনমনে,
কারও গোপন কথা প্রকাশ করো না অকারণে।
একটি কথা হৃদয় ভাঙে, একটি কথা দেয় ক্ষত,
তাই তো বলো ভেবে-চিন্তে—সত্য, সুন্দর, কল্যাণমত।
কারও নামে মিথ্যা রটনা আগুনের মতো জ্বলে,
এক মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে শত মানুষের দলে।
যে আগুনে অন্যের মান পুড়ে হয় ছাই,
সেই আগুনে নিজের জীবনও শান্তি খুঁজে পায় নাই।
রাসুল (সা.) শিক্ষা দিলেন—শোনো মুমিন প্রাণ,
মুসলিমের রক্ত, সম্পদ, সম্মান—সবই সম্মান।
অন্যের হক রক্ষা করা ঈমানেরই রীতি,
এ শিক্ষা ধারণ করলে সমাজে আসে প্রীতি।
জিহ্বা দিয়ে সত্য বলো, মিথ্যার পথে যেও না,
কটু কথা, গালি দিয়ে মানুষের মন ভেঙো না।
অশ্লীলতা, অভিশাপ—দূরে রাখো মুখ,
মধুর কথায় সান্ত্বনা দাও, বাড়াও মানুষের সুখ।
রাগ যখন হৃদয় জ্বালায়, নীরব হও ক্ষণ,
আগুনমুখে কথা বললে বাড়ে শুধু ক্ষত-বেদন।
একটি কঠিন বাক্য অনেক সম্পর্ক ভাঙে,
একটি কোমল কথা আবার ভাঙা হৃদয় জাগে।
তাই তো জিহ্বা হোক সত্যের, কল্যাণের বাহন,
সুন্দর কথায় ভরে উঠুক মুমিনের জীবন।
যে কথা মানুষে মানুষে ভালোবাসা আনে,
সেই কথাই বলো তুমি প্রতিদিনের প্রাণে।
হাত দিয়ে আঘাত কোরো না, নষ্ট কোরো না মাল,
জুলুম করে কে পেয়েছে বলো স্থায়ী ভালো ফল?
কারও ঘর ভাঙিও না তুমি, কোরো না অধিকার হরণ,
মজলুমের চোখের পানি নয় খেলনারই কারণ।
হাতের শক্তি দাও অসহায় মানুষের পাশে,
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, দুঃখীর চোখের হাসে।
রোগীর সেবা, বৃদ্ধের সেবা, পথিককে সহায়,
মুমিনের হাত কল্যাণ বয়ে মানুষেরই ঠাঁই।
যে হাত নামাজে ওঠে রবের কাছে দোয়ার তরে,
সে হাত যেন অন্যায়ের কাজে কখনো না ঝরে।
যে হাত কুরআন ধরে, সে হাত রাখুক পবিত্র,
আজকের দিনে হাতের সঙ্গে আঙুলও দেয় বার্তা,
মুঠোফোনে মুহূর্তে ছড়ায় কত কথা-বার্তা।
যাচাই না করে কোনো খবর ছড়িও না আর,
মিথ্যা খবর মুহূর্তে ডেকে আনে বিপদ ভার।
একটি পোস্ট, একটি ছবি, একটি মিথ্যা বাণী,
কারও জীবন বিষিয়ে দিতে পারে—ভেবেছ কি তা জানি?
