প্রধান শিক্ষক
১১ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ আজ
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ আজ
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মাথায় রেখেই এবারের বাজেট সাজানো হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বড় বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি যেখানে তিন বছর ধরে ৪ শতাংশের আশপাশে। বিশ্বব্যাংকও আগামী অর্থবছরে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় নির্বাহে আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে না। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও বড় বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে সংশয়ের কথা জানা গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাব থাকতে পারে। তবে মূল বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ থাকছে না। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বাজেটে বাড়তি অর্থের সংস্থান দেখানো হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ পাবেন পরের অর্থবছরে। তার পরের অর্থবছরে পাবেন তারা ভাতা, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে বেতন-ভাতা সবই পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের জোগান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
যেমন হচ্ছে বাজেটের আকার
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়িয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করতে আগামী অর্থবছরে মোট ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাকি ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে এনবিআর-বহির্ভূত বিভিন্ন উৎস থেকে। রাজস্ব আয়ের বাইরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অন্যদিকে, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এর মধ্যে এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকাই ‘থোক বরাদ্দ’ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, যা বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে নজিরবিহীন। তুলনামূলকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে থোক বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। ফলে এডিপির বাস্তবায়ন, প্রকল্প নির্বাচন এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২
৪ মন্তব্য