প্রধান শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষককে দূরবর্তী স্থানে বদলির প্রস্তাব শিক্ষার বিরুদ্ধে চক্রান্ত
প্রাথমিক শিক্ষককে দূরবর্তী স্থানে বদলির প্রস্তাব শিক্ষার বিরুদ্ধে চক্রান্ত
প্রাথমিক শিক্ষকদের ভিন্ন উপজেলায় বা দূরবর্তী স্থানে বদলির সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে সরকার তথা পুরো সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নিছক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দৈনিক শিক্ষাডটকমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি জানান, শিক্ষকদের অহেতুক দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হলে তা তাদের পেশাগত স্থায়িত্ব ও মানসিকতা দারুণভাবে প্রভাবিত করবে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বানও জানান তিনি।তিনি আরও জানিয়েছেন, শিশু শিক্ষা বা অন্য পেশা তথা সর্বস্তরের শিক্ষা কার্যক্রমের চেয়ে কঠিন। শিশু শিক্ষা হলো অনেকটা অবুঝ প্রাণীকে মানব শিশুতে রূপান্তরিত করার মতো। কতিপয় উচ্চশিক্ষিত অবুঝ নয়, বেবুঝ মানে (বেশি বুঝে), তারা শিশু শিক্ষার এ কাঠিন্য সম্পর্কে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। শিক্ষক তাদের পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্যে থেকে শিশুদের অনাবিল আনন্দময় মানসিকতা নিয়ে শিক্ষাদান করবে। এ উপলব্ধি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সবার কাম্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ নারী শিক্ষক। শুধু শিক্ষক নয়, যে কোনো কর্মচারীর পক্ষে দূরবর্তী স্থানে পরিবার-পরিজন ছাড়া সুস্থ, স্বাভাবিক, মানসিকতায় স্বাচ্ছন্দ্যে ও মনোযোগ নিয়ে কাজ করা দুরূহ। অন্য কর্মচারীদের মধ্যে তেমন সমস্যা না হলেও বিশেষ করে সময়সূচি মোতাবেক শিক্ষকদের কর্তব্য পালন করা কষ্টকর।
বর্তমান সময়ে কম বেতনে দ্রব্যমূল্যের বাজারে বাসা ভাড়া করে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকা কষ্টকর। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দূরবর্তী স্থান থেকে কর্তব্য পালন করলে বিঘ্ন হবে। এতে শিশু শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকার সুবিধাজনক স্থান থেকে শিক্ষকতা করার জন্য এমপিভুক্ত শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম চালু করেছেন। সেখানে জনৈক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বীয় স্বামী এলাকায় চাকরিরত থেকে শিক্ষকদের উপজেলার বাহিরে বদলি করার প্রস্তাব করেছেন। এ জঘন্যতম ঘৃণ্য চক্রান্ত বাস্তবায়ন হলে পুরো শিক্ষকসমাজে সরকার সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা বিপর্যস্ত হবে।জনৈক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাঝে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে ব্যাপক ঘাটতি বিদ্যমান। এজন্য তার অজ্ঞতাই দায়ী। মূল দায়ী নীতিনির্ধারণী মহল তথা সরকার। যুগ যুগ হতে শিক্ষকতায় অনভিজ্ঞ জনবলকে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকতা পেশা থেকে যদি অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায় আসতো, তবে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় আসতো না।
সংশ্লিষ্টদের শিশু শিক্ষা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকার জন্য ছুটির দিনে ট্রেনিং বা ছুটি কমানোর কথা বলে বেড়াচ্ছেন। শিশু শিক্ষা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য প্রাথমিকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার জন্য শিক্ষক হিসেবে ৬ মাস বিদ্যালয়ে কাজ করা অতীব জরুরি। তাহলে প্রাথমিকে অন্যান্য পর্যায়ের শিক্ষকদের চেয়ে অধিক ছুটি গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লম্বা ছুটি, বিশেষ করে রমজান মাসে। শতবর্ষ থেকে তৎকালীন অভিজ্ঞজনরা পুরো রমজান মাস ছুটি রেখেছেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের মস্তিষ্কের ক্ষয় পূরণ, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য এ ছুটি অধিকতর গুরুত্ব বহন করে থাকেন। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পবিত্র রমজান মাসের রোজা রেখে পবিত্র কোরআন পড়াসহ ধর্মীয় ইবাদত করতে পারেন। আজকের বিজ্ঞজনদের মাঝে নেই রোজা রেখে ক্লাস করার কষ্টেরও ধর্মীয় অনুভূতি।
১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক শিক্ষকদের থানার বাহিরে বদলি করার আদেশ জারি করা হয়েছিল। সে আদেশ বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে বাতিল করেছে।
কাউকে মানসিক, আর্থিক, শারীরিক যন্ত্রণা দিয়ে যথাযথ কাজ আদায় করা যায় না। বিশেষ করে শিক্ষকতা পেশায় চকিদার, দফাদার, দারোগা, পুলিশ বা কোনো পাহারাদার দিয়ে কাজ আদায় করা যায় না। একমাত্র সর্বস্তরের জবাবদিহি ও অভিজ্ঞ জনবলের মাধ্যমে শিশু শিক্ষার উন্নয়ন তরান্বিত করা সম্ভব। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে অভিজ্ঞ জনবলের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।
৭
৬ মন্তব্য