অপমানের মন্তব্য লিখে হাসিও না কারও দুঃখে,
তোমার সেই অশোভন বাক্য ক্ষত সৃষ্টি করে বুকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোক সত্যেরই স্থান,
ভালো কথায় জাগুক মানুষ, মুছে যাক অবমান।
মিথ্যা, গীবত, অপবাদ থেকে থাকো সদা দূর,
ডিজিটাল জগতেও রাখো ইসলামেরই নূর।
মুসলমান মুসলমানের ভাই—ভালোবাসার বন্ধন,
একজন কাঁদলে অন্যজনের কাঁদবে তখন মন।
বিপদে পাশে দাঁড়াও তার, দুঃখে দাও সান্ত্বনা,
অসুস্থ হলে খোঁজ নাও, দিও না অবহেলা।
ভুল করলে সুন্দর কথায় বোঝাও তাকে ভাই,
অপমানের পথ বেছে নিয়ে সংশোধন হয় না তাই।
ভালোবাসার কোমল ভাষা হৃদয় করে জয়,
ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধনে সমাজ সুন্দর হয়।
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, নয় কোনো বিভেদ,
ভালোবাসায় গড়ে উঠুক মুসলিমেরই দেশ।
পরের সুখে আনন্দিত হও, দুঃখে হও সহায়,
ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের মমতা আলোর পথ দেখায়।
মানুষ হলে মতভেদ হবে—এটাই জীবনের রীতি,
কখনো আসে ভুল বোঝাবুঝি, কখনো আসে ক্ষতি।
তাই বলে কি রাগের বশে ভাঙবে সব সম্পর্ক?
ন্যায়ের পথে সমাধানেই দূর হবে সব তর্ক।
আগে বসো শান্ত মনে, কথা বলো ধীরে,
ভুল থাকিলে ভুলটি স্বীকার করো নতশিরে।
প্রয়োজনে ন্যায়পরায়ণ মানুষের নাও পরামর্শ,
শান্তিপূর্ণ সমাধানেই মুছে যাক সব দ্বন্দ্ব-দ্বেষ।
অধিকার যার, তাকে দাও তার প্রাপ্য সম্মান,
প্রতিশোধের নামে কোরো না নতুন অন্যায় দান।
নিজের প্রিয়, নিজের শত্রু—সবার জন্য ন্যায়,
এই নীতিতেই ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে যায়।
রাগ উঠিলে নিজেকে তুমি করো সংযত,
ক্ষমাশীলের হৃদয় থাকে শান্তিতে পূর্ণতর।
প্রতিটি ভুলের জবাব দিতে হয় না প্রতিশোধে,
ক্ষমার আলো অনেক ক্ষত সারিয়ে তোলে বোধে।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়,
ন্যায়সংগত প্রতিকার চাওয়া ইসলামে নিষেধ নয়।
তবে প্রতিকারের পথেও রেখো ন্যায়ের মান,
অন্যায় করে অন্যায়ের জবাব—কখনো নয় বিধান।
যে পারে ক্রোধ থামাতে, সেই তো সত্য বীর,
রাগের আগুন নিভিয়ে রাখে তার হৃদয় স্থির।
ক্ষমা যার চরিত্রে, সে মানুষের প্রিয়জন,
সংযম যার অলংকার, উজ্জ্বল তার জীবন।
কারও প্রতি অন্যায় করে তুলব না হাত,
কারও চোখে আনব না অকারণে অশ্রুপাত।
অন্যের জান ও মালকে রাখব নিরাপদ,
মানবতার পথে চলব হয়ে ন্যায়নিষ্ঠ সদা।
অন্যের সম্পদ লোভে নিয়ে করব না অধিকার হরণ,
আমানত পেলে রাখব তা—করব না কখনো গোপন।
গীবত, অপবাদ, কুৎসা থেকে রাখব নিজেকে দূরে,
সত্য ও সুন্দর কথা বলব আলোর সুরে।
সামাজিক মাধ্যমে আগে যাচাই করব কথা,
মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেব না, বাড়াব না ব্যথা।
কারও ব্যক্তিগত বিষয় করব না প্রকাশ,
অন্যের সম্মান রক্ষা হবে আমার অঙ্গীকার বিশেষ।
রাগ এলে নীরব হব, ধৈর্য ধরব মনে,
