প্রধান শিক্ষক
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষা খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা
শিক্ষা খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষা খাত আধুনিকায়নে বেশকিছু বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে দক্ষ হয়ে উঠুক। এ উদ্যোগকে আমরা শুধু একটি ডিভাইস বিতরণ কর্মসূচি হিসেবে দেখছি না; এটি শিক্ষাদান পদ্ধতির একটি বড় সংস্কার। শিক্ষকরা যেন ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট, লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক ও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধে মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে কেন্দ্রভিত্তিক মনিটরিং ও ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। পাঠ্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মমুখী ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে ২০,৮৩৫.৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫২.৯২% বেশি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে গৃহীত কার্যক্রম
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ৩৮টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব শিক্ষা বিভাগে প্রেরণ করেছে। 'লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)' প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৯২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩ হাজার ৪১২টি মাদরাসাসহ মোট ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
১৫টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে এবং ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সারা দেশ থেকে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। .
প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, অর্থাৎ পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন করে আর ভর্তি ফি না নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সর্বস্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয় হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে 'এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)' ৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি খেলায় তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
আবারো শুরু হয়েছে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা 'নতুন কুঁড়ি', প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তিলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এনটিআরসির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অগ্রগতি
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ (টিএমইডি) সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের ২৯টি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্মার্ট, আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভাগটি নীতি প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিসমূহ হলো:
বরাদ্দ বৃদ্ধি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৮,৪৫৬.৯৯ কোটি টাকার বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেট ১২,৩৯৬ কোটি টাকা।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে আরো রয়েছে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব', মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার, শিক্ষা খাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসন, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচি, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা, ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা ইত্যাদি।
০
০ মন্তব্য