Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ মে, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষণার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তম

১৭ই মে ১৯৮১!

দীর্ঘ ছয় বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলেন।


যিনি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনলেন তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবাদ পুরুষ,


বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা,

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পাঠক জিয়াউর রহমান বীর উত্তম!


১৯৭৫ পরবর্তী জাতির এক মহাক্রান্তিকালে তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন।


বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা এই রাষ্ট্রপতি ১৯৮১ সালের ২৯ শে মে চট্টগ্রাম বিএনপি'র তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর জন্য চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গিয়ে ওঠেন।


৩০শে মে ১৯৮১! 

ভোর রাতের দিকে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। 


এই ঘটনার মাত্র ১৩ দিন আগে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেন!গোটা জাতি শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল!


২রা জুন ১৯৮১! 

মানিক মিয়া এভিনিউতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের স্মরনাতীত লোক সমাগম হয় একটি জানাযার পড়ার জন্য। 


তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।গোটা বাংলাদেশে জনসংখ্যা তখন মাত্র 

৯ কোটি।


৯ কোটি জনসংখ্যার মধ্য থেকে ১০ লক্ষ লোক শরিক হলো তাদের প্রিয় নেতার জানাযায়।


সারা দেশ থেকে শোকার্ত জনতার ঢল নেমেছিল!এক জীবনে মানুষ এতটা জনপ্রিয়তা পায় কী যাদু বলে!


সেদিনের সেই ঐতিহাসিক জানাযায়

এই অধমও অংশ গ্রহণ করেছিল।আমার তখন এসএসসির রেজাল্ট হবে হবে শুনছি!


লোকজন জানাযা শেষে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল!আমার জীবদ্দশায় এমন আরেকটি জানাযা দেখেছি সেটি শহীদ ওসমান হাদীর জানাযা। 


সেই জানাযায় অবশ্য আমার শরিক হওয়া হয়ে ওঠেনি।


শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি অবিচার অনেকেই করেছেন!শেখ মুজিবুর রহমান তাকে সেনাপ্রধান না বানিয়ে তার একদিনের জুনিয়র কে.এম শফিউল্লাহ কে সেনাপ্রধান বানান।


শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় এসে সংসদ ভবন সংলগ্ন ক্রিসেন্ট লীগের উপর জিয়ার মাজারে যাওয়ার একমাত্র বেইলী ব্রীজটি অপসারণ করেন। 


জিয়া উদ্যানের নাম পাল্টে চন্দ্রিমা উদ্যান রাখেন।জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এর নাম পাল্টানোর চেষ্টা করেন।


সেই টার্মে নাম পাল্টাতে ব্যর্থ হন!পরে ২০১০ সালে শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নামে নামকরণ করেন।


স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য জিয়াউর রহমানের অবদান হযরত শাহজালাল

(রঃ)মত আল্লাহর অলির নামের চিপায় ফেলে দিয়ে বিএনপিকে মাইনকা চিপায় ফেলেন! 


অতঃপর তিনি একটানা ১৬ বছর ক্ষমতায় রইলেন।একটি দিনের জন্যও জিয়াউর রহমানের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন না। 


সংসদে মুখে যা আসে তাই বলা হত জিয়ার নামে।বলা হতো তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।তিনি পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার(ISI)গুপ্তচর ছিলেন-ব্লা ব্লা ব্লা!


তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ মেজর জলিলকে মুক্তিযোদ্ধা হলেও সন্দেহের চোখে দেখে।


কারন যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ইন্ডিয়ান আর্মির লুটপাটে তিনি বাধা দিয়েছিলেন! 


মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক

এম.এ.জি ওসমানীকে এক রহস্যজনক কারনে স্মরণেও আনে না।


হাসিনার শাসনামলের শেষ দিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল।কী সাংঘাতিক!


সংসদে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানের মত মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের নামে কুৎসা রটনা,জঘন্য মিথ্যাচার চলতেই থাকে।


একপর্যায়ে জিয়ার কবর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও শোনা যায়। 


বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের চন্দ্রিমা উদ্যানে কবর দেওয়ার জন্য একবার সংসদে কে যেন প্রস্তাব তুলল….


সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বললেন-সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার জিয়াউর রহমানের মত একজন’কালপ্রিটের’ 


কবরের পাশে তাদের স্বজনকে শোয়াতে রাজি হবে কিনা ভেবে দেখার বিষয় আছে।পুরো জাতি সংসদ টেলিভিশনে লাইভ দেখল এই বক্তব্য।


ওই কবরে জিয়াউর রহমানের লাশ নাই-বলেও তিনি মন্তব্য করেন!


কী ঈর্ষা ছিল জিয়াউর রহমানের প্রতি;তার মন জানে আর তিনিই জানেন!

 

যে যত ঈর্ষাই করুক ইতিহাসের পাতায় মহানায়কদের নাম লেখা রয় সোনার অক্ষরে!নিঃসন্দেহ জিয়া আমাদের সেই মহানায়কদেরই একজন!


জিয়াউর রহমানের একটি ডাক নাম ছিল কমল অর্থাৎ পদ্ম এটি অনেকেই হয়তো জানে না! 


আজ শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী।কী সুনসান নীরবতা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে তার শাহাদাত বার্ষিকী! 


আজ নাই কোন মাইকের বিকট আওয়াজ,সারাদিন ব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত কিংবা প্রয়াত নেতার ভাষণ।


আরেকটি জন্ম-মৃত্যু দিবসও এই দেশে পালিত হয়।দু’দিন আগে থেকে মাইকের তীব্র আওয়াজ,জ্বালাময়ী ভাষণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়;কিন্তু কিছু বলতে পারে না!


বিএনপি’র লোকেরা যদি উচ্চস্বরে মাইক বাজাতো,নেতার ভাষণ শোনাত-মানুষ হয়ত ভয়ে কিছু বলত না কিন্তু মনে মনে ঠিকই বিরক্ত হত!


জনগণ কিসে বিরক্ত হয় কিসে আসক্ত হয় পলিটিশিয়ান্সদের এটা বুঝতে হবে!


রাব্বুল আলামিন দেশপ্রেমিক এই রাষ্ট্রনায়ককে শহীদী মর্যাদা দান করুন।জান্নাতের মেহমান হিসাবে কবুল ও মঞ্জুর করুন!আমীন!সুম্মা আমীন!


#সাইফুল আলম 


#শাহাদাত_বার্ষিকী 

#শহীদ_জিয়া

মন্তব্য করুন

ব্লগ