ক্ষমার আলো জ্বালব আমি প্রতিটি ক্ষণে।
বিরোধ হলে ন্যায়ের পথে করব তার সমাধান,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ব সুন্দর মুসলিম সমাজ-প্রাণ।
যেদিন মানুষ মানুষের জান-মাল রাখবে মান,
সেদিন সমাজ পাবে ফিরে নিরাপত্তার প্রাণ।
বিশ্বাস বাড়বে মানুষের, কমবে ভয়-আতঙ্ক,
ভালোবাসার ফুল ফুটবে, দূর হবে সব দ্বন্দ্ব।
প্রতারণা আর হিংসা তখন হারাবে তার স্থান,
জুলুম-অন্যায় কমবে, বাড়বে ন্যায়ের গান।
প্রতিবেশী হবে আপন, পরও হবে আপনজন,
মানবতার সুবাস ছড়াবে ঘরে ঘরে প্রতিক্ষণ।
পরিবারে আসবে শান্তি, সমাজে আসবে সুখ,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ফুটবে আশার মুখ।
ন্যায়, দয়া, সততা নিয়ে চলবে প্রতিটি প্রাণ,
ইসলামের আদর্শে হবে জীবন মহীয়ান।
অন্যকে বদলানোর আগে নিজেকে বদলাই,
নিজের ভুলের আয়নায় আগে নিজেকেই দেখাই।
আমার হাতে কষ্ট পেল কেউ—খুঁজি তারই কারণ,
আমার কথায় ভাঙল কারও হৃদয়—চাই সংশোধন।
নিজের জিহ্বা পাহারা দিই, নিজের হাতও রাখি থাম,
তবেই আমার জীবন হবে ইসলামেরই নাম।
নিজে যদি শান্ত হই, শান্ত হবে ঘর,
ঘর যদি শান্ত হয়, শান্ত হবে শহর।
শহর থেকে সমাজজুড়ে ছড়াবে শান্তির আলো,
মানুষ তখন মানুষকে বলবে—“তুমি আমার ভালো।”
একটি হৃদয় বদলে দিলে বদলাতে পারে প্রাণ,
একটি ভালো কাজেই জেগে উঠতে পারে মহান সমাজ-প্রাণ।
হে আল্লাহ, আমাদের দাও পবিত্র হৃদয়খানি,
সত্যের পথে রাখো মোদের, করো না পথভ্রষ্ট জানি।
আমাদের হাত রাখো তুমি অন্যায় থেকে দূরে,
জিহ্বাকে রাখো হেফাজতে সত্য-মধুর সুরে।
কারও জানের ক্ষতি যেন না হয় আমাদের হাতে,
কারও সম্পদ যেন না যায় অন্যায়েরই রাতে।
কারও ইজ্জত নষ্ট করে না হোক জীবন কালো,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা দাও, চরিত্র করো ভালো।
হিংসার বদলে ভালোবাসা, ঘৃণার বদলে মায়া,
প্রতারণার বদলে দাও আমানতের ছায়া।
অন্যায়ের বদলে ন্যায়, সংঘাতের বদলে শান্তি,
তোমার বিধান মেনে চলাই হোক জীবনের কান্তি।
মুসলমানের রক্ত যেন মুসলমান রাখে মান,
মুসলমানের সম্পদ যেন হয় নিরাপদ দান।
মুসলমানের ইজ্জত যেন থাকে সবার শিরে,
ভ্রাতৃত্বের ফুল ফুটুক মানবতারই নীড়ে।
হাত ও জিহ্বা হোক তবে নিরাপত্তার দ্বার,
আমাদের চরিত্র হোক ইসলামেরই উপহার।
জান-মাল-ইজ্জত রক্ষার শিক্ষা হোক প্রাণে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক আমাদেরই গানে।
হে রব, আমাদের দাও উত্তম চরিত্রের আলো,
সত্য, ন্যায়, দয়া দিয়ে জীবন করো ভালো।
মানুষ যেন মানুষকে আর না দেয় কোনো ব্যথা,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক পৃথিবীর প্রতিটি কথা।
শান্তির পথে চলুক মানুষ, মুছে যাক সব ভয়,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ুক সমাজময় পরিচয়।
জান-মাল-ইজ্জত রক্ষার অঙ্গীকার থাক প্রাণে,
ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে গানে।
৭
৬ মন্তব্য